শনিবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৪ || ২৯ চৈত্র ১৪৩০

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ২ এপ্রিল ২০২৪

স্বামী-স্ত্রীর আলাদা থাকার প্রবণতা বাড়ছে যে কারণে

স্বামী-স্ত্রীর আলাদা থাকার প্রবণতা বাড়ছে যে কারণে
সংগৃহীত

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পারিক সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে ওঠে বিশ্বাস ও আস্থা। কিন্তু আমাদের বর্তমান সমাজে দুজনেরই কর্মক্ষেত্রে অবদানের কারণে তৈরি হয়েছে স্বামী-স্ত্রীর আলাদা থাকার প্রবণতা।

কারণের মধ্যে রয়েছে স্বামীর কর্মসংস্থান কিংবা শিক্ষা। এ ছাড়া অভিবাসনোকেও দায়ী করেন নৃবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলে এক জরিপে দেখা গেছে দেশের ১৬ শতাংশ নারীকে বিচ্ছিন্নভাবে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

নৃবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী ২ পক্ষেরই সমান ভূমিকা রয়েছে। এখানে এক পক্ষের শারীরিক অনুপস্থিতি আদর্শ পরিবার গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সন্তানের শিক্ষা, নৈতিকতা ও সম্মানবোধ।

স্বামী থেকে আলাদা বসবাস করা নারীদের তথ্য উঠে এসেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) সর্বশেষ জরিপে। এর নাম ‘বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (২০২২)’। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিবাহিত নারীদের ১৬ শতাংশ স্বামী থেকে পৃথক থাকছেন। সবচেয়ে বেশি আলাদা থাকতে হয় গ্রামাঞ্চলের নারীদের। তাদের মধ্যে এ হার ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। শহরে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

জরিপে আরো দেখা গেছে, স্বামী থেকে পৃথক থাকার হার সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রামে। এ বিভাগের প্রায় ২৮ শতাংশ নারী স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকেন। এ ছাড়া বরিশালে ২০ শতাংশ, সিলেটে ১৮, ঢাকায় ১৫, ময়মনসিংহে ১৩, খুলনায় ১২, রাজশাহীতে ১০ ও রংপুর বিভাগে ৯ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া ৩৮ শতাংশ বিবাহিত নারী জানান, তাদের স্বামীরা (জরিপকাল থেকে) গত এক বছরের মধ্যে পরিবারের সঙ্গে একবারও সাক্ষাৎ করেননি। এই হার শহরে ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ। গ্রামে ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ৪১ শতাংশ নারীর স্বামী বছরে এক থেকে পাঁচবার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বছরে ছয় থেকে ১১ বার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে এসেছেন ১১ শতাংশ স্বামী। আর প্রতি মাসে এক বা একাধিকবার পরিবারের সাক্ষাৎ পেয়েছেন ১১ শতাংশ স্বামী।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসান এ শাফী জানান, পরিবারে স্ত্রী ও স্বামীর ভূমিকার সমন্বয় খুবই জরুরি। বাবার কাছ থেকে নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা থেকে শিশুরা বঞ্চিত হয়। বয়ঃসন্ধিকালে বাবাকে না পেলে সহিংসতা ও মাদক গ্রহণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিবার একটি সামাজিক কাঠামোর একক। যখন একটি পরিবার সঠিকভাবে গড়ে ওঠে না, তখন ওই পরিবার সমাজের অন্যান্য পরিবারের সঙ্গেও যুক্ত হতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাসনীম সিদ্দিকী জানান, সমাজ বদলে যাওয়ায় নারী-পুরুষ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ

শিরোনাম

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপনদেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরঈদে বেড়েছে রেমিট্যান্স, ফের ২০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রিজার্ভ১৪ কিলোমিটার আলপনা বিশ্বরেকর্ডের আশায়তাপপ্রবাহ বাড়বে, পহেলা বৈশাখে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪০ ডিগ্রিতেনেইমারের বাবার দেনা পরিশোধ করলেন আলভেজ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কী? কীভাবে করবেন?বান্দরবানে পর্যটক ভ্রমণে দেয়া নির্দেশনা চারটি স্থগিতআয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দনসুইজারল্যান্ডে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় কিবৈসাবি উৎসবের আমেজে ভাসছে ৩ পার্বত্য জেলাসবাই ঈদের নামাজে গেলে শাহনাজের ঘরে ঢুকে প্রেমিক রাজু, অতঃপর...