মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ || ৩ আষাঢ় ১৪৩১

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৭:১৯, ২২ মে ২০২৪

সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন নীতিমালা প্রণয়ন হচ্ছে

সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন নীতিমালা প্রণয়ন হচ্ছে
সংগৃহীত

কোন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ায় সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে তার নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে এ বিষয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন শুরু করে দিয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের কৃষিতে পরিবর্তন আনতে সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় গত ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তাবায়নে সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে ২৭ মার্চ কৃষি সচিবের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের পিপিসি উইংয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমানকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা-৫ এর উপসচিব শরীফ মো. ইসমাইল হোসেনকে। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে কমিটি সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি সহজ কৃষি সমবায় নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এর এক মাসেরও বেশি সময় পরে ২ মে এ কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘সহজ কৃষি সমবায় নীতিমালা প্রণয়ন’ করার জন্য ৫ সদস্যের আরেক উপকমিটি গঠন করা হয়। মূল কমিটির সদস্য সচিব শরীফ মো. ইসমাইল হোসেনকে আহ্বায়ক ও ওই কমিটি সদস্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের ডিপিডি মো. শফিকুল ইসলাম শেখকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। অপর সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) যুগ্ম পরিচালক ফারুক আহমেদ জোয়ার্দ্দার, সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম নিবন্ধক (পরিকল্পনা) মো. হেলাল উদ্দিন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি নীতি সহায়ক ইউনিটের উপগবেষণা পরিচালক মো. মসীহুর রহমান।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যমান সমবায় আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে কৃষকবান্ধব সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার একটি সহজ নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। কারণ সমবায় আইন ও নীতিমালার পরিবর্তন করা সময় সাপেক্ষ। এছাড়া বিদ্যমান নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত কৃষক গ্রুপগুলো বহাল রেখে বা পুনর্গঠন করে এবং পাশাপাশি জমির মালিকানাভিত্তিক নতুন কৃষক গ্রুপ গঠন করা যেতে পারে। সমবায় আইনে কৃষক সমবায় সংগঠন বা গ্রুপ নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কৃষক নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে সমবায়ভিত্তিক গ্রুপগুলো নিবন্ধন করতে চায় না।

সূত্র জানিয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির আওতায় অন্তত ৫০ হাজার কৃষক সমবায় সমিতি রয়েছে। এ সমিতি নিয়ে বিআরডিবিও কাজ করছে। সমবায়ভিত্তিক চাষের আওতায় আনার জন্য পাশাপাশি জমির মালাকানা আছে এমন কৃষকদের নীতিমালার আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র আরো জানায়, নীতিমালা প্রণয়নে গঠিত উপ-কমিটি ইতোমধ্যে খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে উপকমিটির একটি সভা

ডাকা হয়েছে। এটি প্রথম সভা। খসড়া নীতিমালাটি প্রণয়ন করতে আরো কিছু সময় লাগবে বলে মনে করছেন উপকমিটির সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম শেখ।

এ বিষয়ে গঠিত সহজ কৃষি সমবায় নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, সমবায়ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি বিভাগ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের সমন্বয়ে গঠিত উপকমিটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে; হয়তো মাসখানেক বা তার একটু বেশি লাগতে পারে।

প্রসঙ্গত, কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সমবায়ের ভিত্তিতে জমি চাষাবাদ এবং ফসল বাজারজাতকরণের সুযোগ রেখে ২০২০ সালে ‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতিমালা’ অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের কৃষিতে সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ চালুর প্রতি জোর দিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ তিনি গত ২ মে সমবায়ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার নির্দেশনা দেন। এদিন সমবায়ভিত্তিক কৃষি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমবায়ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থায় সার, বীজ, চাষ ও মাড়াইয়ে সব ব্যবস্থাই সমবায়ের মাধ্যমে হবে। এখানে কৃষকের নিজের ব্যক্তিগতভাবে কোনো খরচ করতে হবে না। ওই ফসলের একটা অংশ সমবায়ের কাছে বা সরকারের কাছে থাকবে, যা পরবর্তী সময়ে চাষের জন্য ব্যবহার করা হবে। সেভাবেই আমরা এটা করতে চাইছি। যেটা জাতির পিতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু করতে দেয়া হয়নি। করতে দেয়া হলে আজ দেশে খাদ্যের ঘাটতি হতো না।

সূত্র: ভোরের কাগজ

সর্বশেষ

সর্বশেষ