• বুধবার   ২৯ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৪ ১৪২৯

  • || ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

৬ রোজার যে ৯ বিষয় জানা জরুরি

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২২  

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসের রোজা পালনকারীদের শাওয়াল মাসে ৬ রোজা রাখার মাধ্যমে বছরজুড়ে রোজার সওয়াব পাওয়ার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের সব ফরজ রোজাগুলো রাখলো; এরপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখলো, সে যেন সারাবছর ধরেই রোজা রাখলো।’ (মুসলিম)

ঈদের মাসে ৬ রোজা রাখা প্রসঙ্গে ৯ বিষয় জানার আগ্রহ অনেকের। যা অনেকেরই জানা নেই। তাহলো-

১. শাওয়ালে ৬ রোজা রাখার উপকারিতা কী?

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা রাখল অতঃপর শাওয়াল মাসে (পুরো শাওয়াল মাসের মধ্যে যে কোনো সময়) ৬টি রোজা রাখল; ওই ব্যক্তি সারা বছর রোজা রাখার সমান সাওয়াব পাবে।’ (মুসলিম)

সারাবছর রোজার সওয়াব পাওয়ার কারণ

৬ রোজার ফজিলত সম্পর্কে ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, রমজান মাস ২৯/৩০ হয়ে থাকে। যদি ৩০ ধরা হয় আর শাওয়ালের ৬ রোজা ধরা হয় তবে রোজা হয় ৩৬টি। আর আল্লাহ তাআলার ঘোষণা-

যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে ১০গুণ বাড়িয়ে দেন।’

সে হিসেবে ৩৬টি রোজায় ১০ গুণ সওয়াব পেলে ফলাফল হয় ৩৬০ দিন অর্থাৎ বছরজুড়ে রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। আর এভাবেই রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়ালের ৬ রোজা পালনকারী রোজাদার সারা বছর রোজা রাখার সাওয়াব পায়।

২. রমজানের রোজা কবুল হওয়ার প্রমাণ কি ৬ রোজা?

রমজানের ফরজ রোজাগুলো কবুল হলো কিনা এর একটি আলামত হলো- রমজানের ফরজ রোজা পালনকারী ব্যক্তির ৬ রোজা রাখা। যদি কারো রমজানের রোজা কবুল হয় তবে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার তাওফিক দান করেন।

কারণ বান্দার কোনো আমল কবুল হয়েছে কিনা তার আলামত হচ্ছে- আগের নেক আমলের ধারা পরবর্তীতে ধরে রাখা। যেমনিভাবে রমজানের রোজা পালনকারী রমজান পরবর্তী শাওয়াল মাসে আবারও রোজা পালনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করে। আর তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।

৩. শাওয়ালের ৬ রোজা কি ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে?

শাওয়ালের ৬টি রোজা একটানা রাখতে হবে নাকি বিরতি দিয়ে রাখা যাবে। এর সঙ্গে রোজা হওয়া-না হওয়ার বিষয় জড়িত আছে কিনা। বিষয়টি হলো-

‘শাওয়ালের ৬টি রোজা একটানা না রেখে বিরতি দিয়ে রাখলেও আদায় হয়ে যাবে। কেউ যদি একটানা রোজা রাখে তাতেও আদায় হয়ে যাবে।’ কারণ হাদিসের কোনো বর্ণনায় শাওয়ালের ৬ রোজা একসঙ্গে রাখার ব্যাপারে কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি।

৪. শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার সহজ উপায় কী?

সাপ্তাহিক (সোম ও বৃহস্পতিবার এবং মাসিক (১৩-১৫ শাওয়াল আইয়্যামে বিজের) রোজার সঙ্গে মিল রেখে সহজেই ৬ রোজা রাখা যায়। আর এতে বেশি কষ্টও হয় না। কারণ সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখলেই পুরো মাসে সহজে ৬টি রোজা রাখা সহজ হয়ে যায়। আবার আইয়্যামে বিজের ৩টি রোজা একসঙ্গে রেখে অন্য সময়ে ৩টি রোজা রাখার মাধ্যমেও ৬ রোজা রাখা যায়। তবে কেউ যদি একটানা ৬টি রোজা রাখে তাতেও কোনো সমস্যা নেই।

৫. শাওয়ালের ৬ রোজার নিয়ত কখন করতে হয়?

শাওয়াল মাসের ৬ রোজার নিয়ত সন্ধ্যায় কিংবা রাতেই করতে হবে। পরের দিন সূর্য ওঠার পর করলে হবে না। পবিত্র রমজান মাসে ভোর রাতে ওঠার একটা অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। সে সময় সেহরি খেয়ে রমজানের রোজা পালনকারীরা রোজার নিয়ত করে থাকেন।

কিন্তু শাওয়ালের ৬ রোজার ক্ষেত্রে কারো যদি ঘুম থেকে ওঠার পর স্মরণ হয় বা মনে করে যে, রাতে তো খাবার খাওয়া হয় নাই; সুতরাং শাওয়ালের ৬ রোজার নিয়ত করে ফেলি। তবে কি রোজা হবে?

‘না’, এমনটি করলে রোজা হবে না। কারণ শাওয়ালের ৬ রোজাসহ নফল রোজা রাখার ক্ষেত্রে নিয়ত রাত থেকে করতে হবে। কেউ যদি সন্ধ্যা রাতে নিয়ত করে ফেলে যে, আমি আগামীকাল রোজা রাখবো আর দিনের বেলা রোজা পালন করে তবে ওই ব্যক্তির রোজা হয়ে যাবে। কিন্তু সন্ধ্যা বা রাতে নিয়ত না করে সূর্য ওঠার পর ঘুম থেকে ওঠে রোজার নিয়ত করলে রোজা হবে না।

৬. কাজা বা ভাঙতি রোজা থাকলে আগে কোন রোজা রাখতে হয়?

হ্যাঁ, অবশ্যই আগে রমজানের ভাঙতি/কাজা রোজা রাখতে হবে। তারপর শাওয়ালের ৬ রোজা রাখবে। কারণ শাওয়ালের রোজার সাওয়াব ঘোষিত হয়েছে তাদের জন্য যারা রমজানের রোজা পূর্ণ করেছে। কেননা হাদিসে এমনই নির্দেশনা ও শর্ত দেওয়া হয়েছে।

আর রমজানের রোজা পালনকারী ব্যক্তি শাওয়ালের ৬ রাখলেই কেবল ৩৬ দিন পূর্ণ হবে। আর তা ৩৬০ দিনের সওয়াব হিসেবে পরিগণিত হবে।

সুতরাং যদি কারো অসুস্থতা বা সফরের কারণে ভাঙতি রোজা থাকে। আর মা-বোনদের নিয়মিত অসুস্থতার কারণে ভাঙতি রোজা থাকে তবে তা আগে আদায় করতে হবে। তারপর শাওয়ালের ৬ রোজা রাখতে হবে।

৭. সুন্নাত রোজা পালনের সময় ৬ রোজার নিয়ত করলে হবে কি?

সাপ্তাহিক সোম ও বৃহস্পতিবার এবং আইয়্যামে বিজ তথা চন্দ্র মাসের ১৩-১৪-১৫ তারিখ রোজা রাখা সুন্নাত। এখন কেউ যদি এ রোজাগুলো রাখার সময় শাওয়ালের ৬ রোজার নিয়ত করে তবে শাওয়ালের রোজা আদায় হবে কি?

হ্যাঁ, সাপ্তাহিক ও মাসিক (চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ) রোজা রাখার সময় কেউ যদি শাওয়ালের ৬ রাখার নিয়ত করে তবে তার শাওয়ালের রোজা আদায় হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ। তবে যে কোনো একটির নিয়ত করতে হবে। হয় সাপ্তাহিক/মাসিক রোজার নিয়ত নতুবা শাওয়ালের ৬ রোজার।

৮. শাওয়ালে ৬ রোজা না রেখে অন্য কোনো সময় এ রোজা রাখলে কি হাদিসে ঘোষিত সওয়াব হবে?

’না’, শাওয়াল মাস চলে যাওয়ার পর (অন্য মাসে) ৬ রোজা (কাজা) রাখলে হাদিসে ঘোষিত ৬ রোজায় সারা ছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যাবে না। কারণ ৬ রোজা রমজানের রোজা পালনকারীর জন্য শাওয়াল মাসের মধ্যে রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। যারা শর্ত পূরণ করতে পারবে, তারাই বছরজুড়ে রোজা রাখার সওয়াব পাবে। এ সওয়াব শাওয়াল মাসে রোজা রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

৯. শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার জন্য কি তারাবিহ নামাজ পড়তে হয়?

‘না’, ৬ রোজার জন্য তারাবিহ নামাজ পড়তে হয় না। রমজান মাসের রোজা রাখার সময় রাতে যেভাবে তারাবিহ আদায় করা হয়, সেভাবে ৬ রোজার জন্য তারাবিহ পড়া লাগে না।

সুতরাং রমজানের সব রোজা পালনকারী মুমিন মুসলমানের উচিত বছরজুড়ে রোজা রাখার সাওয়াব পেতে শাওয়াল মাসে ৬টি রোজা একটানা কিংবা থেমে থেমে আদায় করা। আর তাতেই মিলবে বছরজুড়ে রোজা রাখার সাওয়াব।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শাওয়ালের ৬ রোজা যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। সারা বছর রোজা রাখার সাওয়াব পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা