• মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৮

  • || ১৮ সফর ১৪৪৩

গোবিন্দগঞ্জ ফাঁসিতলা বাজারে - ফাঁসি।

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা বাজার। ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক গেছে এই বাজারের বুক চিরে। বাজারের ডানে বামে সারিসারি কলাবাগান। আধা-পাকা কলার কাঁদিগুলো সাঁজিছে রাখা হয়েছে বাজারে। মহাসড়কের দু’ধারে। মহাসড়কের একেবারে ভেতরে, পিচের ওপর দিয়ে সাঁজানো কাঁদিগুলো। তারপাশে, সারি সারি ট্রাক। রাস্তার বামপাশজুড়ে উল্টোমুখে দাঁড়ানো।

বিপত্তিটা আসলে এখানেই। রাস্তার ওপর কলার বাজার, উল্টোমুখো ট্রাক, ফাঁসিতলায় গাড়ি-ঘোড়ার ফাঁসি দিয়ে রেখেছে এই করে। ভুক্তভুগী যাত্রীদের অভিযোগ, এক থেকে দেড়-দু’ঘন্টার জ্যাম পরে যায় দৈনিক, এই পথে।

সড়ে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ রোড থেকে বগুড়া হয়ে গাইবান্ধা পর্যন্ত মহাসড়কের অন্য কোথাও জ্যাম না থাকলেও ফাঁসিতলায় জ্যাম লেগে আছে দীর্ঘ দুই কিলোমিটারের। বাস, ট্রাক ও বড় যানগুলোর দেড়ি হচ্ছে দেড় ঘন্টা করে। ছোটগুলোও জ্যামে বসে আছে ঘন্টার ওপর করে।

বাসযাত্রী আব্দুল হামিদ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, ‘আমি যাবো গোবিন্দগঞ্জ। এখান থেকে হেটে যেতে এক ঘন্টার পথ। বাসে বসে আছি দেড় ঘন্টা হলো।’

নীলফামারীর যাত্রী খয়বর হোসেনের আফসোস, ‘আমার মা অসুস্থ। মৃত্যুপথযাত্রী। ঢাকা থেকে ছুটে আসছি  মায়ের মুখ দেখবো বলে। সারা রাস্তা জ্যাম নাই। এইখানে এসে জ্যাম। ধরে । একেবারে মাথাটা স্টাক হয়ে যাচ্ছে।”

উত্তেজিত কন্ঠে আব্দুল হাইয়ের অভিব্যক্তি, ‘শালাদের পিটাতে ই্চ্ছে করছে। বাজার বসানোর আর জায়গা পায় নাই।’ তিনি তার অসুস্থ মেয়েকে দেখিয়ে জানান, ডাক্তার দেখাতে ওকে বগুড়া নেওয়া আশা প্রয়োজন। কিন্তু এই অযাচিত যানজট তার মেয়ের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

রাস্তায় যাত্রীদের কী রকম কষ্ট হচ্ছে দেখছেন…’ এমন জিজ্ঞাসায় রাস্তার মাঝে কলার দোকান খুলে বসা বিরু মিয়ার উত্তর, ‘উপায় নাই। কোথায় রাখবো এগুলো? পাইকাররা এখানেই আসে…’

-অন্য জায়গায় রাখলে সেখানেও পাইকাররা যাবে…

-এই রাস্তার পাশ থেকে কলা নিয়ে অন্য কোথায় যাবো? ট্রাকওয়ালারা দূরে যেতে চায় না।

ঘটনার সত্যতা জানতে খুঁজে বার করা হয়ে ট্রাক মালিক আলীকে। তার জবাব, ‘আমরা ভাড়া দিয়ে খাই। যেখানে যেতে বলবে সেখানেই যাবো। আমাদের দোষ নাই।’

রাস্তায় কলার বাজার বসিয়ে যানজট সৃষ্টির সমালোচনা করেন মুদি দোকানী, করম আলীও। তার বক্তব্য, ‘ফাঁসিতলা বাজার আগে ছোট ছিল । বেঁচাকেনা কম হতো। এই কলার ব্যবসা এসে বাজার বড় হয়েছে। বেঁচাকেনা বেড়েছে। অশান্তিও বেড়েছে। আগে এই খান দিয়ে গাড়ি ঘোড়া ছুটে চলে যেত। জ্যামের নাম গন্ধ নাই। কিন্তু এখন ফাঁসিতলায় গাড়ি-ঘোড়ার ফাঁসি  লেগে থাকে। মানুষজনের চলাচলে অসুবিধা হয়। বিরক্ত হয়। নিজেদের চলাফেরারও অসুবিধা হয়।’

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা