মঙ্গলবার   ০৫ মার্চ ২০২৪ || ২১ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ২৮ নভেম্বর ২০২৩

ঝুঁকি নিয়ে বরই চাষ, বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক এনায়েত

ঝুঁকি নিয়ে বরই চাষ, বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক এনায়েত
সংগৃহীত

বাগানের চারদিকে তাকালে শুধু বরই আর বরই। চার থেকে ছয় ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। ছোট থেকে বড় প্রতিটি গাছে বরইয়ের ভারে ডাল নুইয়ে পড়েছে। পাকা বরইগুলো দেখতে লাল আপেলের মতো। স্বাদে বেশ মিষ্টি।

বরইয়ের এ চিত্তাকর্ষক বাগান গড়ে তুলেছেন নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা সুবর্ণচরের চরজুবিলী ইউনিয়নের কৃষক মো. এনায়েত উল্যাহ। চলতি মৌসুমে তার বাগানে বরইয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় কৃষক এনায়েতের মুখজুড়ে সমৃদ্ধির হাসি লেগেই আছে।

কৃষক এনায়েত নিজ এলাকায় রৌদ্রজ্জ্বল ও উঁচু ৮০ শতাংশ জমির মধ্যে ৩০ শতাংশ জমিতে লাল শাক, মুলা, ধনিয়া, খিরা, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচামরিচ, বরবটি, শিম, টমেটো, বেগুন চাষাবাদ করেন। বাকি ৫০ শতাংশ জমিতে ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষামূলক বল সুন্দরী ও কাশ্মীরি আপেলএই দুই জাতের বরই চাষ করেন। এর ব্যাপক ফলন হওয়ায় সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তিনি।  

এরআগে, গত বছর একই জমিতে বিভিন্ন প্রজাতের সবজি চাষ করে সাড়ে ৩ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেন। এটি কৃষক এনায়েত ও তার বাবা মো. হানিফ এর সার্বক্ষণিক পরিচর্যার সফলতা বলে জানা যায়।

কৃষক এনায়েতের বাবা মো. হানিফ বলেন, এ জমিটি ইজারা নিয়ে কয়েক বছর চাষাবাদ করছি। গত ৪-৫ বছর এ জমিতে খিরাসহ নানান ধরনের সবজি চাষাবাদ করতাম। চলতি বছর মার্চের শেষের দিকে উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম স্যার বিনামূল্যে ২৫০ টি বরইয়ের কলম চারা দেন। সেই সাথে ইউরিয়া, মাড়িয়া, এমপি সারসহ নগদ কিছু টাকা দেওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ বরই চাষ শুর করি। রোপণের ৭ মাসের মাথায় ফল দেওয়া শুরু করে। তবে গত কয়েক মাস পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে কিছুটা ফল নষ্ট হলেও রোপণের ৯ মাসের মাথায় বরই বিক্রির উপযুক্ত সময় হয়। আল্লাহর অশেষ কৃপায় গাছে ফলন দেখে আমরা খুবই খুশি।

কৃষক এনায়েত বলেন, স্থানীয় বাজারেরপ্রতিকেজি ৯০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এমন দাম পেলে সব বরই বেচে ২ লাখ টাকার বেশি লাভ থাকবে আমার। দোকানে এ বরই  ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আশাকরি আগামীতে কৃষি অফিস থেকে আরও সহযোগিতা পেলে  বরই ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করব।

অন্যান্য কৃষকরা বলেন, এখানকার আবহাওয়া ভালো থাকায় ও সঠিক পরির্চযা করার কারণে বরইয়ের ভালো ফলন হয়েছে। প্রত্যেকটি গাছে বরইয়ের ভারে অধিকাংশ ডাল গুলো শুয়ে পড়েছে। এ চাষে ঝুঁকি ও খরচ কম এবং লাভ বেশি।

বরই কিনতে আসা ক্রেতা শিমুল বলেন, এ উপজেলায় কয়েকটি বরই বাগান থাকলেও এর মত স্বযত্নে পরিচর্যা ও নিরাপত্তা সম্পন্ন বাগান সুবর্ণচরে আর কোথাও নজরে পড়েনি। বরইগুলোও খেতে দারুণ মিষ্টি। কৃষক এনায়েতের মতো অন্যরাও যদি ঝুঁকি নেয় তাহলে এ উপজেলায় কৃষিক্ষেত্রে আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।

উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম বলেন, বরই চাষে তার লাভ ও উৎপাদন দেখে অন্যান্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। আমরা কৃষি অফিসের নির্দেশনায় কৃষকের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।  

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বাণিজ্যিকভাবে এ উপজেলায় বরই চাষ করা হয় না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিক্ষামূলক ভাবে প্রায় ৫ একর জায়গায় ৭ জন কৃষককে উন্নত জাতের উচ্চ মূল্যের ফসল (ফল) উৎপাদন প্রদর্শনী দিয়েছি। এর মধ্যে কৃষক এনায়েত অন্যতম। তার সাফল্য দেখে বরই চাষের উদ্যাক্তা বাড়ছে এবং আগামীতে বরই বাগানের সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে এবং স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলাগুলোতেও এ সুবর্ণচরের বরই সরবরাহ করতে পারবে।

সূত্র: বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর

সর্বশেষ

জনপ্রিয়