• মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৮

  • || ১৮ সফর ১৪৪৩

যেসব কাজ কোরবানির ১০ দিন আগে করা সুন্নাত

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২১  

ইসলামি বর্ষপঞ্জির ১২ তম মাস জ্বিলহজ। এটি মুসলিমদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা এই মাসে মুসলিমগণ হজ পালন করেন। এ মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত হজ পালনের নির্ধারিত তারিখ। জ্বিলহজ মাসের ১০ তারিখে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ উদযাপন করা হয়।

আগামীকাল অর্থাৎ ১১ জুলাই চাঁদ দেখা গেলে ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই শুরু হবে হজ ও কুরবানির মাস জ্বিলহজ। তাই এই মাস শুরু হওয়ার আগেই কিছু কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। কেননা জ্বিলহজ মাস শুরু হলে কুরবানির আগ পর্যন্ত ১০ দিন কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা প্রিয় নবীর সুন্নাত। হাদিসের বর্ণনা থেকে তা সুস্পষ্ট। 

রাসূলুল্লাহ (সা.)  বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, তারা যেন জ্বিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত নিজ নিজ চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।' (মুসলিম, মিশকাত)

হজরত উম্মে সালমা (রা.) আরও বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন জ্বিলহজ-এর ১০ দিন আসে এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার নিয়ত করে; তখন সে যেন নিজের চুল ও চামড়ার কোনো অংশ না কাটে।’ (মুসলিম)

সুতরাং যারা কোরবানি করার ইচ্ছা পোষণ করে তাদের উচিত, জ্বিলহজ মাস শুরু হওয়ার আগে নিজেদের চুল ও নখ কেটে নেয়া। এগুলো প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাত এবং সাওয়াবের কাজ। হিসাব অনুযায়ী ১০ ও ১১ জুলাই সন্ধ্যার আগে যে কাজগুলো করা জরুরি; তাহলো-

১. মাথার চুল কাটা কিংবা মাথা ন্যাড়া করা।
২. হাত ও পায়ের নখ কাটা।
৩. মোচ ছেঁটে ছোট করে নেয়া।
৪. শরীরের অন্যান্য অযাচিত পশম (নাভি ও বগলের নিচের অযাচিত পশম) কাটা কিংবা পশম বিলুপ্তকারী ওষুধ ব্যবহার করা।

হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বিলকদ মাসের শেষ দিকে উল্লেখিত কাজগুলো সম্পন্ন করা উচিত। যাতে জ্বিলহজ মাসের শুরু থেকে কুরবানির দিন পর্যন্ত চুল, মোচ, হাত ও পায়ের নখ এবং শরীরের অযাচিত লোম কাটার প্রয়োজন না হয়।

এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলারদের মতামত হলো-
১. ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে, জ্বিলহজ মাসের প্রথম দশদিন অর্থাৎ কোরবানির সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত নখ, চুল ইত্যাদি কাটা মাকরূহ বা নিষিদ্ধ নয়, তবে না কাটাই উত্তম।

২. ইমাম শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে, উল্লেখিত কাজগুলো করা নিষিদ্ধ (মাকরূহে তানজিহি) তবে হারাম নয়। তবে ওলামায়ে কেরামগণের মতে কোরবানির পশু জবাইয়ের পর চুল, নখ ইত্যাদি কাটা মুস্তাহাব।

উল্লেখ্য, অনেকেই কোরবানি দাতার জন্য কুরবানির আগে এ কাজগুলো করাকে হারাম বলেছেন। না, তা ঠিক নয়; বরং একান্তই যদি কেউ কোরবানির আগে এ কাজগুলো করে অর্থাৎ চুল, চামড়া বা নখ কাটে; তবে তার জন্য কোনো কাফফারা বা জরিমানা নেই। তবে উল্লেখিত আমলগুলোকে ফোকাহায়ে কেরাম মুস্তাহাব বলেছেন। কেউ এর ব্যতিক্রম করলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তাই জ্বিলকদ মাসের শেষ দিনের মধ্যে নখ ও চুল না কাটলে তা লম্বা হয়ে যেতে পারে। যা সুন্নাতের পরিপন্থী। 

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে জ্বিলহজ মাসের সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রেখে হাদিসের ওপর আমল করতে উল্লেখিত বিধি-নিষেধগেুলোর প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা