বুধবার   ১৯ জুন ২০২৪ || ৬ আষাঢ় ১৪৩১

প্রকাশিত: ১৭:২৭, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নিমগাছ থেকে ঝরছে মিষ্টি রস, কৌতূহল

নিমগাছ থেকে ঝরছে মিষ্টি রস, কৌতূহল
সংগৃহীত

স্বাভাবিকভাবে নিমগাছের পাতা, কাঁচা ফল, বীজ, কাণ্ড ও রস তিতা হয়। কিন্তু হঠাৎ অলৌকিকভাবে নিমগাছ থেকে বেরোচ্ছে মিষ্টি রস। গাছ থেকে পাওয়া রস পান করছেন কেউ কেউ। কেউবা রোগবালাই থেকে মুক্তি লাভের আশায় সেই গাছ থেকে সংগ্রহ করছেন রস। আবার কেউ খবর পেয়ে গাছটি দেখতে ভিড় করছেন।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গড়াইপাড়া গ্রামে। মৃত মো. কালুর ছেলে নাসির আলীর বাড়ির গলিতে থাকা একটি নিমগাছ থেকে মিষ্টি রস বের হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, দুই সপ্তাহ ধরে গাছ থেকে অল্প-অল্প রস বের হলেও তিন দিন আগে থেকে পরিমাণ বেড়েছে। গ্রামের এক ব্যক্তি মুখে নিয়ে নিমগাছের রসে মিষ্টতা পান। পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। এরপর থেকেই গাছ দেখতে ছুটে আসছেন উৎসুক জনতা। নিমগাছের পাতা, কাঁচা ফল, বীজ, কাণ্ড ও রস স্বাভাবিকভাবে তিতা হলেও এই গাছের রস মিষ্টি হওয়ায় হতবাক গ্রামবাসী।

চরবাগডাঙ্গা ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, দুই সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করেই গাছটি দিয়ে ফেনাযুক্ত রস বের হতে দেখা যায়। কিন্তু গত তিন দিন ধরে এর পরিমাণ বেড়েছে। কেউ একজন মুখে মিষ্টি বলার পর সবাই এসে মুখে নিয়ে বিশ্বাস করছে। কেউ কেউ আবার দূর-দূরান্ত থেকে নিমগাছের এমন অদ্ভুত কার্যক্রম দেখতে সরেজমিনে আসছেন। কেউ কেউ এসে ছবিও তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়ছেন।

তিনি বলেন, গ্রামের অনেক মানুষের বিশ্বাস, এটি মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন গাছ। তাই নিমগাছটির রস পান করলে বিভিন্ন রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এমন বিশ্বাস থেকে অনেকেই রস সংগ্রহ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পান করছেন। তবে গ্রামে এখন পর্যন্ত এই রস পান করে কেউ সুস্থ হয়েছেন বলে জানা যায়নি।

কলেজছাত্র আব্দুল আহাদ বলেন, নিমের গাছ থেকে কখনো রস বের হয়েছে বলে দেখেনি। কি কারণে এ গাছটি থেকে কেন রস বের হচ্ছে তা জানা নেই কারো। বিষয়টি উদ্ভিদ বিজ্ঞানের গবেষকদের পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

এদিকে আল্লাহর নিয়ামত উল্লেখ করে অনেকেই রোগ মুক্তির আসায় পান করছেন নিমগাছের রস। গলেনূর বেগম নামে একজন বাটি নিয়ে এসেছেন একটু রসের আশায়। তিনি বলেন। কয়েকদিন থেকে শুনে আজ এসেছি, আল্লাহর কুদরত খেয়ে দেখি রোগবালাই ভালো হবে।

বৃদ্ধ হানিফ মোল্লা বলেন, আমরা জানি, নিমগাছের পাকা ফল ছাড়া বাকি সবকিছুই তিতা। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে গত কয়েকদিন থেকে আমাদের গ্রামের একটি নিমগাছ থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে রস বের হচ্ছে, এর স্বাদ মিষ্টি। আমি নিজেও পান করে দেখেছি। হুবহু খেজুরের রসের মতো। আমার ৬৫ বছরের জীবনে কখনো এমন অদ্ভুত ব্যাপার দেখিনি। 

ওসমান আলী নামে আরেকজন বলেন, শুধু স্বাদই নয়, নিমগাছটি থেকে বের হওয়া রসের গন্ধও খেজুরের রসের মতো। এই রসপানে রোগবালাই ভালো হবে এই বিশ্বাস করে অনেকেই গাছের বিভিন্ন স্থানে বোতল টানিয়ে রস সংগ্রহ করছে। এমনকি রস বের হওয়ার ধরনটিও খেজুরের গাছের মতোই ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছে। তবে দিনের থেকে রাতে বেশি পরিমাণে রস বের হচ্ছে। এছাড়াও এতবেশি রস প্রবাহিত হচ্ছে যে, গাছের গোঁড়া ভিজে থাকছে সবসময়ই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে মৃত বাবা-মায়ের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে প্রায় ২৪ বছরের নিমগাছটি গড়াইপাড়া জামে মসজিদের নামে দান করেছেন গাছের মালিক নাসির আলী। 

তিনি বলেন, গাছটি দান করা হয়েছে। তবে এর আগে থেকেই রস বের হচ্ছে। এমনকি মসজিদ কমিটিও গাছটি বিক্রি করেছে। কখন কাটা হবে তা জানা নেই। এরই মধ্যে গাছ থেকে রস বের হওয়ার পরিমাণ বেড়েছে এবং তা সংগ্রহ করার হিড়িক পড়েছে।

বড়াইপাড়া জামে মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. মহসীন আলী বলেন, গাছটি দান পাওয়ার পর মসজিদ কমিটি ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। ক্রেতা ২ হাজার টাকাও দিয়েছে। গাছ যেদিন কাটবে, সেদিন বাকি টাকাও পরিশোধ করার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে গাছ নিয়ে হুলস্থূল কাণ্ড পড়ে গেছে। 

প্রভাষক আমিরুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। মাটির নিচের গুণাগুণসহ বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে এমনটি হতে পারে। 

সূত্র: ডেইলি-বাংলাদেশ

সর্বশেষ

সর্বশেষ