সোমবার   ২০ মে ২০২৪ || ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১০:১২, ২২ এপ্রিল ২০২৪

আপডেট: ১০:১৬, ২২ এপ্রিল ২০২৪

তিন জেলায় ‘হিট স্ট্রোকে’ তিনজনের মৃত্যু

তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে, বৃষ্টির আভাস নেই

তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে, বৃষ্টির আভাস নেই
সংগৃহীত

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। তবে ঢাকাসহ দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে গতকালের তাপমাত্রা আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। এদিকে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে নরসিংদী, ঝালকাঠি ও সিলেটে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায়, ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিনে এ জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত শনিবার দেশের ১২ জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। এমন জেলা গতকাল ছিল ছয়টি। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে সেটি হয় তীব্র তাপপ্রবাহ। আর ৪২ ডিগ্রি বা তার চেয়ে বেশি হলে সেটা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। সে হিসেবে গতকাল তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল চার জেলা— টাঙ্গাইল, রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়ায়। আর অতি তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল চুয়াডাঙ্গা ও পাবনায়। চুয়াডাঙ্গা, পাবনা ও যশোরের তাপমাত্রা কয়েক দিন ধরেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রয়েছে।  

আবহাওয়া অধিদপ্তর তিনদিনের যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে আজ ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এর বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। গতকাল সিলেটে বৃষ্টি হলেও পরিমাণ ছিল খুবই কম, ৬ মিলিমিটার।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। অন্যান্য এলাকায় তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। অপরিবর্তিত থাকতে পারে সারা দেশের রাতের তাপমাত্রাও। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বিরাজ করতে পারে।

আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের ‍দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। অব্যাহত থাকতে পারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ। অপরিবর্তিত থাকতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে থাকবে অস্বস্তিও। এদিকে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে নরসিংদী, ঝালকাঠি ও সিলেটে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, হিট স্ট্রোকের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

নরসিংদীতে মারা যাওয়া যুবকের নাম সাফকাত জামিল ইবান। সদর উপজেলার মাধবদী এলাকার এ বাসিন্দা কাপড়ের ব্যবসা করতেন। গতকাল নারায়ণগঞ্জের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ফেরার সময় হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যু হয় তার। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহমুদুল কবির বাশার বলেন, ‘স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী জামিলের মৃত্যু হিট স্ট্রোকে হয়ে থাকতে পারে।’

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম আউরা গ্রামে মো. আফজাল তালুকদার (৪৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়। আফজাল তালুকদার ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ছিলেন। সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকায় মৃত্যু হয় এক রিকশা চালকের। তার নাম হানিফ মিয়া (৩৪)। তিনি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে পুলিশ বক্সের সামনে হানিফ মিয়া অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তীব্র গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু ও বয়স্করা। তীব্র তাপপ্রবাহের জেলাগুলোয় ডায়রিয়ার রোগী বেড়ে গেছে। অনেক হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি। 

চলমান তাপপ্রবাহের বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদা পারভিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখনো এল নিনো চলছে। এটা মে মাস পর্যন্ত থাকবে। লা নিনা শুরু হবে জুন থেকে।’ তিনি বলেন, ‘বছরের এ সময়ে তাপপ্রবাহ থাকে। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়া আরো বিরূপ হয়ে পড়ছে।’  

সূত্র: বণিক বার্তা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ