বুধবার   ২২ মে ২০২৪ || ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রকাশিত: ০৬:৫৯, ১০ আগস্ট ২০২৩

ধনী-গরিব সৃষ্টির কারণ ও পূর্ণাঙ্গ ঈমানদারের পরিচয়

ধনী-গরিব সৃষ্টির কারণ ও পূর্ণাঙ্গ ঈমানদারের পরিচয়

শান্তির ধর্ম ইসলাম মানুষকে সর্বোচ্চ মানবিকতা, সহমর্মিতা ও মহানুভবতার শিক্ষা দিয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতিকে ধনী ও গরিব দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। যেমন- কিছু মানুষকে বিশেষ দয়ায় বহু নিয়ামত দিয়েছেন আর কিছু মানুষকে বিশেষ হিকমতের কারণে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছেন, যারা স্বভাবতই ধনীর সম্পদের মুখাপেক্ষী।

 

আল্লাহপাক মানুষকে পরীক্ষা করার জন্যই ধনী-গরিবের এই ব্যবধান সৃষ্টি করেছেন। কারণ ধনী তার ধন পেয়ে মহান আল্লাহকে ভুলে যায় কি না? আর গরিব তার অভাবের কারণে নাফরমানিতে লিপ্ত হয় কি না? এ পরীক্ষা করাই হলো ধনী-গরিবের ব্যবধানের মূল কারণ।

 

এটাও সত্য যে মহান আল্লাহ পৃথিবীর প্রতিটি ভূখণ্ডে, সেখানে বসবাসকারী জনসংখ্যার প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট সম্পদ দান করেছেন।

 

এ সম্পদের সুষম বণ্টন হলে পৃথিবীর কোথাও ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে কোনো মানুষ, এমনকি কোনো প্রাণীর কষ্ট পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো, বহু মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণায়, পোশাকের অভাবে, চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে।
বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে সমাজের এক শ্রেণির মানুষ বিপুল ঐশ্বর্যের মালিক, আবার কেউ কপর্দকহীন। প্রকৃতির পালাবদলের সময় শীত ও গ্রীষ্মের প্রকোপে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে, মানবসৃষ্ট সহিংসতায় সমাজের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিপন্ন হয়ে পড়ে।

 

তখন নিদারুণ যন্ত্রণা নেমে আসে তাদের জীবনে। যন্ত্রণাকাতর এই সব বিপন্ন মানুষকে মহান আল্লাহ খুবই ভালোবাসেন। আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ, আমাকে মিসকিন হিসেবে বাঁচিয়ে রাখুন এবং মিসকিন হিসেবে মৃত্যু দান করুন আর মিসকিনদের দলে আমার হাশর করুন’। এ দোয়া শুনে আয়েশা (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, কেন? তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই গরিব-মিসকিনরা ধনীদের ৪০ বছর আগে জান্নাতে যাবে। হে আয়েশা, তুমি কোনো দরিদ্র মানুষকে তাড়িয়ে দিয়ো না।

 

একটি খেজুর হলেও তাদের হাতে দিয়ো। হে আয়েশা! গরিবদের ভালোবেসো, তাদের প্রতিপালন কোরো। কেননা মহান আল্লাহ কেয়ামতের দিন এর বিনিময়ে তোমাকে নৈকট্য দান করবেন’। (মিশকাত শরিফ)

 

বিপন্ন মানুষের সহায়তার মাধ্যমে ঈমান পরিপূর্ণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা তাদের খাবারের প্রতি ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও সে খাবার অসহায়, এতিম এবং বন্দিদের খাওয়ায়।’ (সূরা: দাহার, আয়াত: ৮)

 

মানবিকতা ও ঈমানের মধ্যে বন্ধুত্ব আছে, বৈরিতা নেই। এক আয়াতে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি জানো, বন্ধুর গিরিপথ কী? এটা হচ্ছে দাসমুক্তি অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে আহার দেওয়া এতিম আত্মীয়কে বা দারিদ্র্য-নিষ্পেষিত নিঃস্বকে। এর পরই সে হবে ঈমানদারের অন্তর্ভুক্ত...’। (সূরা: বালাদ, আয়াত: ১২-১৭) এই মর্মে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার নয়, যে নিজে পেট পুরে খায় আর তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে’। (বুখারি)

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ