শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ || ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ২৯ জানুয়ারি ২০২৪

বিদেশি শিক্ষার্থীদের টানতে স্কলারশিপ দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিদেশি শিক্ষার্থীদের টানতে স্কলারশিপ দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে র‍্যাংকিংয়ে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এর পেছনে অনেক কারণ থাকলেও বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে না আসাকেই দায়ী মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকরা।

অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ কিছুটা কম দিলেও অনেক বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স করতে এদেশে আসত। তবে এখন সেই সংখ্যাটা কমেছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের এদেশে পড়তে আসা কেন কমেছে, আর সেটা বৃদ্ধি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে কি না, এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকা পোস্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক এইচ এম খালিদ হাসান।

ঢাকা পোস্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং আগের চেয়ে পেছানোর কারণ কী? আমাদের শিক্ষার মান কি আগের চেয়ে কমেছে? 

অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার : আমি মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও সক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এই মানটাকে যদি বিশ্বায়নের সাথে তুলনা করি সে হিসেবে একটি দিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়ানো উচিত। সেটা হলো বিদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ানো। তবে এক্ষেত্রে শুধু আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়তে আসলেই হবে না, বরং বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পিএইচডি ও গবেষণার জন্যও আসতে হবে। তাহলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং আরও অগ্রসর হবে। 

ঢাকা পোস্ট : অতীতে কোন দেশের শিক্ষার্থীরা বেশি পড়তে আসত?

অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার : আমি যদি শুধু ফার্মেসি অনুষদের কথাই বলি, আমাদের সময়ে আমাদের অনুষদে ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপালের শিক্ষার্থীরা ছিল। এরা কোটা (স্কলারশিপ) ছাড়াই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসত। এখন ইরান ইরাক নাইজেরিয়া থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আসছে না। একসময় নেপালের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি আসলেও এখন সংখ্যাটা খুবই সীমিত। আমার বিভাগ (ফার্মেসি) ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ অন্যান্য বিভাগগুলো, মেডিকেলগুলোতে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। তবে বর্তমান সংখ্যাটা আমাদের মোট কোটার থেকেও কম।

ঢাকা পোস্ট : এখন বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়তে না আসার পেছনের কারণটা কি?

অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার : ৮০-এর দশকের পর থেকে খুব মেধাবী নেপালি শিক্ষার্থীরা আমাদের ভার্সিটিতে আসত। পরবর্তীতে তারা অন্য জায়গায় পিএইচডি করে কাঠমুন্ডু ইউনিভার্সিটিসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি ও বেশ কিছু অনুষদ খুলেছে এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করে পড়া চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া অন্য যেসব বিভাগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ছিল সেই অনুষদগুলো তাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু করা হয়েছে। ফলস্বরূপ বিদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই পড়ছে, বাংলাদেশে আর আসছে না। 

ঢাকা পোস্ট : বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয় কি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে?

অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার : বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এ লক্ষ্যে ফান্ড গঠন করছি। সেই ফান্ড থেকে আমরা বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেওয়ার বিষয়টি মিটিংয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আশা করি স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে আরও বেশি ঝুঁকবে। 

ঢাকা পোস্ট: আপনাকে ধন্যবাদ। 

অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার : ঢাকা পোস্টকেও ধন্যবাদ।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়