বুধবার   ১৯ জুন ২০২৪ || ৬ আষাঢ় ১৪৩১

প্রকাশিত: ০৮:৫৭, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

প্রত্যাশার তিন প্রকল্প চালু হচ্ছে অক্টোবরে

প্রত্যাশার তিন প্রকল্প চালু হচ্ছে অক্টোবরে

আগামী মাসের মধ্যেই চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশার সড়ক, ওভারপাস এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। চট্টগ্রামের লাখো মানুষের বহুল প্রত্যাশার প্রকল্পগুলোর কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। রাতে দিনে কাজ চালিয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সবগুলো প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করার চেষ্টা চলছে এবং এগুলো যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটারের সিডিএ–এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অক্টোবরের মধ্যেই চালু করে দেয়া হবে। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। বহুল প্রত্যাশার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কোথাও ঢালাই হচ্ছে, কোথাও রাস্তা তৈরি হচ্ছে কোথাও বা পিচ ঢালাই দেয়ার কাজ চলছে। বঙ্গমাতার নামে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ফৌজদারহাট বায়েজিদ লিংক রোড। রাস্তাটির নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হলেও একটি রেলওয়ে ব্রিজের জন্য প্রকল্পটির কাজ শেষ করা যাচ্ছিল না। অবশেষে সেই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ চলতি মধ্য অক্টোবরে শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। ফলে অক্টোবরের মধ্যেই বঙ্গমাতা সড়ক উদ্বোধন করে ব্রিজের উপর দিয়ে যান চলাচল শুরু করা হবে। সিডিএর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ব্রিজের উচ্চতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সিদ্ধান্তেই নতুন করে গতি পেয়েছে। ব্রিজের কাজ শেষ হলেই এই প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি মিলবে। নগরীর যান চলাচলে নতুন গতি আনার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছিল বাকলিয়া এক্সেস রোডের নির্মাণ কাজ।

বিতর্কিত একটি ১০তলা ভবনের জন্য রাস্তাটির মাত্র একশ’ মিটার জায়গার নির্মাণ কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছিল প্রায় পাঁচ বছর। অবশেষে নতুন এ্যালাইনমেন্টে রাস্তাটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। জানে আলম দোভাষের নামে দেওয়া রাস্তাটির কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর চন্দনপুরা থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত ১ দশমিক ৬শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ বাকলিয়া এক্সেস রোড আগামী মাসেই উদ্বোধন করা হবে। সড়কটি ৬০ ফুট প্রস্থ করে নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন এই রাস্তা নগরীর যান চলাচলে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হয়ে ওঠা পতেঙ্গা ফৌজদারহাট আউটার রিং রোডের ফিডার রোড–৩ আটকা পড়েছিল রেল লাইনের উপর একটি ওভারপাসের জন্য। প্রায় ৭শ’ মিটার দৈর্ঘ্যের ওভারপাসটির কেবলমাত্র একটি স্প্যান আটকা পড়েছিল উচ্চতার গ্যাঁড়াকলে পড়ে। সাগরিকা থেকে আউটার রিং রোড পর্যন্ত এই ফিডার রোডটি চালু না হওয়ায় নগরীর হাজার হাজার মানুষকে বিমানবন্দর বা পতেঙ্গা যেতে ফৌজদারহাট ঘুরে রিং রোডে যাতায়াত করতে হতো। ফিডার রোড–৩ চালু হলে পাহাড়তলী–অলংকার মোড় কিংবা আগ্রাবাদ এক্সেস রোড থেকে সাগরিকা হয়ে আউটার রিং রোডে যাতায়াত করা যাবে। অবশেষে সেই ব্রিজটির কাজও শেষ হচ্ছে। মাত্র এক বা দুইদিনের কাজ রয়েছে ব্রিজে। এই ব্রিজটি চালু করে দেয়া হলে যে কেউ ফিডার রোড–৩ ধরে নগরী থেকে রিং রোডে যাতায়াত করতে পারবেন। বিমানবন্দরসহ সন্নিহিত অঞ্চলের যাতায়াতে নতুন গতিশীলতা তৈরি হবে। আগামী অক্টোবরে ফিডার রোড– ৩ উদ্বোধন করা হবে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কাজী হাসান বিন শামস বলেছেন, আমাদের অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রকল্প চালু হলে নগরীর যান চলাচলে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

সর্বশেষ