শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ || ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৮:২৩, ২৯ জানুয়ারি ২০২৪

জ্বীনের মসজিদ, রয়েছে অসংখ্য রহস্য

জ্বীনের মসজিদ, রয়েছে অসংখ্য রহস্য
সংগৃহীত

রায়পুরের জ্বীনের মসজিদ। মসজিদটির নাম উচ্চারণ করলেই গা শিউরে উঠে অনেকের। না জানি জ্বীনেরা মসজিদে আছে, তারা নামাজ আদায় করছে কিংবা ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল রয়েছে। এমন বাস্তবতা না থাকলেও জ্বীনেরাই মসজিদটি নির্মাণ করেছে বলে কথিত রয়েছে।

এটির আরেক নাম ‘মসজিদ-ই-জামে আব্দুল্লাহ’। প্রায় দেড়শ বছর আগে ৫৭ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হয় এটি। ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৭০ ফুট প্রস্থের মসজিদটি নির্মিত হয়েছে ১৮৮৮ সালে।

বর্তমানে এটি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার দেনায়েতপুর গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। মসজিদটি দেখতে জেলার মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন জেলার মানুষ দেখতে আসেন। আবার কেউ কেউ মানত করে আসেন দুই রাকাত সালাত আদায় করতে।

কথিত এই জ্বীনের মসজিদটিতে বড় আকারে তিনটি গম্বুজ ও চারটি মিনার রয়েছে। এটির উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। যেটি দিল্লির শাহী জামে মসজিদের আদলে বানানো হয়েছে বলে জানান ঐ মসজিদেরই ইমাম মাওলানা লুৎফুর রহমান আবু বকর। তিনি দেখেননি তার বাবা থেকে শুনেছেন। যদিও সঠিক তথ্য কেউ এখনো বলতে পারেনি। জ্বীনের তৈরি করা মসজিদ শুনে শুনে সেই বিশ্বাস থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ দেখতে আসেন।

কথিত রয়েছে, অসংখ্য জ্বীন রাতের অন্ধকারে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন এবং তারা পরবর্তীতে ঐ মসজিদে ইবাদতও করেছে। গভীর রাতে তাদের জিকিরের আওয়াজ ভেসে আসতো কিংবা মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে জ্বীনের টাকায়। এসব কথিত জনশ্রুতির কারণে ১২৮ বছরের নান্দনিক স্থাপনার মসজিদ-ই-জামে আব্দুল্লাহ বর্তমানে জ্বীনের মসজিদ নামে পরিচিত লাভ করেছে।

শুধু তা-ই নয় শত শত জ্বীনেরা দিনের বেলায় ইবাদত করতেন আর রাতের বেলায় মসজিদ নির্মাণ করতেন। ঘটনা সত্য বা মিথ্যা যাই হোক না কেন দর্শনার্থীরা প্রতিদিনই আসেন এখানে। শৈল্পিকভাবে তৈরি মসজিদটি দেখতে সবসময় মানুষ আসেন এবং সালাত আদায় করেন।

বর্তমানে মসজিদের মূল ফটকের সামনেই নতুন করে স্থাপনা তৈরির কারণে চাপা পড়েছে সামনের অংশ, যেটি দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতো। এছাড়া নতুন স্থাপনার কারণে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে মসজিদের ওপরে থাকা তিনটি গম্বুজ। ফলে ইতিহাস এবং ঐতিহ্য রক্ষায় মসজিদের মূল ফটক এবং স্থাপনা বাদ রেখে সংস্কারের দাবি জানান আগত দর্শনার্থীরা।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ভিটার উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট হওয়ায় ১৩ ধাপ সিঁড়ি বেয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। যার দেয়ালের প্রস্থ ৮ ফুট আর সম্মুখের মিনারের উচ্চতা ২৫ ফুট। মসজিদের সামনে রয়েছে বিশাল কুপ। কুপের সঙ্গে রয়েছে আজান দেওয়ার ২০ ফুট উচ্চতার একটি মিম্বর। মসজিদের নিচে রয়েছে গোপন ইবাদতখানা। সেখানে মরহুম মাওলানা আব্দুল্লাহ ইবাদত করতেন।

তবে, স্থানীয়রাসহ মসজিদের জমি দাতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, লক্ষ্মীপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আব্দুল্লাহ (রহ.) ভারতের দেওবন্দে উচ্চশিক্ষা লাভের পর দেশে ফিরে ১৮৮৮ সালে দিল্লির শাহী মসজিদের আদলে মসজিদটি তৈরি করেন। মসজিদের পাশে প্রতিষ্ঠা করেন একটি কওমি মাদরাসা ও মুসাফিরখানা। মসজিদের স্থাপনার এক তৃতীয়াংশ নির্মাণকাজ সম্পন্নের পর তার মৃত্যু হলে পরবর্তীতে ছেলে মাওলানা মাহমুদ উল্যা অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করেন।

মসজিদের বর্তমান ইমাম মাওলানা লুৎফুর রহমান আবু বকর বলেন, আমি ১৪ বছর ধরে ইমামতি করে আসছি। এই মসিজিদে আমার দাদা এবং বাবাও ইমামতি করে গেছেন। তবে এটি জ্বীনের মসজিদ নয়, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আব্দুল্লাহর নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদে ৬টি লাইনে ৮০ থেকে ৮৫ জন করে ৫ শতাধিক মুসলমান শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করে থাকেন। প্রতি জুমায় জেলা শহর ছাড়াও জেলার বাইর থেকে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে আসেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজি আব্দুল খালেক বলেন, প্রাচীন ও নান্দনিক এই স্থাপনাটি জেলার উল্লেখযোগ্য প্রধান স্থাপনার একটি। সরকারি অনুদান না পাওয়ায় জেলার ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদ সংস্কার করা যাচ্ছে না। সংস্কারের অভাবে প্রায় ১৫০ বছর আগের এ স্থাপনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, মসজিদটি আসলে কে নির্মাণ করেছেন, তা এখনো রহস্যঘেরা। তবে এটি জ্বীনের মসজিদ, জ্বীনেরা গভীর রাতে নির্মাণ করেছে, এমন কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত; জনশ্রুতি রয়েছে, তাই মানুষ জ্বীনের মসজিদ মনে করে দেখতে আসেন। এটি সংস্কার হলে লক্ষ্মীপুরে একটি দর্শনীয় স্থান হবে।

সূত্র: ডেইলি-বাংলাদেশ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়