শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪ || ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১২:৪০, ২২ মার্চ ২০২৩

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে খুশি তৃতীয় লিঙ্গের আলো

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে খুশি তৃতীয় লিঙ্গের আলো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চতুর্থ পর্যায়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে এক যোগে নতুন ঘর হস্তান্তর করলেও এই প্রথম দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বীটতলা গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ ও মাতা রেখা আক্তারের ছোট সন্তান তৃতীয় লিঙ্গের(হিজরা) আলো আক্তার ওরফে আলম(৩০) আশ্রয়ন প্রল্পের ঘর পেয়ে মহাখুশি৷ 

আলো আক্তার ওরফে আলম জানান,আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ও কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সভাপতি মেজর জেনারেল(অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া এবং দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মহিনুল হাসানের প্রচেষ্ঠায় চতুর্থ পর্যায়ে আশ্রয়ন প্রল্পের ঘর পেয়ে মহাখুশি হয়েছি৷ 

আমি যতদিন বেঁচে থাকবো আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য মন খুলে দোয়া করবো৷ যাতে করে মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন৷ তিনি বলেন, এদেশের অবহেলিত মানুষ গুলোর উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারকে  আবারো ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহবান জানান৷

আলো আক্তার(হিজরা)বলেন,দীর্ঘদিন যাবত আমার বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কোন রকম মানুষের কাছে ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাই৷ আমি জম্মগত ভাবে হিজরা হওয়ার কারনে ছোট বেলা থেকে এলাকার মানুষজন আমাকে নিয়ে বিভিন্ন কুটক্তি করতো তারপরও বেঁচে থাকার সংগ্রামে মানুষের ধারে ধারে একজন অসহায়ের মতো দু'মুঠো ভাতের জন্য বিভিন্ন সময় মানুষের কাছে যেতে হয়৷ 

কিন্তু অবহেলা আর লাঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে প্রতিনিয়ত৷ তবেও আমি থেমে থাকিনি৷ আলো আক্তার আরো বলেন,আমরা দুই ভাই দুই বোন বাবা মারা যাওয়া আগে আমার বড় বোনের বিয়ে হয়ে যায়৷ এরপর বড় দুইভাই আমি তৃতীয় লিঙ্গে(হিজরা)হওয়া আমাকে এবং মা রেখা আক্তারকে ঘর থেকে বের করে দেয়৷ বড় দুই ভাই বর্তমানে ইলিয়টগঞ্জ বাজারে ভ্যান চালায়৷

আলো আক্তারের মা রেখা আক্তার বলেন, আমি আলো ওরফে আলমকে পেটে ধরেছি,সে হোক হিজরা কিন্তু মা হিসেবে তাকে ফেলে যেতে পারিনা আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মহিনুল হাসান আমাকে এবং আমার সন্তানকে সরকারী ঘর বরাদ্দের ব্যবস্থা করার জন্য সবসময় দোয়া করবো৷ 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মহিনুল হাসান বলেন,আলো আক্তার ওরফে মো: আলম সমাজের পিছিয়ে পড়া  তৃতীয় লিংগের জনগোষ্ঠীর একজন অবহেলিত সদস্য। একসময় পরিবার ও  সমাজ থেকে ছিটকে পড়া আলম এখন তার মাকে নিয়ে নতুন করে বাচার স্বপ্ন দেখেন। 

প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণের ঘর আলো আক্তার ওরফে মো: আলমের হাতে তুলে দিতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ এমন এক মহৎ উদ্যোগের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দানের জন্য।

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ