• মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১০১

মাথা ব্যথা সঙ্গে বমি, ব্রেন টিউমারের লক্ষণ নয় তো?

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২০  

মাথা ব্যথার সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। কারো কারো মাথা ব্যথার সমস্যাটি সহ্য করা কঠিন হয়ে যায়। দেখা দেয়, মাথা ব্যথার সঙ্গে বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা সব কিছু ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে থাকে।

যদি কারো ক্ষেত্রে এমন হয় তবে সতর্ক হতে হবে! অনেক সময় এ সব মস্তিষ্কের টিউমারের উপসর্গ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, মোট দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ প্রতি বছর ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে আবার ২০ শতাংশের বয়স ১৪ বছরের কম। 

আসলে ‘ব্রেন টিউমার’ শব্দটি শুনলেই সবার মনে ভয় বাসা বাঁধে। অথচ উপযুক্ত চিকিৎসার সাহায্য নিয়ে ব্রেন টিউমার থেকে মুক্তি পাওয়া খুব কঠিন নয়। তবে টিউমার যদি অনেকদিনের হয় আর তাতে ক্যান্সারযুক্ত হয়, তবে চিন্তা থেকেই যায়। এজন্য ঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করে সার্জারির মাধ্যমে মস্তিষ্কের টিউমার বাদ দিয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেয়া যায় বলে জানান ভারতীয় নিউরোসার্জন জি কে প্রুস্টি। 

তার মতে, বিশ্ব জুড়ে প্রত্যেক দিন ৫০০ জন মানুষের ব্রেন টিউমার নির্ণয় হয়। রোগের শুরুতে সার্জারি করলে রোগীকে সহজেই সুস্থ করে তোলা যায়। তবে ব্রেন টিউমারটি যদি ক্যান্সারযুক্ত হয় সেক্ষেত্রে চিকিৎসা কঠিন হয়ে ওঠে।

যেসব লক্ষণ দেখলে সাবধান হতে হবে-

> এই অসুখের অন্যতম লক্ষণ মাথার যন্ত্রণা। তবে টিউমার হলে মাথা ব্যথার ধরণটা অন্য রকম হয়। এক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথার যন্ত্রণা করে। 

> জ্বর বা অন্য কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ কাঁপুনি শুরু হতে পারে। হজমের সমস্যা না থাকলেও হঠাৎ বমি পায়।

> খুব সাধারণ ও সাম্প্রতিক ঘটনার কথা ভুলে যাওয়া। 

> সারা দিন ঘুম ঘুম ভাব থাকে, ঘুম পায়। কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করে না। 

> মস্তিষ্কের কোন অংশে টিউমার হয়েছে তার উপরেও কিছু কিছু লক্ষণ নির্ভর করে। যেমন সেরিব্রামের টেম্পোরাল লোবে টিউমার হলে দেখতে অসুবিধে হয়। 

> হাত পা নাড়াচাড়া করতে সমস্যা। সেই সঙ্গে হাঁটা চলায় ভারসাম্য রক্ষা করার অসুবিধা হতে পারে। 

> হাত দিয়ে কোনো জিনিস শক্ত করে ধরতে সমস্যা হয়। 

> চেনা মানুষকেও অচেনা মনে হতে পারে।

> ঢোক গিলতে ও খাবার খেতে অসুবিধা হতে পারে। 

> গন্ধ বোধ চলে যায়। 

> অনেকের ক্ষেত্রে টিউমার খুব বড় না হওয়া পর্যন্ত সে রকম কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না। 

এই অসুখের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। বংশে থাকলে এই রোগের ঝুঁকি থাকে। যারা রেডিয়েশনের মধ্যে বেশি থাকে, তাদের ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। 

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মোবাইল টাওয়ার ও ইয়ার ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বাড়ে। কিছু কিছু রাসায়ানিকের প্রভাবেও ক্যান্সারযুক্ত ব্রেন টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিউমারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। সম্প্রতি ‘আমেরিকান ব্রেন টিউমার অ্যাসোশিয়েশন’ এক সমীক্ষায় জানিয়েছেন, যাদের চিকেন পক্স হয়েছে তাদের ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি অনেক কম।  

সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চা করে ব্রেন টিউমার ঠেকানো যায়। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কোনো সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর