• সোমবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১১ ১৪২৮

  • || ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আল কোরআনে মুমিনের জীবনচিত্র

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২১  

মুসলিমদের চারিত্রিক সৌন্দর্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা কোরআনে নিপুণভাবে বর্ণিত হয়েছে। যারা কোরআন তিলাওয়াত করে এবং কোরআনের অর্থ ও মর্ম উপলব্ধি করতে চায়, তাদের কাছে বৈশিষ্ট্যগুলো খুবই সুস্পষ্ট। কোরআনের বিভিন্ন সুরা ও আয়াতে তাদের নিপুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। সুরা আরাফে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমার সৃষ্টির মধ্যে এমন একটা দল রয়েছে, যারা সৎপথের ওপর অবিচল, আর সঠিকভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৮১)

সৎ জীবনে চলার পথের পাথেয় এবং সত্যই তাদের গন্তব্য। সৎপথের দিকেই তারা মানুষকে ডেকে যায়। সত্যের আলোকছটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে যায়। সৎপথের নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞা দিয়েই তারা ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের মধ্যে কেউ ধর্ম ত্যাগ করলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ শিগগিরই এমন একটা দল নিয়ে আসবেন, যাদের তিনি পছন্দ করবেন এবং তারাও আল্লাহকে পছন্দ করবে। তারা মুমিনদের প্রতি খুবই কোমল ও সদয় আর কাফেরদের প্রতি কঠোর ও নির্দয় হবে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে এবং নিন্দুকের নিন্দাকে তারা ভয় করবে না। আর তা আল্লাহর অনুগ্রহ। যাকে তাঁর পছন্দ একমাত্র তাকেই এই অনুগ্রহ দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যশীল ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৫৪)

মুমিনরা আল্লাহর সঙ্গে ভালোবাসা ও প্রীতিপূর্ণ সম্পর্কে আবদ্ধ হবে। মুমিনদের সঙ্গে সদয় ও কোমলতাপূর্ণ আচরণ করবে। কিন্তু অবিশ্বাসীদের সঙ্গে হবে কঠোর। সত্যকে বাঁচাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সত্যকে আগলে রাখাই তাদের জীবনে মূল লক্ষ্য। আর মানুষের কল্যাণকামিতা ও পরোপকারিতার মাঝেই তারা জীবনের অর্থ খোঁজে। আল্লাহর কথা বলতে গিয়ে দ্বিধা করে না, ভয় পায় না। নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করে না।

 

সুরা তাওবাতে তাদের স্বভাব ও চরিত্র, প্রকৃতি ও মন-মেজাজ এবং আচার ও পদ্ধতি আরো চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তাদের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য তাদের মুনাফিকদের কুটিলতা ও ধূর্ততা থেকে আলাদা করে দেয়। মুনাফিকরা চরিত্রে ও মানসিকতায় একে অপরের থেকে অভিন্ন, তাদের রূপ, স্বরূপ ও অবয়ব একই। কোরআনে তাদের পরিচয় তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘তারা একে অপরের সহযোগী। খারাপ কাজের নির্দেশ দেয়, ভালো কাজ থেকে নিষেধ করে এবং তারা দান করে না, হাত গুটিয়ে রাখে।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৬৭)

কিন্তু মুমিনরা তেমন নয়। তারা ব্যতিক্রম। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মুমিন নারী ও পুরুষ একে অপরের বন্ধু ও সহযোগী। তারা ভালো কাজের নির্দেশ করে এবং খারাপ কাজ থেকে বারণ করে। নামাজ কায়েম করে, জাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ ও রাসুলের অনুসরণ করে। আল্লাহ অচিরেই এদের সাহায্য করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৭১)

সুরা বাকারার শুরুতেই এই মুমিন দলের কথা আমরা পাই, যেখানে মুত্তাকিদের কথা বর্ণিত হয়েছে, কোরআনের আলোয় আলোকিত মানুষের কথা বিবৃত হয়েছে। কোরআন বলছে, ‘এরাই যারা সত্য কথা বলেছে, আর এরাই হলো মুত্তাকি।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭৭)

সুরা মুমিনুনের শুরুতে জান্নাতুল ফেরদৌসের উত্তরাধিকারীদের বর্ণনা পাওয়া যায়। সুরা ফোরকানের শেষের দিকে পাওয়া যায় আল্লাহর নেক বান্দাদের বিবরণ। সুরা রা’দে আসে বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তির গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের কথা। কোরআন বলছে, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে করা প্রতিশ্রতি পূর্ণ করে এবং কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে না।’ (সুরা রা’দ, আয়াত : ০২)

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা