বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৪ || ৪ বৈশাখ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১৫:০৪, ১ মার্চ ২০২৪

নতুন মন্ত্রীদের শপথ আজ, বিবেচনায় তিনটি বিষয়

নতুন মন্ত্রীদের শপথ আজ, বিবেচনায় তিনটি বিষয়
সংগৃহীত

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নতুন সরকার হিসেবে শপথ নিয়েছে গত ১১ জানুয়ারি। ওই দিন নতুন সরকারের ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। দ্বিতীয় দফায় আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর শপথ হবে। বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে বলেন, মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনে হবে এই শপথ অনুষ্ঠান। তবে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, আকার কেমন হচ্ছে, এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। শপথের জন্য কাউকে ফোন দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নেরও জবাব  মেলেনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২ মার্চ শনিবার দিবাগত রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করবেন। এ ছাড়া আগামী রবিবার শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। এ জন্য আজ দ্বিতীয় দফায় নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনে হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

গত বুধবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সদস্য শপথ নিয়েছেন। শপথগ্রহণের পরই তাঁরা সংসদে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হতে পারে। কারণ সংস্কৃতিবিষয়ক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত মন্ত্রী দেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন যে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করা হবে শিগগিরই। তবে এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে জানা যায়নি। কারা মন্ত্রী হতে পারেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনাকল্পনা চলছে।

নতুন মন্ত্রিসভার বিবেচনায় তিনটি বিষয়

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদলের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, নারী সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে মন্ত্রী। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাঁরা প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত হননি, তাঁদের অন্তর্ভুক্তি। তৃতীয়ত, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গত সরকারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিলেন ৪৫ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী। অনেকেই মনে করছেন মন্ত্রিসভায় আট থেকে ১০টি নতুন মুখ আসতে পারে। এ ছাড়া একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দেওয়া হতে পারে। এমনকি দু-একজন মন্ত্রীর দপ্তর বদলের কথাও আলোচিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

বর্তমান মন্ত্রিসভা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেশ কিছু বড় মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এসব মন্ত্রণালয়ে অতীতে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত একজন সদস্যকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। ওই নারী সদস্য এবার দ্বিতীয় দফায় সংরক্ষিত আসনে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পর পর দুইবার সংরক্ষিত নারী সদস্য হওয়ার নজির কম। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েও একজন প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হতে পারে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী ছাড়াও প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী দেওয়া হয়েছে। এবার এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে এককভাবে দায়িত্ব পালন করছেন তাজুল ইসলাম। এই মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। একটি সূত্র বলছে, উত্তরবঙ্গ থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কম হয়েছেন। স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদটি উত্তরবঙ্গের কেউ পেতে পারেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে যশোর এবং কিশোরগঞ্জের দুজন সংসদ সদস্যের বিষয়ে আলোচনা আছে। দুজনেরই পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও একজন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি একজন পূর্ণ মন্ত্রী দেওয়া হয়েছে বরাবরই। এবার এখন পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ‌মেদ পলক একাই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী বা বিভাগ ভাগ করে আরেকজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আছে। চট্টগ্রামের একজন সংসদ সদস্যের কথা শোনা যায়।

২০০৯ ও ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের জায়গা দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁরা আর সরকারে আসতে পারেননি। এবারও অনেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তবে আওয়ামী লীগের সূত্র বলছে, দলের সভাপতিমণ্ডলী এবং সম্পাদকমণ্ডলীর তিন-চারজন নেতা এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। তাঁরা এখনো আশা ছাড়েননি। বর্তমান সরকার পুরোপুরি আওয়ামী লীগের। এতে জোট বা শরিকদের জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এ ছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভায় ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রাধান্য দেখা গেছে। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব কম। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে আগের মন্ত্রিসভার চেয়ে এবার কম প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এই বিবেচনায় এবার কম পাওয়া বিভাগ ও দীর্ঘদিন মন্ত্রী না থাকা জেলাগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা আছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ

শিরোনাম

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপনদেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরঈদে বেড়েছে রেমিট্যান্স, ফের ২০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রিজার্ভ১৪ কিলোমিটার আলপনা বিশ্বরেকর্ডের আশায়তাপপ্রবাহ বাড়বে, পহেলা বৈশাখে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪০ ডিগ্রিতেনেইমারের বাবার দেনা পরিশোধ করলেন আলভেজ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কী? কীভাবে করবেন?বান্দরবানে পর্যটক ভ্রমণে দেয়া নির্দেশনা চারটি স্থগিতআয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দনসুইজারল্যান্ডে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় কিবৈসাবি উৎসবের আমেজে ভাসছে ৩ পার্বত্য জেলাসবাই ঈদের নামাজে গেলে শাহনাজের ঘরে ঢুকে প্রেমিক রাজু, অতঃপর...