• মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৫ ১৪২৯

  • || ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

প্রতিদিন ৬০০ কোটি টাকার বেশি পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২২  

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদের ব্যাংকে বিনিয়োগ অনেক বেশি লাভজনক। লং টার্মে শেয়ার ধরে রাখলে দেখা যায় ১৫ শতাংশের বেশি মুনাফা হচ্ছে, যা সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরের দ্বিগুণ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেন না বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী।’

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তির কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকলেও এ ক্ষেত্রে আগ্রহ খুব একটা বেশি নেই- এটা স্পষ্ট। তবে যারা লভ্যাংশের ইতিহাস দেখে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেন, তাদের বেশির ভাগই বেশ ভালো মুনাফা করতে পেরেছেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্তত ১১টি ব্যাংকের গত ছয় বছরের লভ্যাংশ হিসাব করে দেখা গেছে, যারা ২০১৬ সাল থেকে শেয়ার ধরে রেখেছেন, তারা বেশ মুনাফায় আছেন।

বছর বছর বোনাস শেয়ার যোগ হতে থাকা আর তিন বছর ধরে নগদ লভ্যাংশে ব্যাংকগুলো জোর দেয়ায় এখন ব্যাংকগুলো যে হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে থাকে, বিনিয়োগের তুলনায় প্রকৃত লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড ইল্ড আরও বেশি হচ্ছে।

ব্যাংকে আমানতের সুদহার ক্রমেই কমতে থাকা আর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়ে আনা হয়েছে। আবার মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি হলেও এখন সঞ্চয়পত্রে ঢালাও বিনিয়োগের সুযোগ নেই। এদিক থেকেও ব্যাংকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি লাভবান হচ্ছেন।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ সব সময়ই লাভজনক। বেশ কিছু ব্যাংক রয়েছে, যেগুলোয় বিনিয়োগ অত্যন্ত লাভজনক। মার্কেন্টাইল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক- এ রকম আরও অনেক ব্যাংক রয়েছে, যেগুলোর ইল্ড রেটই ১২ থেকে ১৪ শতাংশের ওপরে। তাহলে এই ধরনের শেয়ারগুলো যারা ধরে রাখবেন, তারা অবশ্যই লাভবান হবেন।’

ভালো মুনাফার সুযোগ থাকার পরও ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা লেখাপড়া করতে চায় না, জানতে চায় না। কোম্পানি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, জানতেও চায় না। অথচ শেয়ার কিনে বসে থাকে।

‘অথচ ভালো শেয়ারে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করতে চায় না। বাংলাদেশে এক-দুই বছরের বেশি সময় ধরে শেয়ার ধরে রাখার মতো বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৫ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশই কেনাবেচার দল। অথচ যারা ২০১৬ সাল থেকে শেয়ার ধরে রেখেছে তারা লাভ করেছে। আবার যারা করেনি তাদের কিন্তু অভিযোগের শেষ নেই। এসব কারণেই মার্কেট আনস্ট্যাবল থাকে।’

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, দীর্ঘ মেয়াদের ব্যাংকে বিনিয়োগ অনেক বেশি লাভজনক। লং টার্মে শেয়ার ধরে রাখলে দেখা যায় ১৫ শতাংশের বেশি মুনাফা হচ্ছে, যা সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরের দ্বিগুণ। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করেন না বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী।’

অল্প সময়ে মুনাফা লাভের প্রবণতা ও দ্বৈত করহার নীতিই দীর্ঘ মেয়াদের বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে বলে মনে করেন ছায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা দ্রুত সময়ে ক্যাপিটাল গেইন করতে চায়। এ জন্য তারা লম্বা সময় শেয়ার ধরে রেখে ডিভিডেন্ড গ্রহণের ব্যাপারে অতটা আগ্রহী নয়। একটা শেয়ার ১০ টাকা দিয়ে কিনে ১১ টাকায় বিক্রি করলেই তো ১০ শতাংশ মুনাফা হয়ে গেল। এভাবে দুটি শেয়ারে হলেই ২০ শতাংশ মুনাফা হয়ে যায়। তাহলে কেন এক বছর অপেক্ষা করে ডিভিডেন্ডের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিয়ে ওই ডিভিডেন্ড নেবে?’

ব্রোকারেজ হাউস এক্সপো ট্রেডার্সের সিইও শহিদুল হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকে বিনিয়োগে সবাই আগ্রহী হন না। প্রথমত, অনেকেই চান দ্রুত ক্যাপিটাল গেইন করতে। দ্বিতীয়ত, অনেকেই ইসলামিক মূল্যবোধ থেকে ব্যাংকের শেয়ারের বিনিয়োগ করতে চান না। ইসলাম ধর্মে সুদের কারবার হারাম বলা হয়েছে। যার কারণে অনেক বিনিয়োগকারীই মনে করেন, ব্যাংক মানেই সুদের কারবার। এ জন্য তারা ব্যাংকের শেয়ার কেনেন না বা এ থেকে মুনাফা গ্রহণে আগ্রহী হন না।’

প্রিমিয়ার ব্যাংক

এই ব্যাংকটির বিনিয়োগকারীরা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন। ২০১৬ সালে যখন ব্যাংকটির শেয়ারদর ৯ টাকা ৯০ পয়সার মতো ছিল, তখন বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসেবে পেয়েছেন শেয়ারপ্রতি ১ টাকা আর ২ শতাংশ বোনাস শেয়ার।

পরের দুই বছর ১৫ শতাংশ ও সাড়ে ১৫ শতাংশ করে বোনাস শেয়ার পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০১৯ সালে শেয়ারপ্রতি ৫০ পয়সা নগদের পাশাপাশি আরও ৫ শতাংশ বোনাস, ২০২০ সালে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদের পাশাপাশি সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস ও এবার আরও সাড়ে ১২ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার পেয়েছেন।

এই হিসাবে কেউ ২০১৭ সালের শুরুতে এক হাজার শেয়ার কিনে থাকলে তার শেয়ারসংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮২টি।
তখন এই শেয়ার কিনতে তার যদি ৯ হাজার ৯০০ বা ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমান ১৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে এই পরিমাণ শেয়ারের দাম হয় ২২ হাজার ৭০৭ টাকা। অর্থাৎ মুনাফা ১২ হাজার ৮০৭ টাকা।

আর এই ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে এই ছয় বছরে নগদ লভ্যাংশ এসেছে ৫ হাজার ৩৬৬ টাকা। ১০ শতাংশ কর টাকার পর হাতে এসেছে ৪ হাজার ৮২৯ টাকা। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ছয় বছরে মুনাফা সব মিলিয়ে ১৭ হাজার ৬৩৬ টাকা।

ট্রাস্ট ব্যাংক

এ ব্যাংকটি ২০১৬ সালে যখন নগদ ১৫ শতাংশ ও বোনাস ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, সে সময় ডিভিডেন্ড ইল্ড ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। এই হিসাবে শেয়ারদর সে সময় ছিল ২৩ টাকা ৮০ পয়সা।

এক হাজার শেয়ারে ২৩ হাজার ৮০০ টাকা বিনিয়োগ করে থাকলে বিনিয়োগকারীর এই ছয় বছরে মোট নগদ লভ্যাংশ হয় ৭ হাজার ৩২২ টাকা, যা কর বাদ দিয়ে হয় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা।

২০১৬, ২০১৮, ২০২০ এবং ২০২১ সালে ১০ শতাংশ করে এবং ২০১৯ সালে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার যুক্ত হওয়ায় সেই এক হাজার শেয়ার এখন হয়েছে ১ হাজার ৫৩৭টি। বর্তমান দর ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা হিসাবে এর মোট বাজারমূল্য ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।
এখানে বিনিয়োগকারীর মুনাফা মোট ২৯ হাজার ৬৯৪ টাকা। আর নগদ লভ্যাংশ মিলিয়ে মোট আয় ৩৬ হাজার ২৮৮ টাকা।

যমুনা ব্যাংক

এ ব্যাংকটি গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। এর মধ্যে ২০১৬-এর ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ২০১৭ সালের শুরুর দিকে যখন শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৫ পয়সা হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়, তখন ডিভিডেন্ড ইল্ড ছিল ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এই হিসাবে ওই সময় শেয়ারদর ছিল ১৫ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ এক হাজার শেয়ারে সে সময় বিনিয়োগ ছিল ১৫ হাজার ৬০০ টাকা।

এবং ব্যাংকটি এই ছয় বছরে কেবল ২০১৭ সালে ২২ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল। বাকি প্রতি বছরই দেয় নগদ লভ্যাংশ।
এর মধ্যে ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ, ২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ এবং ২০২০ ও চলতি বছর সাড়ে ১৭ শতাংশ করে লভ্যাংশ ঘোষণা হয়েছে।

অর্থাৎ চলতি বছরেরটা যোগ হলে ছয় বছরে নগদে লভ্যাংশ হবে ১০ হাজার ৫৯০ টাকা। ১০ শতাংশ কর কাটলে হাতে থাকবে ৯ হাজার ৫৩১ টাকা।

এক হাজার শেয়ার বেড়ে এখন হয়েছে ১ হাজার ২২০ টাকা। বর্তমান দর ২১ টাকা ৯০ পয়সা হিসাবে এই শেয়ারের দর ২৬ হাজার ৭১৮ টাকা। অর্থাৎ ১৫ হাজার ৬০০ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে মোট আয় ২০ হাজার ৬৪৯ টাকা।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক

এ ব্যাংকটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার বছরে ডিভিডেন্ড ইল্ড ছিল ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ তখন শেয়ারদর ছিল ১৫ টাকা ৯০ পয়সা। এই হিসাবে এক হাজার শেয়ারের দর ১৫ হাজার ৯০০ টাকা।
এই বিনিয়োগের বিপরীতে ছয় বছর মিলিয়ে নগদ লভ্যাংশ হয় ৯ হাজার ৬৮০ টাকা, যা ১০ শতাংশ কর বাদে হয় ৮ হাজার ৭১২ টাকা। আর সেই এক হাজার শেয়ার দুই বছরে বোনাস যোগ হয়ে হয়েছে ১ হাজার ৭১টি।

বর্তমান দর ২৬ টাকা ১০ পয়সা হিসাবে এই শেয়ারের বাজারদর ২৭ হাজার ৯৫৩ টাকা, যা বিনিয়োগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৩ টাকা বেশি। এর সঙ্গে নগদ লভ্যাংশ মিলিয়ে মোট আয় ২০ হাজার ৭৬৫ টাকা।

ডাচ্-বাংলা

২০১৬ সালে ব্যাংকটি যখন ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, সে বছর বিনিয়োগকারীর ডিভিডেন্ড ইল্ড ছিল ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ সে সময় শেয়ারদর ছিল ১১৭ টাকা।

সে সময় যদি কেউ ১ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে, তার তখন খরচ হয় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

এ ব্যাংকটির বিনিয়োগকারীরা নগদের চেয়ে বোনাস শেয়ারের কারণে লাভবান হয়েছেন বেশি। ব্যাংকটি ২০১৮ সালে ১৫০ শতাংশ, পরের বছর ১০ শতাংশ, এর পরের বছর ১৫ শতাংশ এবং গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য আরও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে।

সব মিলিয়ে সেই এক হাজার শেয়ার এখন দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৭৮টি। বর্তমান দর ৬৪ টাকা ৪০ পয়সা হিসাবে মোট দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৮৩ টাকা।

পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশ পাওয়া গেছে ১৭ হাজার ৩৭ টাকা। ১০ শতাংশ কর কাটার পর আসে ১৫ হাজার ৩৩৩ টাকা।
সব মিলিয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে মুনাফা হয় ১ লাখ ২২ হাজার ৩১৬ টাকা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক

এ ব্যাংকটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য পরের বছরের শুরুতে যখন ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে, তখন বিনিয়োগকারীর নগদ লভ্যাংশের ইল্ড ছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ তখন শেয়ারদর ছিল ১৫ টাকার মতো।

এক হাজার শেয়ার কিনলে সে বছর বিনিয়োগ করতে হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

এই এক হাজার শেয়ারে চলতি বছরের ঘোষণাসহ ছয় বছরে মোট নগদ লভ্যাংশ হয় ৩ হাজার ৯৬৮ টাকা। ১০ শতাংশ কর কাটলে তা হয় ৩ হাজার ৫৭১ টাকা।

আর ২০১৬ সালে ৫ শতাংশ, পরের দুই বছর ১০ শতাংশ করে, এরপর ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আরও ৫ শতাংশ করে বোনাস যোগ হওয়ার পর শেয়ারসংখ্যা এবার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৭০টি।

বর্তমান দর ১৯ টাকা ৮০ পয়সা হিসাবে এই শেয়ারের মোট বাজারমূল্য ২৯ হাজার ১০৬ টাকা। অর্থাৎ বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা ১৪ হাজার ১০৬ টাকা, যা নগদ লভ্যাংশ যোগ হয়ে হয় ১৭ হাজার ৬৭৭ টাকা।

এনসিসি ব্যাংক

এ ব্যাংকটি ২০১৬ সালের জন্য লভ্যাংশ দেয় শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৬০ পয়সা বা ১৬ শতাংশ। ডিএসইর তথ্য বলছে, বিনিয়োগকারীর ডিভিডেন্ড ইল্ড বা শেয়ারদরের বিপরীতে আয়ের অনুপাত ছিল ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এই হিসাবে লভ্যাংশ নেয়ার সময় শেয়ারদর ছিল ১২ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ এক হাজার শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগ ছিল ১২ হাজার ৬০০ টাকা।

পরের বছর লভ্যাংশ দেয়া হয় ১৩ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা। ২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি ৫০ পয়সা নগদের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার দেয়া হয় ৫ শতাংশ।

২০১৯ সালে নগদ ১৫ শতাংশের পাশাপাশি ২ শতাংশ বোনাস, ২০২০ সালে নগদ সাড়ে ৭ শতাংশের পাশাপাশি সমপরিমাণ বোনাস শেয়ার দেয়া হয়েছে। এবারও নগদ ১২ শতাংশের পাশাপাশি বোনাস ঘোষণা করা হয়েছে ৪ শতাংশ।

এই হিসাবে সেই এক হাজার শেয়ার এখন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৭টি। বর্তমান দর ১৪ টাকা ৮০ পয়সা হিসাবে এই শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৭১৫ টাকা। অর্থাৎ লাভ ৫ হাজার ১৫ টাকা।

এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন ৭ হাজার ২১৭ টাকা। কর কাটার পর তা হবে ৬ হাজার ৪৯৫ টাকা।
অর্থাৎ এই এক হাজার শেয়ারে ১২ হাজার ৬০০ টাকা বিনিয়োগ করে ছয় বছরে বিনিয়োগকারীর লাভ ১১ হাজার ৫১০ টাকা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক

২০১৬ সালে ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়। ডিএসইর হিসাব অনুযায়ী ওই বছর ডিভিডেন্ড ইল্ড ছিল ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ শেয়ারদর ছিল ১৫ টাকার সামান্য বেশি।

এক হাজার শেয়ারে যদি ১৫ হাজার ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে কেউ শেয়ার ধরে রাখেন, তাহলে তিনি এখন বেশ লাভে আছেন।
২০১৭ সালে ১৭ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস, ২০১৮ সালে ১৫ শতাংশ বোনাস, ২০১৯ সালে ১১ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস, ২০২০ সালে ১০ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস এবং এবার সাড়ে ১২ শতাংশ নগদের পাশাপাশি বোনাস ঘোষণা করা হয়েছে আরও ৫ শতাংশ।

এভাবে ২০১৭ সালের শুরুতে কেউ এক হাজার শেয়ার কিনে রাখলে এবার তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৬৭টি। বর্তমান শেয়ারদর ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। এই হিসাবে এই শেয়ারের মোট দাম ২১ হাজার ৪১৮ টাকা। বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা ৬ হাজার ৩১৮ টাকা।

অন্যদিকে এই ছয় বছরে নগদে যোগ হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। কর-পরবর্তী মোট মুনাফা ৬ হাজার ৯৮১ টাকা। অর্থাৎ ১৫ হাজার ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে সর্বমোট আয় ১৩ হাজার ২৯৯ টাকা।

ইস্টার্ন ব্যাংক

এ ব্যাংকটি ২০১৬ সালের জন্য শেয়ারপ্রতি ২০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস মিলিয়ে লভ্যাংশ ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীর নগদ লভ্যাংশের ইল্ড দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। এই হিসাবে তখন শেয়ারদর ছিল ২৮ টাকা ৭০ পয়সা। সে সময় এক হাজার শেয়ারের দর দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭০০ টাকা।

এই টাকা বিনিয়োগ করে ছয় বছরে এবার মিলিয়ে নগদ লভ্যাংশ হয় ১১ হাজার ৬৫০ টাকা, কর বাদ দিয়ে যা দাঁড়ায় ১০ হাজার ৪৮৫ টাকা।

২০১৬ সালে ৫ শতাংশ, ২০১৮ সালে ১০ শতাংশ, ২০২০ সালে আবার সাড়ে ১৭ শতাংশ এবং গত বছরের জন্য সাড়ে ১২ শতাংশ মিলে এখন শেয়ারসংখ্যা ১ হাজার ৫২৬টি। বর্তমান দর ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা হিসাবে এই পরিমাণ শেয়ারের বাজারদর ৫১ হাজার ২৭৩ টাকা। অর্থাৎ শেয়ারদর বৃদ্ধি ও নগদ লভ্যাংশ মিলিয়ে ২৮ হাজার ৭০০ টাকা বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীর মোট আয় ২৪ হাজার ৫৩ টাকা।

উত্তরা ব্যাংক

এ ব্যাংকটি ২০১৬ সালে যখন নগদ ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, সে সময় ডিভিডেন্ড ইল্ড ছিল ৮ দশমিক ১০ শতাংশ। এই হিসাবে শেয়ারদর সে সময় ছিল ২৪ টাকা ৭০ পয়সা।

ব্যাংকটি পরের দুই বছরও ২০ শতাংশ করে নগদ, দ্বিতীয় বছর এর সঙ্গে ২ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়। ২০১৯ সালে ৭ শতাংশ নগদ ও ২৩ শতাংশ বোনাস, ২০২০ সালে সাড়ে ১২ শতাংশ করে নগদ ও বোনাস এবং গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৪ শতাংশ করে নগদ ও বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে, যার রেকর্ড ডেট এরই মধ্যে পার হয়েছে।

এই হিসাবে এক হাজার শেয়ারের বিপরীতে এ ছয় বছরে ব্যাংকটির নগদ লভ্যাংশ হয় মোট ১০ হাজার ২৫৮ টাকা। ১০ শতাংশ কর কাটলে মোট আয় ৯ হাজার ২৩২ টাকা।

আর সেই এক হাজার শেয়ার এখন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০৯টি। বর্তমান দর ২৩ টাকা ৪০ পয়সা হিসাবে এই শেয়ারের বাজারদর দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৬৫০ টাকা। অর্থাৎ বিনিয়োগের পর শেয়ারে মুনাফা ১২ হাজার ৯৫০ টাকা, আর নগদ লভ্যাংশ মিলিয়ে আয় ২২ হাজার ১৮২ টাকা।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা