• বুধবার   ২৯ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৪ ১৪২৯

  • || ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

শেষ ক্লাস সেরে আর ফেরা হলো না তার

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৮  

পুরান ঢাকার টিকাটুলীতে শহীদ কাজী আরেফ আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার (১৭) স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্তের শিকার হতো। গতকাল মঙ্গলবার ছিল মেয়েটির স্কুলের শেষ ক্লাস। বিকেলে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে সোহেল আহমেদ নামে এক বখাটে তার পথরোধ করে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এর প্রতিবাদ করে মেয়েটি। ঘটনাস্থলেই বঁটি দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে বখাটে সোহেল। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়।

রাজধানীর ওয়ারী থানা এলাকার স্বামীবাগ রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে স্কুলছাত্রী শারমিনকে কুপিয়ে হত্যার এ ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালে শহীদ কাজী আরেফ আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তার। তার বাসা টিকাটুলীর কেএম দাস লেনে। সোহেল তার খালাতো ভাই বলে জানা গেছে। সে স্বামীবাগে কাগজের ঠোঙা তৈরির কাজ করে। স্বজনরা বলছেন, স্কুলে যাতায়াতের পথে সোহেল প্রতিনিয়ত শারমিনকে উত্ত্যক্ত করত। মঙ্গলবার শারমিনের শেষ ক্লাস হওয়ায় স্কুল থেকে ফেরার সময় তাকে আটকে উল্টাপাল্টা কথা বলতে থাকে সোহেল। এর প্রতিবাদ করায় শারমিনকে সেখানেই কুপিয়ে হত্যা করে সোহেল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত ছাত্রীর সহপাঠীদের উদ্ৃব্দত করে ওয়ারী থানা পুলিশ জানায়, শারমিন ক্লাস পার্টি শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিল। তার হাতে একটি খাবারের প্যাকেট ছিল। ওই সময় সোহেল পথ আটকে তার হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। তার হাতে একটি বঁটি ছিল। শারমিন চিৎকার দিতেই সোহেল বঁটি দিয়ে তার ঘাড়ে কোপ দেয়। এতে রেললাইনের পাশে লুটিয়ে পড়ে সে। স্থানীয় লোকজন সোহেলকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। শারমিনের লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শারমিনের মা সালমা খাতুন বলেন, তার বোনের ছেলে সোহেল বাসায় এসেও মেয়েকে বিরক্ত করত। জোর করে তাকে বিয়ে করতে চাইত। এ জন্য তাকে কয়েক মাস আগে বাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছে। এর পরই সোহেল পুরো পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। সে শারমিনকে জোর করে তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল।

শারমিনের মামা স্বপন বলেন, দুই দিন আগেও সোহেল শারমিনকে ফোন দিয়ে হুমকি দিয়েছিল। তার প্রেমে সাড়া না দিলে, বিয়েতে রাজি না হলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে শাসিয়েছিল সোহেল।

ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেয়েটির মা গৃহকর্মীর কাজ করেন। কয়েক বছর আগে তার বাবা আবদুস সাত্তার মারা যান। শারমিনের ছোট একটি ভাই রয়েছে। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহে। ওই ঘটনায় তার মা বখাটে সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গণপিটুনিতে সোহেল গুরুতর আহত হয়েছে। সে দাবি করেছে, মেয়েটিকে সে বিয়ে করতে চেয়েছিল। রাজি না হওয়ায় তার মাথা ঠিক ছিল না।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা