• বুধবার   ১২ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৮ ১৪২৮

  • || ২৮ রমজান ১৪৪২

জাকাত যাদেরকে দেয়া যাবে না

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৪ মে ২০২১  

জাকাত ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। এ বিধান পালনে প্রয়োজন সঠিক পথ ও পন্থা। বণ্টন সঠিকভাবে না করলে জাকাত আদায় হবে না। জাকাত শব্দটি পবিত্র কোরআনে আছে ৩২ বার, নামাজের সঙ্গে কোরআন মজিদে আছে ২৬ বার; স্বতন্ত্রভাবে কোরআনে আছে চারবার; পবিত্রতা অর্থে দু’বার।

মহান আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে বলেন, জাকাত কেবল ফকির মিসকিন ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণে জর্জরিত ব্যক্তিদের জন্য, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। (তওবা-৬০)

যাদেরকে জাকাত দেবেন না-

* নিসাব পরিমাণ মালের অধিকারী বা ধনীকে জাকাত দেয়া যাবে না (মুসাফির ব্যতিত)। যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু জাকাত আসে না এমন অন্য ধরণের সম্পদ আছে এমন ব্যক্তিকেও জাকাত দেয়া যাবে না। যেমন ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও নিসাবের সমমূল্য পরিমাণ আছে। (বাদায়েউস সানায়ে ২/১৫৮)

* জাকাতের টাকা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে না। ব্যয় করা হলে জাকাত আদায় হবে না। যেমন- রাস্তাঘাট, পুল নির্মাণ করা, কূপ খনন করা, বিদ্যুৎ-পানি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা। কেননা শরিয়তে জাকাতের বিধান দেয়া হয়েছে ব্যক্তির প্রয়োজন পূরণের জন্য; সামাজিক কাজের জন্য নয়। জাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদ-মাদরাসার বিল্ডিং নির্মাণ করা, ওয়াজ-মাহফিলে ব্যয় করা জায়েজ নয়। বরং জাকাতের টাকা তার হকদারকেই মালিক বানিয়ে দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও জাকাত আদায় হবে না। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদিস : ৬৯৪৭, ৬৯৪৮, ৭১৩৭, ৭১৭০; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৪)

* নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, পরদাদা প্রমুখ ব্যক্তি- যারা তার জন্মের উৎস তাদের নিজের জাকাত দেয়া জায়েজ নয়। একইভাবে স্বামী-স্ত্রী, নিজের ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি এবং তাদের অধস্তনকে নিজ সম্পদের জাকাত দেয়া জায়েজ নয়। (রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮)

* সম্পদশালীর নাবালক পুত্র-কন্যাকে জাকাত দেয়া যাবে না।

* কুরাইশ বংশের বনু-হাশিমের অন্তর্গত আব্বাস, জাফর, আকীল (রা.) এর বংশধরের জন্য জাকাত গ্রহণ বৈধ নয়।

* অমুসলিম ব্যক্তিকে জাকাত দেয়া যাবে না।

* যেসব প্রতিষ্ঠানে ধনী-গরীব সবাই সেবা পায় সেখানে জাকাত দেয়া যাবে না। যেমন- মসজিদ, মাদরাসা (এতিম ফান্ড বা লিল্লাহ বোডিং ব্যতিত), শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র, সেতু, টিউবয়েল, কুপ, পুকুর, রাস্তাঘাট ইত্যাদি।

* প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের এতিমখানা/লিল্লাহ বোডিংয়ের জন্য
জাকাত আদায়কারী নিযুক্ত হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু হাদিয়া/উপহার হিসাবে দেয়া যাবে না।

* উপার্জন ব্যক্তি যদি উপার্জন ছেড়ে দিয়ে নামাজ-রোজা ইত্যাদি নফল ইবাদতে মশগুল হয়ে যায় তাকে জাকাত দেয়া যাবে না।

* উপার্জন অলস ব্যক্তিকে জাকাত দেয়া যাবে না।

* নিজের চাকরকে জাকাতের টাকায় বেতন-ভাতা দেয়া যাবে না।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা