• শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চায়না কমলা চাষে স্কুলশিক্ষকের চমক!

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২২  

শখের বশে কমলার চাষ শুরু করে এখন তা বাণিজ্যিক রূপ ধারন করেছে। আগে ধারনা ছিল যে শুধু পাহাড়েই কমলার চাষ করা যায়। সমতলেও যে কমলার চাষ করা সম্ভব তা বাস্তবে করে দেখালেন স্কুলশিক্ষক জাকির আহমেদ উজ্জল। বর্তমান তার বাগানের প্রায় প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় ঝুলছে শত শত হলুদ রঙের কমলা। তার বাগানটি দেখতে প্রতিদিন মানুষ ভীড় করছে।

জানা যায়, জাকির আহমেদ উজ্জল নাটোর সদর উপজেলার গাজীপুর বিল এলাকার বাসিন্দা। তিনি হয়বতপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ২০১৯ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে কমলার চারা সংগ্রহ করে বাগান শুরু করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি কমলা চাষি হিসেবেও সফল হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ তিন বছরের পরিচর্যা আর পরিশ্রমে এ বছর প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে কমলা এসেছে। বর্তমানে ফলের ভারে কমলা গাছগুলো নুয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জাকির আহমেদের প্রায় সব গাছেই থোকায় থোকায় ঝুঁলছে হলুদ রঙের কমলা। এইগুলো চায়না জাতের কমলা। স্থানীয়ভাবে চায়না মোমপালিশ কমলা নামে পরিচিত। তার বাগানটি দেখতে প্রতিদিন শত শত উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থী ভিড় করছেন। কমলা গুলো খেতে খুবই মিষ্ট ও সুস্বাদু। দর্শনার্থীরা খেয়ে প্রশংসা করেছেন।

বাগান মালিক কৃষি উদ্যোক্তা জাকির আহমেদ উজ্জল বলেন, ফলের বাগান করা আমার অনেকদিনে স্বপ্ন। সিদ্ধান্ত নেই কমলার চাষ করবো। ২০১৯ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে ২০০টি কমলার চারা সংগ্রহ করি। প্রায় ২ বছরেই ফলন আসে। সমতল ভূমিতে ফলন আসা নিয়ে সংশয় কেটে গেছে।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যাশার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি ফলন এসেছে। দূর থেকে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। অনেক দূর দুলান্ত থেকে লোকজন বাগান দেখতে আসে। সবাই কমলা খেয়ে প্রসংশা করছে। কমলার স্বাদ গুন দুটোই ভালো বলছেন তারা। অনেকেই চারা কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতিদিন বাগান থেকে কমলার সঙ্গে সঙ্গে চারা বিক্রি করছি। এতে আমার ভালো লাভ হচ্ছে।

কমলার চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে দিলে বেকারত্ব দূর হবে বলে মনে করেন তিনি।

নাটোরের চৌরি গ্রাম থেকে কমলা বাগান দেখতে আসা সোহেল রানা বলেন, বাগানটি দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। গাছে অনেক পরিমানে কমলা ধরেছে। বাগানটি দেখে আমারো কমলার বাগান করতে ইচ্ছা করছে।

দর্শনার্থী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জাকির আহমেদের বাগানটি না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না যে নাটোরের মাটিতেও বিদেশি ফলের চাষ সম্ভব। তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এই জেলার অনেক কৃষক পাহাড়ি চায়না কমলা চাষ করছেন। ধীরে ধীরে সমতল ভূমিতেও এর চাষ বাড়ছে। আমরা চাষিদের সব ধরনের সহযোগীতা ও পরামর্শ দিচ্ছি।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা