মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ || ৩ আষাঢ় ১৪৩১

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ১৭ মে ২০২৪

দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে নাবিক সাব্বিরকে ঘরে তুললেন মা

দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে নাবিক সাব্বিরকে ঘরে তুললেন মা
সংগৃহীত

সোমালিয়ার জ*লদস্যুদের হাতে জি*ম্মি টাঙ্গাইলের নাবিক সাব্বিরের বাড়িতে যেন ঈদের আনন্দ। জ*লদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন সাব্বিরের বৃদ্ধ মা-বাবা, বোন, বন্ধুসহ স্বজনরা। 

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে টাঙ্গাইল শহরের আদালত পাড়া তার বোনের বাড়িতে পৌঁছালে সাব্বিরকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ঘরে তুলে নেন তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা। সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর ৬৫ দিন বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরেন সাব্বির।

এদিকে সাব্বিরকে পেয়ে পরিবারের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সাব্বির ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা তাকে এক নজর দেখার জন্য তার বাড়িতে ভিড় জমায়। সাব্বিরকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে আর বিপদ আপদ মুক্ত থাকার কামনায় দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ঘরে তোলেন দুই খালা ও বোন।

নাবিক সাব্বির বলেন, যখন জলদস্যুরা আমাদের জাহাজ তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, তখন থেকে আমরা তাদের কাছে বন্দি ছিলাম। তবে জাহাজে আমরা যে যার কাজ ঠিকঠাক মতো করেছি, রোজা রেখেছি, নামাজও পড়েছি। ছাড়া পেয়ে সেই ঈদের আনন্দটাই আল্লাহ যেন এখন দিয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, ভয়ের বিষয় ছিল, জলদস্যুরা সময় অসময়ে ফাঁকা গুলি ছুড়তো, সে সময় আমরা ভীষণ আতঙ্কিত হতাম। নেভির জাহাজ আমাদের জাহাজের আশপাশে আসলে তারা আমাদের সে সময় মুভ করতে দিত না।

সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার জানান, এখন আমার ভাই ফিরে এসেছে, আমরা অনেক খুশি। ওকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ঘরে তুলেছি। ভবিষ্যতে যেন আর ওর বিপদ না আসে। 

প্রসঙ্গত, গত (১৪ এপ্রিল) ভোরে জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হয় এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজসহ ২৩ নাবিক। এরপর জাহাজটি পৌঁছে দুবাই এর আল হামরিয়া বন্দরে। সেখান থেকে মিনা সাকার নামের আরেকটি বন্দরে চুনা পাথর ভর্তি করার পর চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সব মিলিয়ে ৬৫ দিন পর মুক্ত হয়ে নাবিকরা বাংলাদেশে এসে স্বজনদের কাছে ফিরলেন।

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে ভারত মহাসাগর থেকে জিম্মি হন বাংলাদেশি জাহাজ এম ভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিক। এরমধ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজলোর সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে সাব্বিরও ছিলেন। শহরের কাগমারি সরকারি এম এম আলী কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে সর্বশেষ ২০২২ সালের জুন মাসে এম ভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্য বহনকারী একটি জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি নেন তিনি।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ

সর্বশেষ