সোমবার   ২০ মে ২০২৪ || ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১০:০২, ২২ এপ্রিল ২০২৪

আপডেট: ১০:১৬, ২২ এপ্রিল ২০২৪

আজ ঢাকা আসছেন কাতারের আমির

আজ ঢাকা আসছেন কাতারের আমির
সংগৃহীত

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি দুদিনের সফরে আজ সোমবার ঢাকা আসছেন। গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ থেকে এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর। কাতারের আমিরের এ সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে।

একটি বিশেষ বিমানে আজ বিকেল ৫টায় কাতারের আমিরের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে স্বাগত জানাবেন।

প্রায় ১৯ বছর পর বন্ধুপ্রতিম দেশ কাতারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো ব্যক্তি ঢাকা সফরে আসছেন। এর আগে ২০০৫ সালের এপ্রিলে দেশটির তৎকালীন আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল সানি বাংলাদেশ সফর করেন।

কাতারের আমিরের সফর উপলক্ষে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমিরের ঢাকা সফরের সময়ে ১১টি দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)।

চুক্তিগুলো হলো দ্বৈতকর পরিহার ও কর ফাঁকিসংক্রান্ত, আইনগত বিষয়ে সহযোগিতা, সাগরপথে পরিবহন, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বদলি ও যৌথ ব্যবসা পরিষদ গঠনসংক্রান্ত চুক্তি।

এমওইউয়ের মধ্যে রয়েছে শ্রমশক্তিবিষয়ক, বন্দর পরিচালনা, উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যুব ও ক্রীড়া সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে কাতারের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তারপর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাতারের আমিরের সঙ্গে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং পরে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে কাতারের আমিরের সৌজন্যে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। ওইদিন সন্ধ্যায় বিশেষ বিমানযোগে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।

কাতারের আমিরের এ সফরের তাৎপর্য বিষয়ে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাতার মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার। সেখানে প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ সার্বভৌম তহবিল রয়েছে কাতারের এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের উৎস হতে পারে ওই তহবিল।

কাতার বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি আমদানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। কাতার বঙ্গবন্ধুর সরকারকালীন সময়ে (১৯৭৪ সালে) বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম মুসলিম রাষ্ট্র।

মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি কাতারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক, যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জ্বালানি, বিমান চলাচল, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ফিলিস্তিনিদের পক্ষে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাতার এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। কাতার হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। তাই স্বাভাবিকভাবে এ আলোচনা আসতেই পারে।

কাতারের আমিরের নামে ঢাকায় একটি সড়কের নামকরণ হবে জানিয়ে ড. হাছান বলেন, ঢাকা উত্তর সিটিতে মিরপুরের কালশী এলাকায় বালুর মাঠে নির্মিতব্য পার্ক এবং মিরপুর ইসিবি চত্বর থেকে কালশী উড়াল সেতু পর্যন্ত সড়কটি আমিরের নামে করা হবে।

এদিকে সরকার এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে কাতারের আমিরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। এ সফর উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতারের আমিরের ছবি দিয়ে ঢাকার কয়েকটি রাস্তা সাজানো হয়েছে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ