শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৩০

‘চোখের চিকিৎসায় দেশে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে’

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০১৯  

চক্ষু চিকিৎসায় বাংলাদেশের সফলতা অনেক। এতে দেশের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো চোখের ছানি অপারেশন।  এ অগ্রগতির ফলে চক্ষু চিকিৎসায় উন্নত দেশগুলোর পাশে বাংলাদেশ। চক্ষু চিকিৎসার অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও সফলতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষুবিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আনিসুর রহমান আনজুমের সাক্ষাৎকারে ।

কী কী কারণে চোখের সমস্যা বেশি হয়? 

চোখের সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় চশমা জনিত কারণে ক্ষীণ দৃষ্টি; বিশেষ করে বাচ্ছাদের। এছাড়া ছানি, গ্লুকোমা আগেও ছিল এখনো আছে। কিন্তু এখন ভিটামিন এ জনিত রাতকানা রোগ আর তেমন নেই। কারণ হলো এখন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। কিন্তু এখন বেশি দেখা যায় ডায়াবেটিস জনিত চোখের সমস্যা।

বর্তমানে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসায় কতটুকু সফলতার দাবিদার?
চক্ষু চিকিৎসায় বাংলাদেশের সফলতা যদি বলি তাহলে বলবো ছানি চিকিৎসায় আমরা উন্নত বিশ্বের যে কোনো দেশের সম পর্যায় আছি। আমেরিকা বা ইউরোপ যে প্রযুক্তি আজ ব্যবহার করছে আমরা সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। অন্যান্য যেমন চোখের কসমেটিক সার্জারি, টেরা চোখ সোজা করা, চোখের পাতা নীচে পড়ে যাওয়া ইত্যাদি আমাদের দেশে এখন ভালো সার্জারি হচ্ছে।

এখন থেকে ১০ বছর আগেও রেটিনার কোনো আলাদা বিভাগ ছিল না, বর্তমান আমাদের দেশে রেটিনা সেবার যথেষ্ট দক্ষ সার্জন আছেন। চোখের চিকিৎসা নিতে অনেক রোগীই প্রতিবছর ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। আপনি কি মনে করেন আমাদের দেশের চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের আস্থা কম?

প্রতিবছর আমাদের দেশের রোগী ভারতে যায় এটা যেমন সত্যি তেমনি ভারতের অনেক রোগী ইউরোপ বা আমেরিকা যাচ্ছে এটাও বাস্তব। সত্যিকার অর্থে এটা না যে, আমাদের দেশে চিকিৎসা নেই যা ভারতে আছে। আমাদের দেশে এখন কর্ণিয়া আর চোখের বিশেষ কোনো সার্জারি ব্যতীত বাইরে খুব একটা যাওয়ার দরকার নেই। কর্ণিয়া সার্জারির জন্য মৃত মানুষের কর্ণিয়া দরকার হয়। কিন্তু আমাদের দেশে কেউ সাধারণত এটি দান করেন না। তাই এই রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের ভারতে পাঠানো হয়। কারণ সেখানে কর্ণিয়া সহজলভ্য।

দেশের চিকিৎসায় মানুষের আস্থা নেই সেটি আমি বলবো না। আমাদের দেশে একজন ডাক্তারকে সারাদিন যত রোগী দেখতে হয় সেটা বিশ্বের আর কোথাও নেই। একজন রোগীর সঙ্গে আপনি যদি ভালো মতো কথা বলার সময় না পান অথবা সময় পেয়েও না দেন তবে তিনি কখনো আপনার উপর আস্থা রাখবে না। কাজেই আমি বলবো, আপনি যত বড় ডাক্তারই হন না কেন রোগীকে ঠিকমত বুঝিয়ে না বলেন তখন কোনো রোগীই আপনার উপরে আস্থা রাখবে না।

চোখের সমস্যার জন্য প্রযুক্তি কতটুকু দায়ী?
প্রযুক্তির ভালো এবং খারাপ দুইটা দিকই আছে। এখন বাচ্চাদের চশমা ব্যবহার অনেক বেশি দেখা যায়। কারণ যখন তার দৃষ্টি গঠন হওয়ার কথা তখন তাকে দূরে তাকিয়ে কোন কাজ করতে দেখা যায় না। সে সারাদিন ঘরে আবদ্ধ হয়ে পড়াশোনা করছে নয়তো টিভি দেখছে অথবা কম্পিউটারে গেমস খেলছে। অর্থাৎ তার দৃষ্টি ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া মোবাইলের ব্যবহার বেশি করলে চোখ শুষ্ক হওয়ার সম্ভবনা অনেক।

 

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা