• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৪ রজব ১৪৪৪

সাঘাটায় সূর্যমুখীর চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক আলতাফ

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৩  

কৃষি গবেষণার উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে ভরা সূর্যমুখীর চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সফল কৃষক আলতাফ হোসেন সরকার।  

এবার ৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই তার ক্ষেতের গাছে ফুল এবং ফুলে বীজ আসা শুর হয়েছে। এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যে দিকে আলো ছড়াচ্ছে। ক্ষেতের সূর্যমূখীর সবুজ গাছে গাছে বড় গোলআকারের হলুদ ফুল চারিদিকে যেন এক অপরূপ দৃশ্য ছড়িয়েছে। প্রতিদিন আশপাশের এলাকা থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য পিয়াসু মানুষ সূর্যমুখী ফুলের দৃশ্য দেখতে আসছে। এদের অনেকেই আবার স্মৃতি ধরে রাখতে ফুলের সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের ছবি তুলছেন।

জানা যায়, উপজেলার হাসিলকান্দি গ্রামের আলতাফ হোসেন সরকার (৭০) কলেজের অধ্যক্ষ থেকে এখন একজন সফল কৃষক। তার পিতার নাম মৃত আলহাজ মফিজ উদ্দিন সরকার। তিনি কলেজের অধ্যক্ষ থেকে বিগত ২০১০ সালে অবসরে যান আলতাফ।

অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন সফল এই কৃষক। এদিকে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে তার সিংহভাগ জমিই চরে পরিনত হয়েছে। তার চরের জমিতে উন্নত ফসলের চাষ করে সফল হওয়ার জন্য তিনি চাকুরি থেকে অবসরে যাওয়ার প্রাক্কালেই বেছে নেন কৃষি পেশা। তার চরে গম,ভুট্রা,কাউন,চিনা,পিঁয়াজ,রসুন,মরিচ,তিল,তিশি,কুসুম ফুল,কালোজিরা,ধনিয়া সহ নানা রবি ফসলের চাষ করে প্রতিবছর অনেক টাকা আয় করে কৃষক হিসেবে সফলতা অর্জন করেছেন ।  

এরই মাঝে একদিন পত্রিকায় সূর্যমূখীর তেলের পুষ্টিগুণ ও ফলন দেখে গত বছর কৃষি গবেষণার এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে তাদের উদ্ভাবিত বীজ নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। এই বীজের তেল ব্যবহার করে শারীরিক উপকারও পেয়েছেন এই কৃষক। তাছাড়া সূর্যমূখীর বীজ ও তেলের দাম অন্য তেলের চেয়ে অনেক বেশী। তাই কৃষি গবেষণার উদ্ভাবিত এই বীজ ও পরামর্শ নিয়ে এবার ৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা, জমির সূর্যমূখী এবার আরও ভালো হয়েছে উৎপাদিত সূর্যমুখী বীজ বিক্রি করে খচ বাদ দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক আলতাফ হোসেন সরকার।

সূর্যমূখী বীজ উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান গাইবান্ধা  কৃষি গবেষণা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আলতাফ হেসেন সহ চরে ২০ বিঘা জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করা হয়েছে । সূর্যমূখী চাষের ক্ষেত্রে প্রায় প্রতি বিঘা জমিতে ১ কেজি বীজ দিতে হয়। দেড় ফুট দুরত্বে একটি করে বীজ বপন করতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব রাখতে হয় দেড় ফুট। মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বীজ বপন থেকে শুরু করে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে সব খরচ বাদ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয়।

গাইবান্ধা কৃষি গবেষণা ইনিষ্টিটিউট-এর প্রধান বৈজ্ঞানি কর্মকর্তা ড. আব্দুল্যাহ আল মাহমুদ জানান, নতুন উদ্ভাবিত এই সূর্যমূখী উচ্চ ফলনশীন ও বেশী লাভজনক ফসল। অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে ফসল উৎপাদন ও ভালো দাম পাওয়া যায়। এর চাষ করা সহজ গাছ ছোট আকারের হয় অল্প বাতাসে পড়ে যায়না।  সূর্যমূখীর তেলে সোয়াবিন তেলের চেয়ে পুষ্টিগুণ অনেক বেশী, স্বাস্থ্যসম্মত এবং মানবদেহের রোগপ্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। চলতি মৌসুমে আলতাফ হেসেন সহ চরে ২০ বিঘা জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার ফলন দেখে আগামীতে সূর্যমূখী চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে তিনি জানান। 

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা