শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪ || ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রকাশিত: ০৫:১৬, ২০ আগস্ট ২০২৩

একজন সফল নারী উদ‍্যোক্তা মমতাজ খাতুনের গল্প

একজন সফল নারী উদ‍্যোক্তা মমতাজ খাতুনের গল্প

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একজন সফল নারী উদ‍্যোক্তা মমতাজ খাতুন এর গল্প। তিনি স্বামীর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে প্রথমে নার্সারি স্থাপন করে সফলতা অর্জন করেন। নার্সারিতে সফলতা পাওয়ার পর স্বামী বেলাল এর পরামর্শে মমতাজ খাতুন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে গরু পালনের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ শুরু করেন। এতেও তিনি সফলতা অর্জন করেন।

জানা যায়,উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের বেলাল এর স্ত্রী মমতাজ খাতুনের পারিবারিকভাবে বিবাহ হয় এস,এস,সি পরীক্ষা দেওয়ার পর। বিবাহের পর সাংসারিক ঝামেলার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় মমতাজের।

এর মাঝে মমতাজ খাতুন ভালো কিছু করার আগ্রহ নিয়ে প্রথমে ২০১৯ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ীতে ১৫ শতাংশ জমির উপর নার্সারি গড়ে তোলেন। এরপর নার্সারি বৃদ্ধি হতে হতে প্রায় ২ একর জমিতে নার্সারি গড়ে ওঠে। যেখানে প্রতিদিন ১০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছে। এর ফাঁকে পড়াশোনার আগ্রহের ফলশ্রুতিতে তিনি এইচ,এস,সিতে ভর্তি হন।

এদিকে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে গবাদিপশু পালনের উপর এক মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে প্রথমে দুটি গরু দিয়ে বাড়ীতে গরু মোটাতাজাকরণ শুরু করেন। গরু মোটাতাজা করণেও মমতাজ বেগম সফলতা অর্জন করেন। এখন তার খামারে গরু বিক্রি শেষেও ৮ টি গরু রয়েছে।

এর মাঝে তিনি এইচ,এস,সি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে বতর্মানে ডিগ্রীতে অধ‍্যায়নরত রয়েছেন। অপরদিকে গরুর খামারের গোবর দিয়ে তিনি ভার্মি কম্পোষ্ট সার তৈরী করছেন। তার তৈরী ভার্মি কম্পোষ্ট সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব‍্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর পাশাপাশি নারী উদ‍্যোক্তা মমতাজ খাতুন বাড়ীতে ছাগলের খামার,হাসের খামার গড়ে

তুলেছেন। নাম দিয়েছেন মেসার্স “আলিফ সম্মিলিত কৃষি খামার”। এখন তার মাসিক আয় সব মিলিয়ে লাখ টাকা। এক ছেলে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়াশোনা করছে।

নার্সারিতে নিয়মিত কর্মরত শ্রমিক আমিরুল বিটিসি নিউজকে জানান,আমরা আগে কাজের সন্ধানে এখানে সেখানে ঘুরে বেরিয়েছি। বর্তমানে সফল নারী উদ‍্যোক্তা মমতাজ খাতুনের নার্সারিতে নিয়মিত কাজ করে দৈনিক মজুরি পাই ৪৫০ টাকা করে। এতে আমাদের সংসারের অভাব কমেছে।

অপর শ্রমিক এখলাছ বিটিসি নিউজকে বলেন, আমি ৩ বছর থেকে এখানে কাজ করছি। ঝড়, বৃষ্টি, খরা সব সময়ই কাজ করি। প্রতিদিন পাই ৪৫০ টাকা করে।

সফল নারী উদ‍্যোক্তা মমতাজ খাতুনের প্রতিবেশীরা বিটিসি নিউজকে জানান,মেয়েটি আসলে খুবই লক্ষী। সে যা কিছুই করছেন তাতেই সোনা ফলছে। তার দেখাদেখি গ্রামের অনেক মহিলা এখন এসব করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

তার দেখা দেখি পার্শ্ববর্তী আইনুল ও রফিকুল নার্সারি করে সফলতা আর্জন করেছেন। তাদের নার্সারিতে এখন প্রায় ৮ -১০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সত‍্য সাহা বিটিসি নিউজকে জানান,সফল নারী উদ‍্যোক্তা মমতাজ খাতুনকে এককালীন ৪০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে আরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ