শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪ || ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১২:০৪, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

ডায়াবেটিস রোগের জম, তবে চিনির চেয়েও মিষ্টি

ডায়াবেটিস রোগের জম, তবে চিনির চেয়েও মিষ্টি
সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়মতান্ত্রিক জীবনধারার কারণে ডায়াবেটিস ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের ওষুধ আবিষ্কার হলেও এটি নির্মূলে কার্যকর কোনো ওষুধ এখনো অধরা। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তার অপার রহস্যঘেরা এই পৃথিবীতেই সব রোগের প্রতিষেধক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক ঔষধি গাছ। যে গাছ চিনির চেয়েও ৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি, কিন্তু তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

স্টেভিয়ার পাতার গুঁড়ো দিয়ে মিষ্টান্ন তৈরি করে ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারে .

পরিচয়

এই গাছটির নাম ‘স্টেভিয়া’। গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদও বলা যায়। ল্যাটিন আমেরিকার প্যারাগুয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে এই গাছের চাষাবাদ হয়। তবে সর্বপ্রথম ১৮৮৭ সালে সুইজারল্যান্ডের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. এমএস বার্টনি এই গাছটিকে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করেন।

প্যারাগুয়ের পাহাড়ি উপজাতীয়রা এই গাছকে বলে কা-হি-হি অর্থাৎ মধু গাছ। আফ্রিকাতে এটি মধু পাতা বা চিনি পাতা নামে পরিচিত। থাইল্যান্ডে মিষ্টি ঘাস, জাপানে আমাহা সুটেবিয়া ও ভারতীয় অঞ্চলে স্টেভিয়া মধু বা চিনি গাছ নামেই পরিচিত।

স্টেভিয়া যেভাবে জনপ্রিয়তা পেল

১৯৬৪ সালে প্যারাগুয়েতে প্রথম স্টেভিয়ার বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়। এরপর ১৯৬৮ সালে জাপানে চাষাবাদ শুরু হয়। পরে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরু, চীন, কোরিয়া, আমেরিকা, কানাডা, ইসরাইল, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এই গাছের বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়।

স্টেভিয়া যেমন দেখতে

এই গাছটি বহুবর্ষজীবী এবং ৬০ থেকে ৭৫ সেমি. পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতার আকার বর্ষাকৃতি, ফুল সাদা এবং বীজ ক্ষুদ্রাকৃতি। স্টেভিয়া গাছের পাতার নির্যাস চিনির চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি। তবুও এতে কোনো কার্বোহাইড্রেট কিংবা ক্যালরি নেই। আর ঠিক এ কারণেই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনির সবচেয়ে উত্তম বিকল্প। এছাড়া এই গাছের পাতার নির্যাস ইনসুলিন নিঃসরণ বৃদ্ধি করে এবং ব্লাড সুগার লেভেল কমিয়ে রাখে।

স্টেভিয়া পাতা যেভাবে খাওয়া যায়

এই গাছের সবুজ ও শুকনো পাতা সরাসরি চিবিয়ে কিংবা চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে বোতলে সংরক্ষণ করা যায়।

এই পাতার গুঁড়ো দিয়ে মিষ্টান্ন তৈরি করে ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন। এই পাতার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। জাপানে কোমল পানীয়তে স্টেভিয়া ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কনফেকশনারি, ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্যেও চিনির বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

স্টেভিয়ার বিশেষ কার্যকারিতা

> এই গাছের পাতা ডায়াবেটিস বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে
> উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন প্রতিরোধ করে
> যকৃৎ, অগ্ন্যাশয় ও প্লীহায় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে
> স্টেভিওসাইড অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণে সহায়তা করে
> ত্বকের ক্ষত নিরাময় ও দাঁতের ক্ষয় রোধ করে
> খাদ্য হজমে সহায়তা করে
> এতে কোনো ক্যালরি না থাকায় তা শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে
> মিষ্টি জাতীয় খাবারে চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়

বাংলাদেশে চাষাবাদ সম্ভাবনা

দেশের একাধিক গবেষক বলেছেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু স্টেভিয়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। সারাবছরই স্টেভিয়া চাষ করা সম্ভব।

স্টেভিয়া চাষের জন্য সুনিষ্কাশিত ও জৈব পদার্থযুক্ত বেলে দো-আঁশ মাটি উপযুক্ত। লাল মাটি ও অপেক্ষাকৃত ক্ষারীয় মাটিতে স্টেভিয়া ভালো জন্মে। আমাদের দেশে বৃষ্টির পানি জমে না এরকম উঁচু সুনিষ্কাশিত জমিতে স্টেভিয়া চাষ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ অফিস বা দফতরে যোগাযোগ করলে চাষাবাদের বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ