• বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

  • || ১১ মুহররম ১৪৪৪

পদ্মার চরে কলা চাষ করে লাখ টাকা আয় কৃষকের

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২২  

অল্প খরচ ও ফলন ভালো সব মিলে ঈশ্বরদীতে আবাদ বেড়েছে কলাচাষের। অধিক ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে কৃষক, হচ্ছে ভাগ্য বদল। কলাচাষে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলে। সবুজ পাতার মধ্যে ঝুলে থাকা হাজার হাজার কলার কাঁদি হাসি ফুটিয়েছে চাষিদের মুখে। ঈশ্বরদীতে পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে যতদূর দুই চোখ যাবে শুধু দেখা মিলবে কলাবাগান। কৃষকদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতাও এসেছে কলাচাষে।

বিলকেদার চরের কলাচাষি সুজন সরদার বলেন, ১০ বিঘা জমিতে কলা আবাদ করেছি। প্রতি বিঘায় চাষাবাদে খরচ হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি কলা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ চরে আগে গাজর, মুলা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ হতো। এসব ফসলে খরচ বেশি লাভ কম। তাই এখন সবাই কলার আবাদ শুরু করেছে।

কামালপুর চরের কলাচাষি গোলজার বিশ্বাস জানান, ৪০ বিঘা জমিতে কলার আবাদ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। কলার আবাদ করে এ চরের কৃষকরা খুবই লাভবান হচ্ছেন। কলাচাষে সার ও বীজ কম লাগে, শ্রমিক খরচ কম হয় পাশাপাশি অন্য ফসলের তুলনায় পরিশ্রমও কম হয়। কলা বিক্রি নিয়েও কোনো ঝামেলা নেই। পাইকারি ক্রেতারা বাগানে এসে কলা কিনে নিজস্ব পরিবহনে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, কলাচাষে লাভবান হয়ে বেশ কয়েকজন কৃষক সুন্দর পাকা বাড়ি করেছেন। অনেক কৃষক পাওয়ার ট্রিলার, ইঞ্জিনচালিত ট্রাক্টর ও হারভেস্টার মেশিন কিনেছেন।

দাদাপুর চরের কলাচাষি মনোয়ারা বলেন, কলাচাষে এ চরের কৃষকদের ভাগ্য বদলে গেছে। এখানকার অসংখ্য কৃষক এখন আর্থিকভাবে সচ্ছল। ৩০ বিঘা জমিতে কলা আবাদ করেছি। বিঘাপ্রতি লাভ হয়েছে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। চরে এখন আর কলা ছাড়া অন্য আবাদ নেই বললেই চলে। অথচ পাঁচ বছর আগেও এ চরে কেউ কলার আবাদ করত না।

ল²ীকুণ্ডা ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুল আলিম বলেন, কলাচাষে এ ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে। অধিকাংশ চাষি কলাচাষে ঝুঁকছেন। বিঘাপ্রতি কলাচাষে খরচ ৪৫-৫০ হাজার টাকা। কলা বিক্রি হয় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। এখানে সবরি কলা বেশি আবাদ হয়। পাশাপাশি সাগর কলা, মেহর সাগর কলা ও অমৃত সাগর কলার আবাদও হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার ভোরের কাগজকে বলেন, উপজেলায় এবার ১ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে কলার চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ল²ীকুণ্ডা ইউনিয়নেই ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে কলা আবাদ হয়েছে।

কলাচাষে লাভবান হওয়ায় ইউনিয়নের কামালপুর, দাদাপুর, লক্ষীকুণ্ডা, কৈকুণ্ডা ও ডিগ্রির চরজুড়ে কৃষকরা অন্য ফসল না করে এবার শুধু কলার আবাদ করেছেন। পদ্মার চরাঞ্চলে এবার কলার ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা লাভবান হওয়ায় প্রতি বছরই আবাদ বাড়ছে। কলাচাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা