• মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৫ ১৪২৯

  • || ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

মানুষ কি আল্লাহর বন্ধু হতে পারে

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২২  

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস হলো আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর প্রিয় ও বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপছন্দ করেন, শত্রু হিসেবে গ্রহণ করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ইবরাহিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১২৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ ইবরাহিমকে যেমন একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তেমন আমাকেও একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৭৫)

আল্লামা ইবনুল আম্বারি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-কে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন তার অর্থ হলো তিনি আল্লাহকে ভালোবাসতেন এবং আল্লাহ তাঁকে ভালোবাসেন।

আর তাতে কোনো ত্রুটি বা অপূর্ণতা নেই। ’ (আজ-জাহিরু ফি-মাআনি কালিমাতিন্নাস : ১/৪৯৩)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁর আনুগত্যের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য। কেননা তিনি মানবজাতির অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এমনকি মানুষ যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে তার চূড়ান্ত স্তরে তিনি পৌঁছেছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি ভালোবাসার চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছেছিলেন। আর তা হলো নিজ প্রতিপালকের অধিক আনুগত্য। আল্লাহ তাঁকে সেই গুণেই ভূষিত করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘ইবরাহিম তার দায়িত্ব পালন করেছিল। ’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩৭; তাফসিরে ইবনে কাসির : ২/৪২২)

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘ভালোবাসা ও হৃদ্যতা আল্লাহর দুটি গুণ। যে দুটি গুণে আল্লাহ নিজেকে গুণান্বিত করেছেন। তবে আল্লাহর গুণাবলি বিশেষ কোনো রূপ বা সাদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। বান্দার ভেতরও হৃদ্যতা ও ভালোবাসার গুণ আছে, তবে তার নির্ধারিত সীমা ও অবয়ব আছে। ’ (মাজমুউল ফাতাওয়া : ৫/৮০)

আল-মাউসুয়াতুল আকাদিয়া

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা