শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪ || ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রকাশিত: ০৫:১০, ১৯ মে ২০২৩

চীনা মুরগির ফার্মে সফল গাইবান্ধার ফিরোজ

চীনা মুরগির ফার্মে সফল গাইবান্ধার ফিরোজ

গাইবান্ধা সদরের পলাশপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফিরোজ আলম। ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় অনার্সের ছাত্র ফিরোজ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড কালচার বিষয়ে কোর্স শেষে ২০১১ সালে স্কলারশিপ নিয়ে চীনে যান। সেখানে একটি সেমিনারে গিয়ে দেখা ও পরিচয় হয় সেখানকার এক কলেজের ফাইন আর্টসের শিক্ষক ও চীনা নাগরিক ওয়াং লু ফিং (সুফি)’র সঙ্গে।

পরে তাদের মধ্যে প্রেম-পরিণয় হয় এবং ২০১১ সালেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি তারা দুই-দেশে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসাও শুরু করেন। বিভিন্ন সময় নিজেদের আসা-যাওয়ার ফাঁকে চীন থেকে বেশকিছু ডিম বাংলাদেশে নিয়ে আসেন তারা। পরে করোনাকালীন সময়ে তাদের কিছু সময় অবসর মেলে। এর এক ফাঁকেই তারা বাংলাদেশে চলে আসেন।

চীনা নাগরিক সুফি শখের বশে গাজীপুরের কালীগঞ্জের নগরভেলা গ্রামে ১২ শতাংশ ভাড়া করা জমিতে গড়ে তোলেন মুরগির শেড। চীন থেকে আনা ওইসব ডিম কৃত্রিমভাবে ফুঁটে ১৩ জাতের ৮৪টি বাচ্চার জন্ম হয়। ওই বাচ্চাগুলো নিয়ে তারা এসএস রেয়ার ব্রীড এগ্রো ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এক বছরেই তাদের খামারের বিভিন্ন জাতের চীনা মুরগির সংখ্যা বেড়ে এখন সাড়ে তিন হাজারে দাঁড়িয়েছে। এখন চীনা জাতের এসব মুরগিকে ঘিরে বাংলাদেশে বাণিজ্যকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই এগ্রো ফার্মে সাদা রঙয়ের চাইনিজ সিল্কি, সাদা-কালো রঙয়ের লু হেই চী (চাইনিজ দেশীয়), কালো রংয়ের কাদাকনাথ ও লালচে বর্ণের হুং ইয়াও জি তাদের খামারে লালন পালন হচ্ছে। এখান থেকেই সারাদেশেই চাইনিজ মুরগির এসব জাত ছড়িয়ে দিতে চান এই দম্পতি।

চাইনিজ সিল্কি মুরগি ছয় মাসে দেড়/দুই কেজি ওজন হয়। ২১০টি করে একটানা ডিম দেয়ার পর একমাস বিরতি দিয়ে আবার ডিম দেয়া শুরু করে। ডিম আমাদের দেশি মুরগির চেয়ে একটু বড়।

লু হেই চি জাতের মুরগি চার/পাঁচ মাসে আড়াই কেজির মতো ওজন হয় এবং ডিম দেয়া শুরু করে। তারা টানা ৩৫০টির মতো ডিম দেয় এবং প্রায় এক মাসের মতো বিরতি দিয়ে আবার ডিম দেয়া শুরু করে। ডিম আমাদের দেশি মুরগির ডিমের মতোই আকারে হয়।

কাদাকনাথের পালক, মাংস ও হাড় কালো রংয়ের হলেও ডিম হাসের ডিমের মতো কিছুটা সবুজাভ, চার মাসে দুই কেজির মতো ওজন হয় এবং ডিম দেয়া শুরু করে। এ জাত টানা দেড়শর’ মতো ডিম দেয়।

হুং ইয়াও জি জাতের মুরগি ৫ মাসে ৫ কেজির মতো ওজন হয় এবং ডিম দিতে শুরু করে। এরা একটানা সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’র মতো ডিম দেয়। মাস খানেক বিরতি দিয়ে আবার ডিম দেয়া শুরু করে।

এই খামারের উদ্যোক্তা চীনা নাগরিক সুফি জানান, বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে পালন হওয়া বিভিন্ন জাতের মুরগির মাংসের স্বাদ ও দেশীয় মুরগি পালনের বিবেচনায় তিনি এর চেয়েও উন্নত মুরগি বাংলাদেশে পালনের লক্ষ্যে এই খামারটি শুরু করেন। উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ায় বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এসব মুরগিগুলোর যথাযথ মানানসই হয়েছে। এরা যেমন দ্রুত বেড়ে উঠছে, তেমনি দ্রুত প্রজননের উপযোগী হয়েছে। এভাবেই বেড়েছে তার খামারের মুরগির সংখ্যা। তার খামারে থাকা চীনা সিল্কি ও প্রকৃত কাদাকনাথ মুরগি গাজীপুরে এই প্রথম।

তিনি আরো বলেন, চীনে বহু প্রজাতির মুরগি রয়েছে। কিছু রয়েছে দেখতে অনেকটা পাখির মতো। এসব জাতের মুরগিসহ বেশকিছু উন্নত জাতের মুরগি তিনি বাংলাদেশের প্রকৃতিতে আনতে চান; যা পালন করে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হবে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে পালন করে অনেকেই লাভবান হতে পারে।

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ