• মঙ্গলবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৫ ১৪২৮

  • || ১২ সফর ১৪৪৩

যেসব জিকিরে মুমিন বান্দা দিন শুরু করেন

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার নামের স্মরণে রয়েছে অনেক রহমত ও বরকত। অন্তরে প্রশান্তি লাভের অন্যতম হাতিয়ার হলো জিকির। কেননা অন্তরে সুখ ও শান্তি লাভের জন্য আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক ঘোষিত ও পরীক্ষিত চিকিৎসাও এটি। এ সম্পর্কে আল্লাহ ঘোষণা করেন- ‘যারা ঈমান গ্রহণ করেছে, আল্লাহর জিকির দ্বারা তাদের অন্তর শান্ত হয়। জেনে রাখ! আল্লাহর জিকিরের দ্বারাই তারা অন্তরে শান্তি লাভ করে।’ (সূরা: রাদ, আয়াত: ২৮)।

জিকির বা আল্লাহর স্মরণ কেন্দ্রিক হবে মুমিনের জীবন। সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা, ঘুমানোর আগে, পরে কিংবা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে সাধ্যমতো সদা-সর্বদা জিহ্বা ও অন্তরকে আল্লাহর স্মরণ তথা জিকিরে আদ্র করে রাখাই মুমিনের কাজ। তবে আল্লাহর স্মরণের জন্য দিনের শুরু তথা সকাল সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কারণ প্রত্যেক মুমিন বান্দাই সারাদিনের সব প্রতিকুলতার মোকাবেলায় জিকিরের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক খাদ্য ও শক্তি সংগ্রহ করে থাকে।

দিনের শুরুতে সকালের গুরুত্বপূর্ণ এ সময়টি আবার দুইভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হলো- ঘুম থেকে ওঠে ফজর নামাজ পড়া পর্যন্ত। দ্বিতীয় সময়টি হলো- ফজর নামাজের পর থেকে সালাতুদ দোহা বা চাশতের নামাজ পর্যন্ত।

প্রথম সময়ের জিকির
সাধারণত মুমিন বান্দা দিনের প্রথম সময়ে ঘুম থেকে ওঠে নামাজের প্রস্তুতি নেন। নামাজ পর্যন্ত আল্লাহর স্মরণে অনেক দোয়া-ই পড়ে থাকেন। তাহলো-

১. ঘুম থেকে ওঠে
হজরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান ও আবু যার (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে উঠে বলতেন-

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

উচ্চারণ : ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’

অর্থ : ‘সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে জীবিত করেছেন মৃত্যুর (ঘুমের) পরে, আর তার কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।’ (বুখারি, মুসলিম)

২. টয়লেটে প্রবেশ ও বাহিরে
ঘুম থেকে ওঠে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে টয়লেটে প্রবেশ এবং বাহির হতেও রয়েছে আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও ক্ষমা প্রার্থনার জিকির। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইস্তিঞ্জার জন্য গেলে এ দোয়াটি পড়তেন-

- بِسْمِ اللهِ اَللَّهُمَّ إنِّي أعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবায়িসি।’

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে; হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- অপবিত্রতা, অকল্যাণ, খারাপ কর্ম থেকে আর পুরুষ ও নারী শয়তান থেকে।’

- ইস্তিঞ্জার পরের জিকির

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইস্তিঞ্জা শেষে বেরিয়ে আসলে এই দোয়া পড়তেন-

غُفْرَانَكَ

উচ্চারণ : ‘গুফরানাকা।’

অর্থ : ‘আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।’ (তিরমিজি)

৩. অজু করতে জিকির

অজুর আগে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাত। তাই বিসমিল্লাহ বা পুরো বিসমিল্লাহ বলা-

- بسم الله ‘বিসমিল্লাহ’।

- بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْم

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

অর্থ : পরম করুণাময় দয়াবান আল্লাহর নামে।

৪. অজুর পরের জিকির
অজু করার পর ৩টি মাসনুন জিকির একাধিক হাদিসে ওঠে এসেছে। তাহলো-

> হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ সুন্দরভাবে এবং পরিপূর্ণভাবে অজু করে এরপর এ জিকির করবে-

أَشْهَدُ أَنَّ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ الله (وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ) وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

উচ্চারণ : ‘আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু (ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু) ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ : ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই (তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই) এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) তার বান্দা (দাস) ও রাসূল (প্ররিত বার্তা বাহক)।’

তবে জান্নাতের আটটি দরজাই তার জন্য খুলে দেওয়া হবে; সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা করবে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (মুসলিম)

> তিরমিজির এক বর্ণনায় এ  জিকিরটি ওঠে এসেছে-

اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَوَّابِينَ ، واجْعَلْني مِنَ المُتَطَهِّرِينَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাঝআলনি মিনাত তাওয়াবিনা ওয়াঝআলনি মিনাল মুতাত্বাহ্হিরিন।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে তাওবাকারীগণের অন্তর্ভূক্ত করুন এবং যারা গুরুত্ব ও পূর্ণতা সহকারে পবিত্রতা অর্জন করেন আমাকে তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করুন।’

> হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি কেউ অজু করার পরে উপরোক্ত দোয়া পড়ে-

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

উচ্চারণ : ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা, ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।’

অর্থ : ‘আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! এবং আপনার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে (তাওবা) করছি।’

তাহলে তা একটি পত্রে লিখে তার উপর সীলমোহর অঙ্কিত করে রেখে দেওয়া হবে। কেয়ামতের আগে সেই মোহর ভাঙ্গা হবে না।’ (নাসাঈ, তাবারানি)

৫. আজান শুনে জিকির
মুয়াজ্জিনের আজান শুনে উত্তর দেওয়া জিকির। হাদিসে এসেছে-

‘যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যেরূপ বলে তোমরাও অনুরূপ বলবে।’ (বুখারি)

মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলবে; তখণ শ্রোতা ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলবেন। এভাবে যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের সঙ্গে সঙ্গে আজানের বাক্যগুলি অন্তর থেকে বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসলিম)

৬. আজানের পর দরূদ
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শুনবে, তখন সে যেরূপ বলে তোমরাও অনুরূপ বলবে। এরপর আমার উপর সালাত (দরূদ) পড়বে। কারণ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়ে  আল্লাহ তাকে দশবার রহমত দান করেন। এরপর আমার জন্য ‘অসিলা’ চাইবে। কারণ অসিলা জান্নাতের সর্বোচচ স্থান, আল্লাহর একজন মাত্র বান্দাই এই মর্যাদা লাভ করবেন এবং আমি আশা করি আমিই হব সেই বান্দা। যে ব্যক্তি আমার জন্য অসিলা প্রার্থনা করবে; তার জন্য শাফায়াত প্রাপ্য হয়ে যাবে।’ (মুসলিম)

৭. আজানের পর দোয়া
হজরত জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুয়াজ্জিনের আজান শুনে যে ব্যক্তি বলবে-

اَللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاةِ الْقَائِمَةِ ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ ، وَابْعَثْهُ الْمَقَامَ الْمَحْمُودَ الَّذِي وَعَدْتَهُ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দাঅ্ওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ; আতি মুহাম্মাদান আল-ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাতা; ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমদুানিল্লাজি ওয়া আদতাহু।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহবান এবং আগত নামাজের তুমিই মালিক, মুহাম্মাদ (সা.) কে দান কর অসিলা (নৈকট্য) এবং সর্বোত্তম মর্যাদা আর তাকে অধিষ্ঠিত কর (বেহেশতের) সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানে। যা আপনি তাকে ওয়াদা করেছেন।’ তার জন্য কেয়ামতের দিন আমার শাফাআত পাওনা হয়ে যাবে।’ (বুখারি)

৮. মসজিদে উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া
সকালে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে বাড়ি থেকে বের হয়ে এ জিকির করা। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এই কথাগুলো বলবে-

بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে। আমি আল্লাহর উপর নির্ভর করলাম। কোনো অবলম্বন নেই এবং কোনো শক্তি নেই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া।

তাকে (আল্লাহর পক্ষ থেকে ) বলা হবে- তোমার আর কোনো চিন্তা নেই, তোমার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করা হলো (তোমাকে সঠিক পথ দেখানো হলো) এবং তোমাকে হেফাযত করা হলো। আর শয়তান তার থেকে দূরে চলে যায়।’ (তিরমিজি)

৯. মসজিদে প্রবেশে জিকির
মসজিদে প্রবেশ করতে আল্লাহর কাছে রহমত কামনার একাধিক জিকির এসেছে হাদিসে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন এই বাক্যগুলো বলতেন-

> أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم

উচ্চারণ : ‘আউজু বিল্লাহিল আজিম, ওয়া বি-ওয়াজহিহিল কারিম, ওয়া সুলতানিহিল কাদিমি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম।’

অর্থ : ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মহান আল্লাহর এবং তার সম্মানিত চেহারার এবং তার অনাদি ক্ষমতার, বিতাড়িত শয়তান থেকে।’

যদি কেউ তা বলে তাহলে শয়তান বলে, সারাদিনের জন্য এই ব্যক্তিকে আমার খপ্পর থেকে রক্ষা করা হলো।’ (আবু দাউদ)

> بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله اللهم افتح لي ابواب رحمتك

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসুলিল্লাহ। আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।’

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের উপর সালাত ও সালাম। হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলি খুলে দিন।’ (মুসলিম আবু দাউদ)

> اللهم اغفر لي وافتح لي أبواب رحمتك

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগফির লি, ওয়াফতাহ লি আবওয়াবা রাহমাতিকা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।’

> بسم الله والحمد لله اللهم صل على محمد وسلم اللهم اغفر لي وسهل لي أبواب رحمتك

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া সাল্লিম আল্লাহুম্মাগফির লি ওয়া সাহ্‌হিল লি আবওয়াবা রাহমাতিকা।’

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে এবং সব প্রশংসা আল্লাহর। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (সা.) এর উপর সালাত ও সালাম প্রদান করুন। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার করুণার দরজাগুলো সহজ করুন।’ (তিরমিজি)

১০. ফজরের সুন্নাত ও ফরজ নামাজ আদায় করা।

১১. নামাজের পরের জিকির করা-

> اَللهُ اَكْبَر - আল্লাহু আকবার : ১ বার।

> أستغفر الله – আসতাগফিরুল্লাহ : ৩ বার।

> اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু, তাবারাকতা ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনিই সালাম (শান্তি), আপনার থেকেই শান্তি (আসে), হে মহাসম্মানের অধিকারী ও মর্যাদা প্রদানের অধিকারী, আপনি বরকতময়।’ (এক বার)

> لَا إِلَهَ إلا الله وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ له له الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وهو على كل شَيْءٍ قَدِيرٌ اللهم لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ ولا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ ولا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আল্লাহুম্মা লা মানিয়া লিমা আত্বাইতা, ওয়ালা মুত্বিয়া লিমা মানাতা, ওয়ালা ইয়ানফাউ জাল ঝাদ্দি মিনকাল ঝাদ্দু।

অর্থ : ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তারই এবং প্রশংসা তারই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই। আর আপনি যা না দেন তা দেওয়ার ক্ষমতাও কারো নেই। কোনো পরিশ্রমকারীর পরিশ্রম আপনার ইচ্ছার বাইরে কোনো উপকারে লাগে না।’

> আয়াতুল কুরসি

اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ- আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মাং জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইংদাহু ইল্লা বি-ইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিয়্যুল আজিম।’

অর্থ : (তিনিই) আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং ঘুমও নয়। সবই তার, আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু রয়েছে। কে আছ এমন- যে সুপারিশ করবে তার কাছে তার অনুমতি ছাড়া? (চোখের সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তার জ্ঞানের সীমা থেকে কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টিত করতে পারবে না, কিন্তু ‘হ্যাঁ’, তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। সমগ্র আসমান এবং জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে তার সিংহাসন। আর সেগুলোকে ধারণ (নিয়ন্ত্রণ) করা তাঁর জন্য কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।’

> سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খালকিহি; ওয়া রিদাআ নাফসিহি; ওয়া যিনাতা আরশিহি; ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।’

অর্থ : ‘আল্লাহ পবিত্র আর প্রশংসাও তার; এ পবিত্রতা ও প্রশংসা তার সৃষ্ট বস্তুর সমান। তার নিজের সন্তুষ্টু সমান। (পবিত্রতা ও প্রশংসায় তিনি) তার আরশের ওজনের সমান। (পবিত্রতা ও প্রশংসায় তিনি) তার বাণীসমূহ লেখার কালির পরিমাণের সমান।’ (মুসলিম)

> اَللَّهُمَّ عَافِنِىْ فِىْ بَدَنِى - اَللَّهُمَّ عَافِنِىْ فِىْ سَمْعِىْ - اَللَّهُمَّ عَافِنىِ فِىْ بَصَرِىْ – لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আফেনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফেনি ফি সাময়ি, আল্লাহুম্মা আফেনি বি বাসারি; লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নাই।’

> بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়্যুন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস্সামায়ি ওয়া হুয়াস্‌সামিউল আলিম।’

অর্থ : ‘ওই আল্লাহ তায়ালার নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।’ (তিরমিজি)

> رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نَبِيًّا

উচ্চারণ : রাদিতু বিল্লাহি রব্বাও ওয়া বিল ইসলামি দিনাও ওয়া বিমুহাম্মাদিন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাবিয়্যা।’

অর্থ : আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট আমার প্রতিপালক হিসেবে এবং ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার নবি হিসেবে।

> সাইয়িদুল ইস্তিগফার

أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো প্রভু নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই।’

১২. মসজিদ থেকে বের হওয়ার জিকির

নামাজ পড়েই জীবিকার সন্ধানে জমিনে বিচরণের নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ। আর প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষকে উত্তম জীবিকা তালাশে আল্লাহর কাছে দোয়া করে মসজিদ থেকে বের হতে বলেছেন। যাতে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে উত্তম জীবিকা দান করেন। হাদিসে এসেছে-

> اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَسْئَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে উত্তম জীবিকা প্রার্থনা করছি।’

> হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এই জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন-

اللهم أجرني من الشيطان الرجيم

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনাশ শায়ত্বানির রাঝিম।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করুন।’

দ্বিতীয় সময় : ফজরের পর থেকে চাশতের নামাজ পর্যন্ত আমল

১. সুরা ইখলাস ৩ বার পড়া

২. সুরা ফালাক ৩ বার পড়া।

৩. সুরা নাস ৩ বার পড়া।

৪. সুরা ইয়াসিন পড়া।

৫. সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়া।

৬. সুরা তাওবাহর শেষ ২ আয়াত পড়া।

এছাড়াও আরো অনেক মাসনুন তাসহিব-জিকির এবং দোয়া আছে; যেগুলো পড়ে চাশতের নামাজ পর্যন্ত সময় অতিবাহিত করা।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সাধ্যমতো সদা সর্বদা আল্লাহর জিকিরে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। জিকিরের মাধ্যমে নিজের জিহ্বা ও হৃদয়কে আর্দ্র রাখা। বিশেষ করে সকাল বেলা জিকির-আজকারের মাধ্যমে নিজেদের সারাদিনের কর্মস্পৃহা বাড়াতে রুহানি খোরাক ও শক্তি সংগ্রহ করা।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত জিকির ও নিয়মে দিন শুরু করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমর করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের সফলতা দান করুন। আমিন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা