• শুক্রবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৯

  • || ০৪ রজব ১৪৪৪

১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০২২  

দীর্ঘ ১৩ বছর পর রাজধানীসহ সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা। শুক্রবার সকাল ১০টায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। দুই ঘণ্টার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে প্রাথমিকের ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর বেশ কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রে আসতে শুরু করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কেউ ছেলে, কেউ মেয়ে, আবার কেউ নিজের ছোট ভাই-বোনসহ পরিবারের কোনো সদস্য পরীক্ষার্থীকে নিয়ে কেন্দ্রে আসেন। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের জটলা ছিল চোখে পড়ার মতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী। বৃত্তি পাবে ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে নানা মহল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করার দাবি উঠলেও গত ২৮ নভেম্বর হুট করেই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আবারও এক যুগের আগের সেই বৃত্তি পরীক্ষা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বলা হয়, মোট শিক্ষার্থীর ২০ শতাংশকে বসতে হবে এই পরীক্ষায়। এর আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দেশের প্রতিটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশ প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

সর্বশেষ প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। এর পর ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হতো। তার আগে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বৃত্তি পরীক্ষায় বসতে হতো। ফলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক সমাপনীর ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু মহামারির কারণে গেল দুই বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হয়নি।

কুমিল্লার হোমনা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার হোমনায় ৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪২টি কিন্ডার গার্টেসহ মোট ১৩৪ বিদ্যালয়ের ২৯৯ জন বালক ও ৫১১ জন বালিকাসহ মোট ৮১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় । এদের মধ্যে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ১৮ জন।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় প্রতিনিধি জানান, এবার গজারিয়ায় উপজেলায় মোট ৫৭২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ছেলে ২২০ জন এবং মেয়ে ৩৫২ জন ছিল।

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, এ উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৫৫৮জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৯টি বিদ্যালয়ের মোট ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। এ ছাড়াও ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও বরিশালের বিভিন্ন জেলায় উৎসবমুখর পবিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা