বুধবার   ১৯ জুন ২০২৪ || ৬ আষাঢ় ১৪৩১

প্রকাশিত: ১০:২৫, ১৭ নভেম্বর ২০২৩

ফুলছড়িতে বন্যার আগাম পরিকল্পনা বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ফুলছড়িতে বন্যার আগাম পরিকল্পনা বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সংগৃহীত

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে উপজেলা পর্যায়ে বন্যার আগাম পরিকল্পনা কার্যক্রম বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহন করেন।  বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে সেভ দ্য চিল্ড্রেন এর আর্থিক সহায়তায় এসকেএস ফাউণ্ডেশনের স্কেলিং আপ এন্টিসিপেটরি একশন ফর ফ্লাড প্রোণ এরিয়াস ইন বাংলাদেশ (সেফ) প্রকল্পের আয়োজনে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম সেলিম পারভেজ। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কার্যক্রম বিস্তারিত উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন। 

বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শহীদুজ্জামান শামীম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু মিয়া, উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আব্দুল হামিদ, কঞ্চিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু, উড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা, গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান, উদাখালী ইউপি চেয়ারম্যান আল আমিন আহমেদ, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল হক, এসকেএস ফাউণ্ডেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা রণজিৎ কুমার পাল, রাইমস এর মো. জায়েদ, সেভ দ্য চিল্ড্রেন গাইবান্ধা সেফ ফোকাল ও প্রজেক্ট অফিসার তাজমুল ইসলাম প্রমুখ। কর্মশালায় ফুলছড়ি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানগণ সহ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্য, সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় উপজেলার বন্যার আগাম সাড়াপ্রদান সংক্রান্ত সেফ প্রকল্পের ২০২৩ সালে কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। বন্যার সাড়াদান কার্যক্রমের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস, সকর্তীকরণ ও ঐসময় করনীয় বিষয়ে রাইমস কর্তৃক ভয়েস মেসেজ প্রদান, বন্যার সতর্কবার্তা, পূর্বাভাস প্রদান বিষয়ে অবগত করা হয়। 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারে বড় বন্যা না হলেও ছোট আকারে বন্যার পূর্বাভাস বিবেচনায় উপকারভোগীদের মাঝে পরিবার প্রতি চার হাজার টাকা উপকোরভোগীদের নিজস্ব বিকাশ মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। ফলে লক্ষিত উপকার ভোগীদের এবারে আকষ্মিক বন্যায়ও কোন প্রকার ঋণ বা ধারদেনা করতে হয়নি, এই টাকা দিয়ে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজন চাল, ডাল, তরিতরকারি, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র, শিশু ও গবাদি পশুর খাবার ইত্যাদি ক্রয় করে রেখেছিল। যা বন্যাকালিন সময়ে তাদের মোকাবিলা করতে সহায়ক হয়েছে। এছাড়াও আগাম বন্যার খবরাখবর, সকর্তবার্তা, পুর্বাভাস ও করনীয় বিষয়ে অবগত হওয়ায় সকল উপকারভোগী তাদের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, শুকনা খাবার, আলগা চূলা, জ্বালানি, অন্যান্য সম্পদ নিরাপদে রাখতে সক্ষম হয়েছ। ফলে তাদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোও সম্ভব হয়েছে। এ প্রকল্পে যেহেতু একটি গবেষণা কার্যক্রম রয়েছে তাই এই কর্মশালায় আগামীতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি আরও নিরসন কল্পে ফুলছড়ি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নিয়ে একটি বন্যার আগাম কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রস্তুতের জন্য কর্মশালাটি আয়োজন করে।

উল্লেখ্য যে, এ প্রকল্প গত ফেব্রুয়ারী মাসে গাইবান্ধা জেলার ২টি উপজেলা যথাক্রমে ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ এ কাজ শুরু করেছে যা ২০২৪ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত চলমান থাকবে। বন্যার আগাম সর্তকবার্তা দ্রæত ছড়ানোর মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার জনগনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্পদ,উপকরণসমূহ,কৃষিপন্য, গবাদি পশুসম্পদ, প্রাণী, মৎস্য ও কৃষিজ উৎপাদন, শিশু, কিশোর-কিশোরী, অসহায়, বয়ঃবৃদ্ধ, অসুস্থ্য ব্যক্তি, স্কুল, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে এ প্রকল্প কমিউনিটি লেড সাড়াপ্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা করছে। প্রাথমিকভাবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় চন্ডিপুর ও হরিপুর ইউনিয়নে এবং ফ‚লছড়ি উপজেলায় ফুলছড়ি,উড়িয়া,ফজলুপুর এবং কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নে কাজ শুরু করছে।

সর্বশেষ

সর্বশেষ