বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ || ৯ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৬:৫৫, ২৮ নভেম্বর ২০২৩

জনগণ-গার্মেন্ট বাঁচাতে ভোট স্বচ্ছ করতে হবে

জনগণ-গার্মেন্ট বাঁচাতে ভোট স্বচ্ছ করতে হবে
সংগৃহীত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আমাদের নির্বাচনে কিন্তু বাইরে থেকেও থাবা, হাত এসে পড়েছে। তারা থাবা বিস্তার করে রেখেছে। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের অনেক কিছুই রক্ষার জন্য এই নির্বাচন ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল করতে হবে। 

তিনি বলেন, আমাকে যেভাবে ইউনাইটেড স্টেট (আমেরিকা) কমান্ড করতে পারে, আমি ঠিক সেইভাবে ওয়াশিংটনে গিয়ে হুমকি-ধমকি করতে পারছি না। এটা একটা বাস্তবতা।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিইসি এসব কথা বলেন। কমিটির সদস্য হিসাবে যুগ্ম জেলা জজ ও সহকারী জজ এ প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এ সময় সিইসি নির্বাচন নিয়ে দেশ সংকটে আছে বলেও মন্তব্য করেন। 

বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোটের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের দাবি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, জনগণকে বাঁচাতে হলে ও গার্মেন্টসকে বাঁচাতে হলে বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনটা ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল হতে হবে। এখানে কোনো রকম কারচুপির আশ্রয় নেওয়া যাবে না। দাবিটা আমাদের জনগণের এবং বাইরেরও। 

ওরাও খুব বেশি দাবি করেনি, একটাই দাবি। কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা যদি বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র। তাহলে নির্বাচন ছাড়া কখনোই প্রজাতন্ত্র হতে পারে না। প্রজাতন্ত্র মানেই হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা যে শাসন। 

গণতন্ত্রকে যদি বাঁচিয়ে রাখতে হয়, তাহলে নির্বাচনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক দেশে এখনো, সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এই নির্বাচনের ফেয়ারনেসকে উপলক্ষ্য করে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিভক্ত হয়ে গেছে। এটি কাঙ্ক্ষিত ছিল না।

নির্বাচন ক্রেডিবল, ফ্রি ও ফেয়ার হয়েছে কি না সেটা পাবলিক পারসেপশন। পাবলিক পারসেপশনেরও কিন্তু মানদণ্ড নেই। তারপরও পাবলিক পারসেপশন বলে একটি কথা আছে এটি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। জনগণকে বলতে হবে যে নির্বাচনটা ফ্রি ও ফেয়ার হয়েছে। আমরা একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশন চাচ্ছি। 

সিইসি বলেন, নির্বাচন নিয়ে দেশ একটা সংকটে আছে। বিশ্বাস, অবিশ্বাসের দোলাচলে আছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এখানে সবাইকে সমভাবে দায়িত্বপালন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে। একটা দেশ বা জাতি একটা জেনারেশনকে নিয়ে থেমে থাকে না। 
আমাদের গণতন্ত্রে মাঝে মাঝে ধাক্কা লাগে। সামরিক শাসন, গণঅভ্যুত্থান ইত্যাদি হয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় এখনো স্থিরভাবে ৫০ বছর আমরা এগোতে পারিনি, এটা সত্য। কিন্তু আমরা চাইব শাসনতান্ত্রিক যে ধারাবাহিকতা যেখানে নির্বাচন আছে, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন আছে, গণতন্ত্র আছে, প্রজাতন্ত্রের কথা আছে, সেই সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে। 

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলোতে অনিয়ম হয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, আমরা অতিসম্প্রতি খুব কষ্ট পেয়েছি যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং লক্ষ্মীপুর-৩ উপনির্বাচনেও সিল মারা হয়েছে। আমরা সেটি প্রতিহত করতে পারিনি। আমাদের প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রতিহত করতে পারেনি। এটা লজ্জার। এই সিল মারাটাও কিন্তু আমাদের নির্বাচনের সংস্কৃতির একটা অংশ হয়ে গেছে। এটা মন্দ সংস্কৃতি। পেশিশক্তি ব্যবহার করা, কালো টাকা ব্যবহার করা এবং এই ধরনের কারচুপি করা দীর্ঘদিন ধরে চর্চার মাধ্যমে একটা অপসংস্কৃতির চর্চা হয়ে গেছে। ক্রমান্বয়ে আমাদেরকে এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জুডিশিয়াল জজদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, বিচার বিভাগের কাজ হলো স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা। হয়তো পুরোপুরি সেটি নেই। 
তারপর দেশের মানুষ এখনো স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কর্মচারী হিসাবে যাদের বিবেচনা করে থাকে তারা হচ্ছেন বিচারক। মানুষের আস্থাটা বিচার বিভাগের ওপর বা বিচারকদের ওপর অনেক বেশি। নিজেকে স্বাধীন ভাবতে হবে। দায়িত্বপালনের সময় আপনাদের সাহসিকতা এবং সততা দুটোই যেন থাকে। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । 

আমরা হয়তো সফল হব, নয়তো ব্যর্থ হব। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ার চিন্তা আমরা করছি না। আমরা অবশ্যই সফল হব। আমরা দেখতে চাই, যারা ভোটার তারা ভোট দিতে আসতে পারছেন। তাদেরকে পথে কেউ বাধা দিচ্ছে না। যদি বাধা দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচন প্রভাবিত হয়ে গেল, নির্বাচন অবাধ হলো না। আমরা দেখতে চাই তারা সমস্ত কেন্দ্রে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। 

আরেকটা জিনিস দেখতে চাই, লাইনটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে নেই। যদি থেমে থাকে তাহলে মনে করা হবে ভেতরে এই কাজটি করা হচ্ছে। লাইনটা চলমান থাকতে হবে। লাইনটি গ্রাজুয়ালি ভেতরে প্রবেশ করছে কি না তা দৃশ্যমান হতে হবে। তারপর দেখতে হবে ওরা ভেতর থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসছে কি না। নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিকে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। 

তিনি বলেন, ভোটের আগের ২১ দিন প্রচার করতে পারবেন প্রার্থীরা। এর আগে নয়। আমাদের আইনে বলা হয়েছে, প্রার্থী চূড়ান্ত হবেন ১৮ ডিসেম্বর। এর পরপরই তারা প্রকৃত প্রচারণায় নেমে যাবেন। এই প্রচারণার সময়টাকে কিন্তু আমাদেরকে ডাবল অ্যাটেনশন দিতে হবে। ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এসএম আসাদ্দুজ্জামান।

সূত্র: যুগান্তর

সর্বশেষ

জনপ্রিয়