শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ || ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ০৪:৪৫, ১২ মার্চ ২০২৩

সাঘাটায় গমের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক

সাঘাটায় গমের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় এবার গমের ফলন ও দাম বেশি পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উচ্চ ফলনশীল গমের বীজ বপন করায় ফলন অনেক বেশি হয়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ গম ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে। এদিকে ফলন ও দাম বেশি হওয়ায় আগামীতে উপজেলায় গম চাষ আরো বাড়বে বলে আশা করছে গাইবান্ধা কৃষি গবেষণা ইনিষ্টিটিউট।

উপজেলার যমুনা নদীর বুকে নলছিয়ার চরের গমচাষি বাবলু মিয়া বলেন, গাইবান্ধা কৃষি গবেষণার উদ্ভাবিত বারি-৩৩ জাতের গমের বীজ ও সার এবং তাদের পরামর্শ নিয়ে গত বছর তিনি ১ বিঘা জমিতে চাষ করে ১৫ মণ গম উৎপাদন করেন। উৎপাদিত গম বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করার পর প্রতিমণ বীজ চার হাজার টাকা দরে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করেছেন। গতবার গমের ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় এবার বাবলু চরে ৩ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। এবার ফলন গতবারের চেয়ে বেশি এবং দামও বেশি পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। 

শুধু কৃষক বাবলু মিয়া নয় নলছিয়া বালু চরে গমের আবাদ করেছেন কৃষক নুরুন্নবী, আলম মিয়া, সোনা মিয়া,  মোনারুলসহ আরো অনেকেই গম চাষ করছেন। নলছিয় চর ছাড়াও দীঘলকান্দি, পাতিলবাড়ি, গোবিন্দি, হাটবাড়ি, গুয়াবাড়ি, কালুরপাড়া, গোবিন্দপুরসহ সব চরেই গম চাষ করা হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ১৭ থেকে ১৮ মণ পাবেন বলে কৃষকরা আশা করছেন। ইতিমধ্যেই কৃষকের গম মাড়াই শুরু হয়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ গম ২ হাজার ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত  কেনাবেচা চলছে।

গাইবান্ধা কৃষি গবেষণা ইনিষ্টিটিউট এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, চলতি রবি মৌসুমে গাইবান্ধা জেলার ৭ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার  বিঘা জমিতে কৃষক গম চাষ করেছেন। এর মধ্যে সাঘাটা উপজেলায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে গম চাষ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতে কৃষক উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে পরিচিত বারি-৩০ ও ৩৩, ৩২ জাতের গম চাষ করেছে। এবার আবহাওয়া গম চাষের অনুকূলে থাকায় গমের আবাদে কোনো রোগবালাই ছিল না। পাশাপাশি কৃষি গবেষণা ইনিষ্টিটিউটের সঠিক তদারকি ও পরামর্শে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে পুরোদমে গম মাড়াই শুরু হয়েছে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই মাড়াই সম্পন্ন হবে। 

কৃষকরা উৎপাদিত গম বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বাজারে ও অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। গমের ফলন ভালো এবং বাজারে দাম বেশি হওয়ায় গম চাষে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বর্তমানে এলাকার কৃষকরা স্থানীয়ভাবে গমের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করছেন। আগামীতে উপজেলায় গম অবাদ আরো বাড়বে বলে আশা করছি তিনি।

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়