• শনিবার   ২১ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৯

  • || ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

অভিনব কায়দায় তিন মিনিটেই ব্যাংকের সব টাকা লুট

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১ মে ২০২২  

একটি এসএমএস এসেছিল সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইল ফোনে। চাইলেই এড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু কৌতুহলবশত মেসেজ পাঠানো নম্বরে ফোন করে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরপাড়ার এ বাসিন্দা। 

সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ হয়েছিলেন প্রবীণ সোমনাথ। চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়। কিছু টাকা ফিরে পান বিমার দৌলতে। সেই টাকাই ছিল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। সেই টাকাই লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছেন সোমনাথ।

মঙ্গলবারই উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। রাজ্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়। তবে টাকা ফিরে পাওয়া যাবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

পুলিশ সূত্রে জানা জায়, সম্প্রতি এক নতুন পদ্ধতিতে ব্যাংকে জমা রাখা টাকা লোপাটের জালিয়াত চক্র সক্রিয় হয়েছে। সেই রকমই এক চক্রের ফাঁদে পা দিয়েছেন সোমনাথ। মঙ্গলবার সকালে তার কাছে একটি মেসেজ আসে। তাতে লেখা, ফোনের সিম আপডেট করতে হবে। ওই নম্বরে পাল্টা ফোন করেন সোমনাথ। 

তখনই অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে সংশ্লিষ্ট টেলিকম কাস্টমার কেয়ার ডেস্কের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বলেন, আপনি এখনই অনলাইনে ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে কিছু টাকার রিচার্জ করুন। সে জন্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। জালিয়াত চক্রের প্রতিনিধির কথা মতো সরল বিশ্বাসে সব নির্দেশ পালন করেন সোমনাথ। এরপরই তিনি ভুল বুঝতে পারেন। কিন্তু ততক্ষণে যা সর্বনাশ হওয়ার তা হয়ে গেছে। সোমনাথ দেখেন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২৫ হাজার টাকা লোপাট। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সব বুঝে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি ব্লক করেন। কিন্তু ততক্ষণে আরো দু’বার ২৫ হাজার টাকা করে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। মিনিট তিনেকের মধ্যে সোমনাথের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৭৫ হাজার টাকা উধাও। 

সোমনাথ জানিয়েছেন জালিয়াত চক্রের প্রতিনিধির নির্দেশমতো তিনি গুগল প্লে স্টোরে ‘কেওয়াইসি কিউএস অ্যাপ’ (kyc qs app) টাইপ করে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেন। এরপর ফোনে রিচার্জ করেন। 

পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় আনন্দবাজার অনলাইন তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, তারা গুগল প্লে স্টোরে ‘কেওয়াইসি কিউএস অ্যাপ’ টাইপ করে দেখেছে তাতে ‘টিম ভিউয়ার কুইক সাপোর্ট’ নামে একটি অ্যাপ খুলছে। এই অ্যাপ কোনো ফোনে থাকা খুবই বিপজ্জনক। এর ফলে কোনো লেনদেন করলে তাতে ব্যবহার করা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর থেকে পাসওয়ার্ড বা ওটিপি সবই জালিয়াত চক্র অন্য ফোন থেকে দেখতে পায়। সেই পদ্ধতিতেই সোমনাথের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা লোপাট হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশও। 

ইদানিং ফোনের সিম থেকে এটিএম কার্ড আপডেটের জন্য ফোন বা এসএমএস আসছে অনেকেরই কাছে। কখনো কখনো আকর্ষণীয় উপহারের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লোপাট যাওয়ার অভিযোগও অনেক।সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষে এ নিয়ে গ্রাহকদের সতর্কও করা শুরু হয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) আগেই টুইট করে সতর্ক করেছিল গ্রাহকদের। এবার সব গ্রাহকের ফোনেই মেসেজ পাঠানো শুরু হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো অচেনা ব্যক্তির কথায় বা পরামর্শে কিছু অ্যাপ ডাউনলোড করলেই বিপদের ঝুঁকি। এভাবে হ্যাকাররা গ্রাহকদের লেনদেন সংক্রান্ত গোপন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। 

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা