মঙ্গলবার   ১৬ এপ্রিল ২০২৪ || ২ বৈশাখ ১৪৩১

প্রকাশিত: ০৬:০২, ৬ জানুয়ারি ২০২৩

কেঁচো চাষে বদলে গেছে মানিকের জীবন

কেঁচো চাষে বদলে গেছে মানিকের জীবন

জমির উর্বরতা আর ফসলের রোগ বালাই কম হয় এবং ভাল ফলন হয় কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্টে। আর এই কেঁচো সার তৈরি করে ব্যবহার ও বিক্রিতে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পল্লীর শিয়ালখেদা গ্রামের মানিক বর্মা। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে এ সার তৈরিতে ফ্রিতে প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন তিনি। 

গত ২ বছরে প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। টবে ২৫০ গ্রাম কেঁচো সার থেকে গত ১৫ বছরে বেড়ে এখন নিজবাড়ী সংলগ্ন ৩৩ শতক জমিতে প্রতি মাসে ৫০ টন কেঁচো সার তৈরি করছেন। কেঁচো ও সার দুটোই বিক্রি করেন তিনি। কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকে বেকার যুবকের। জমির উর্বরতা রক্ষায় কেঁচো সার ব্যবহার কৃষকের ভরাসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন অনেকের কাছেই ‘কেঁচো মানিক’ বলে পরিচিত হয়ে উঠেছেন তিনি।

নিজ বাড়ি-সংলগ্ন ৩৩ শতক জমিতে বড় টিনের ছাউনি। ছাউনির নিচে কেঁচো সার প্রস্তুত হচ্ছে। মেঝেতে বিছানো গোবর। আটজন শ্রমিক গোবর শুকাচ্ছেন। আবার কেউ শুকনা গোবর বস্তায় ভরে ওজন করছেন। ১০ কেজি থেকে ১ টন পর্যন্ত সার কিনছেন কৃষক। তার এই সার স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। কেঁচো প্রতি কেজি ২০০০ টাকা এবং সার প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। কেঁচো সার বিক্রি করেই পাকা বাড়ি ছাড়াও প্রতি মাসে খরচ বাদে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি। এখন তিনি শতাধিক গরুর খামার গড়তে চেষ্ঠা করছেন। তিনি এখন অনেক বেকার যুবকের কাছে অনুকরণীয় হয়েছেন।

মানিক বর্মা ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। পরে বাসায় কয়েকটি টবে কেঁচো আর গোবরের মিশ্রণে সার তৈরি শুরু করেন। পরে বাড়ি সংলগ্ন ৩৩ শতক জমিতে গড়ে তোলেন ‘সবুজ স্বপ্ন অ্যাগ্রো ফার্ম’। আটজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন খামারে। প্রতি মাসে উৎপাদিত হয় প্রায় ৫০ টন কেঁচো সার।

মানিক বর্মা জানান, প্রতি টন সার প্রস্তুত করতে ১০ কেজি কেঁচো দরকার। ৩০ দিন পর থেকে পাওয়া যায় ৭৫০ কেজি সার। সাধারণত কেঁচো বাঁচে ৯৫ দিন। এ সময়ে দুবার গড়ে চারটি করে ডিম দেয়। ফলদ গাছ বা উঁচু জমির ফসলে পরপর তিনবার এ সার ব্যবহারে ডিম থেকে উৎপন্ন কেঁচো ওই স্থানে নিজে থেকেই সার উৎপাদন করতে থাকে। ফলে পরবর্তী দু-তিনটি ফসলে সার ব্যবহার না করলেও চলে। জমিতে কেঁচো সার ব্যবহারে বিঘা প্রতি কমপক্ষে ২০০০ টাকা সাশ্রয় হয়। এ সারে গাছের অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি খাদ্য উপাদানের ১০টিই বিদ্যমান।

কয়েকজন কৃষক জানায়, এ সার ব্যবহারের ফলে জমিতে রাসায়নিক সার কম ব্যবহার করতে হচ্ছে। মানিকের কাছে নিয়মিত সার কেনেন মুসলিম পাটোয়ারি। এ সার ব্যবহারে ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় কম হয়।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরে দুই শতাধিক উদ্যোক্তা কেঁচো চাষের যুক্ত রয়েছেন। গত অর্থবছরে জেলায় কেঁচো সারের উৎপাদন ছিল ২ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন জানা যায়।

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ

শিরোনাম

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপনদেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরঈদে বেড়েছে রেমিট্যান্স, ফের ২০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রিজার্ভ১৪ কিলোমিটার আলপনা বিশ্বরেকর্ডের আশায়তাপপ্রবাহ বাড়বে, পহেলা বৈশাখে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪০ ডিগ্রিতেনেইমারের বাবার দেনা পরিশোধ করলেন আলভেজ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কী? কীভাবে করবেন?বান্দরবানে পর্যটক ভ্রমণে দেয়া নির্দেশনা চারটি স্থগিতআয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দনসুইজারল্যান্ডে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় কিবৈসাবি উৎসবের আমেজে ভাসছে ৩ পার্বত্য জেলাসবাই ঈদের নামাজে গেলে শাহনাজের ঘরে ঢুকে প্রেমিক রাজু, অতঃপর...