• বুধবার   ০৮ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৪ ১৪২৭

  • || ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪১

১৮

করোনায় স্থবির গাইবান্ধার ক্রীড়াঙ্গন

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২০  

প্রাণঘাতী নোভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার ক্রীড়াঙ্গন। ঘরোয়া সব লিগ ও টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। খাঁ খাঁ করছে স্টেডিয়াম। ক্রীড়া সংগঠকরা আসছেন না স্টেডিয়াম পাড়ায়। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা বাসায় থাকতেই নিরাপদ মনে করছেন। কবে নাগাদ করোনার বিপদ কাটবে, আবার মাঠে গড়াবে খেলা। প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।

কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার খেলা শুরু করা হবে। ফুটবল, টেবিল টেনিস, ক্রিকেট কোনো খেলাই এখন আর করোনা শঙ্কার বাইরে নেই। করোনার কারণে গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের জেলা-ভিত্তিক সব ধরনের লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল খেলার কোচিং (প্রশিক্ষণ) বন্ধ করে দিয়েছেন কোচিং সেন্টারগুলো। খেলোয়াড়দের বাইরে অযথা ঘোরাফেরা না করে ঘরে অবস্থান করতে পরামর্শ দিয়েছেন জেলার ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা।গাইবান্ধা শাহ্ আবদুল হামিদ স্টেডিয়ামে ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্সসহ এমন কোনো খেলা নেই, যা হয় না।

খেলোয়াড়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্রীড়ামোদীদের আড্ডা বসে জমজমাট। এখন সব নীরব-নিথর। খেলা নেই। কোলাহল নেই। স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক তালাবন্ধ। তিন দিকে বড় বড় গ্যালারি। আরেকদিকে প্রশাসনিক ভবন। মাঝখানে বিশাল খেলার মাঠ। এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো না কোনো খেলা চলতো।

মাঠটি কখনোও ফাঁকা থাকেনি। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রায় দুই মাস ধরে খেলাধুলা বন্ধ। ফাঁকা পড়ে আছে মাঠটি।জেলা ক্রীড়া সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানান,  এই মাঠে প্রতিদিনই কোনো না কোনো টুর্নামেন্ট বা লিগের খেলা চলতো। খেলা না থাকলে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ চলতো। খেলোয়াড়দের সমাগমে মুখরিত থাকত মাঠ। কিন্তু করোনার কারণে প্রায় আড়াই মাস ধরে এমন দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার পশ্চিম কোমরনই এলাকার খেলোয়াড় সুমনা আক্তার (২০)। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন বিকেলে স্টেডিয়াম মাঠে যেতাম। খেলাধুলা করতাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। বিকেল হলেই মাঠে যাওয়ার জন্য মনটা ছটফট করে। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভয়ে যেতে পারছি না।’

গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোডের খেলোয়াড় নাসিমা আক্তার (২১) বলেন, ‘আগে খেলাধুলা করতাম, শরীর ভালো থাকতো। মনে উৎসাহ পেতাম। সেই উৎসাহ কাজে লাগিয়ে লেখাপড়া করতাম। দুই মাস ধরে করোনার কারণে বাসায় থেকে যেন অলস হয়ে গেছি। আর ভালো লাগছে না। সারাক্ষণ ভাবছি, কবে করোনা চলে যাবে, আবার খেলতে পারব।’

গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়া এলাকার সাবেক ক্রিকেটার ওয়াজিউর রহমান বলেন, ‘আগে কিশোর–তরুণরা খেলাধুলার মধ্যে ডুবে থাকতো। তাদের মধ্যে প্রতিভার বিকাশ ঘটতো। তাদের দ্বারা খারাপ কাজ হতো না। করোনার কারণে এখন খেলাধুলা বন্ধ। কিশোর ও তরুণদের প্রতিভার বিকাশ ঘটছে না।’গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মৃদুল মুস্তাফিজ বলেন, ‘গাইবান্ধা খেলা ধুলায় সমৃদ্ধ। এখানকার অনেক খেলোয়াড় ফুটবল ও ক্রিকেটে জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন। স্টেডিয়াম মাঠে প্রতিদিনই খেলাধুলা চলতো। করোনার থাবায় সবকিছু বদলে গেল।’

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা
গাইবান্ধা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর