শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ || ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১২:০৩, ২৮ জানুয়ারি ২০২৪

ইউটিউব দেখে রঙিন কপি চাষে বাজিমাত পাবনার আসলামের

ইউটিউব দেখে রঙিন কপি চাষে বাজিমাত পাবনার আসলামের
সংগৃহীত

ইউটিউবে রঙিন ফুলকপির চাষ দেখে পছন্দ হয় স্কুল পড়ুয়া দুই মেয়ের। এরপর বাবাকে রঙিন এই কপি চাষের কথা বলে। তখন তাদের বাবা আসলাম আলী ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করে দেড় বিঘা জমিতে সাড়ে ৭ হাজার পিস কপির চারা রোপণ করেন।

চাষের প্রথম বছরেই সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পাবনা সদর উপজেলার বিলভেদুরিয়া গ্রামের ওমর আলীর ছেলে কৃষক আসলাম আলী। এর আগে দুই থেকে তিন বিঘা জমিতে সাদা ফুলকপির চাষাবাদ করেই এতদিন চলেছে তার সংসার। এবার নতুন জাতের ব্যতিক্রমী রঙিন ফুলকপি চাষ করে পেয়েছেন দারুণ সাফল্য।

আসলাম আলী ঢাকা থেকে বেগুনি রঙের ভেলেনটিনা ও হলুদ রঙের কেরটিনা জাতের রঙিন কপির বীজ নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে সাড়ে ৭ হাজারের মতো কপি গাছ রোপণ করেছিলেন। কেরটিনা জাতের হলুদ রঙের ফুলকপি ইতোমধ্যে বাজারজাত করতে শুরু করেছেন তিনি। গত ২০ জানুয়ারি এই রঙিন ফুলকপি বাজারে নিয়ে এসেই বাজিমাত করেন আসলাম। এই সপ্তাহে বাজারজাত করতে শুরু করেছেন বেগুনি রঙের ভেলেনটিনারও।

রঙিন কপির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ থাকায় তিনি ভালো দাম পাচ্ছেন। বাজারে সাধারণ কপি ৩০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তার রঙিন ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।

আসলাম আলী বলেন, দুই মেয়ে ইউটিউবে দেখে আমাকে বিষয়টি আবাদের জন্য বলেছিল। এরপর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করলে তারা বলে রঙিন কপির বিষয়ে তাদের তেমন জানা নেই। এরপর ইউটিউব থেকে নম্বর সংগ্রহ করে মাগুরা যাই। সেখানে ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করার কথা বলে। আমি ঢাকা গিয়ে বীজ সংগ্রহ করে নিয়ে আসি। যদিও এই বীজের দাম বেশি।

রঙিন কপির আবাদের আগে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বর্তমানে চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছি। বাম্পার ফলন আর ভালো দাম পাওয়ায় এখন সবাই খুশি। এখন আমার খেতের হলুদ আর বেগুনি রঙের বিদেশি জাতের কপি দেখতে ভিড় করছে স্থানীয় লোকজন। বাজারেও রঙিন ফুলকপির চাহিদা ও দাম বাড়ায় ভালো লাভের আশা করছি। বাজারে নিয়ে গেলে ক্রেতারা দ্রুত কিনে নেয়।

তিনি আরও বলেন, এক বিঘা জমিতে সাদা কপি চাষের খরচ ২০-২৫ হাজার টাকা লাগে। বিক্রি হয় ৪০-৫০ হাজার টাকায়। আর রঙিন ফুলকপিতে এক বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার হবে বলে ধারণা  করছি। আর দেড় বিঘা জমির রঙিন ফুলকপি প্রায় দুই লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।   

তার বাবা ওমর আলী বলেন, দুই নাতনি মোবাইলে রঙিন কপি দেখে এই আবাদের কথা বলে। দেখা গেল এই কপি এই জেলায় আবাদ হয় না। তাই ছেলে বলল রঙিন কপি আবাদ করব। কাউকে বলা যাবে না। যদি ফলন না হয় তাহলে মানুষজন মশকরা করবে। আলহামদুলিল্লাহ প্রথম আবাদেই সফলতা আসছে। অন্য কপির তুলনায় এই কপিতে আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হওয়া যায়।

এলাকার যুবক রাকিব হোসেন বলেন, আমি নিজেই ২০/২৫ আইটেমের সবজির আবাদ করে থাকি। কিন্তু রঙিন ফুলকপি এই প্রথম আমাদের এলাকায় আবাদ করা হয়েছে। সামনের মৌসুম থেকে আমিও এটা আবাদ করার চেষ্টা করব।

শহরের সবজি বিক্রেতা নান্নু শেখ বলেন, সবজি চাষি আসলাম অনেক আগ থেকে পালং শাকসহ দেশি ফুলকপি ও বাধাকপি পাইকারিভাবে সরবরাহ করতো। এ বছর প্রথম রঙিন ফুলকপি সরবরাহ করছে। যা তিনি নিজেই চাষ করেছেন। রঙিন ফুলকপি ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্বাদও সাদা কপির থেকে অনেক ভালো। প্রথমে কয়েকদিন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হলেও বর্তমানে প্রতি কেজি ৮০/৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। 

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, বিদেশে বিভিন্ন রঙিন কপি আবাদ হলেও আমাদের দেশে তেমন আবাদ শুরু হয়নি। কিছু মানুষ ঢাকা থেকে বীজ সংসহ করে আবাদ করে সাফল্যও পাচ্ছেন। সদরের কৃষক আসলাম জাপানি জাতের রঙিন কপি চাষে বেশ সাফল্য পেয়েছে। আগামী মৌসুমে যাতে এ অঞ্চলে বেশি আবাদ হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়