শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ || ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ০৫:০০, ৪ অক্টোবর ২০২৩

গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহি রসমঞ্জুরি যা সবার কাছেই জনপ্রিয়

গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহি রসমঞ্জুরি যা সবার কাছেই জনপ্রিয়

কোন কারিগর প্রথমে এ মিষ্টি তৈরি করেছে তার নাম জানা না গেলেও ঠিক কতদিন আগে ব্যবসায়িকভাবে ১৯৪০ সালে এই মিষ্টির উৎপাদন শুরু হয়। তবে এর সুনাম ও পরিচিতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ১৯৫০ সালের দিকে। রসমঞ্জুরির উদ্ভাবন করেছিলেন গাইবান্ধা শহরের মিষ্টি ভান্ডারের মালিক রাম মোহন দে।

পরবর্তীতে গাইবান্ধা জেলা শহরের সার্কুলার রোডের রমেশ ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারের রমেশচন্দ্র ঘোষ পঞ্চাশের দশকে রসমঞ্জরিকে শুধু নিজ জেলাতেই নয় বরং গোটা দেশের মিষ্টিপ্রিয় রসিকজনদের কাছে পরিচিত এবং সুপ্রিয় করে তোলেন। তারপর আর থেমে নেই এই মিষ্টির বিস্তার। এগিয়েছে সম্মুখে মিষ্টিপ্রিয়দের মন জয় করে। এ কথা সত্য যে রসমঞ্জরির আদি সেই স্বাদের যথেষ্ট ঘাটতি এখানকার মিষ্টিতে রয়েছে। জেলা শহরের গাইবান্ধা মিষ্টান্ন ভান্ডার, রমেশ ঘোষ মিষ্টির দোকান, পুষ্প মিষ্টান্ন ভান্ডার, জলযোগ মিষ্টান্ন ভান্ডার, সন্তোষ মিষ্টান্ন ভান্ডার, কালিবাবুর মিষ্টির দোকান, দেব মিষ্টান্ন ভান্ডার এবং পলাশবাড়ি উপজেলা সদরের শিল্পী হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট ও মিতালি হোটেল, গোবিন্দগঞ্জের মায়ামনি ও বনফুল হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টে ভালমানের রসমঞ্জরি পাওয়া যায়।

প্রতিকেজি রসমঞ্জরি ২শ’ ৫০ টাকা এবং প্রতিপ্লেট ৫০ টাকা ও হাফপ্লেট ২৫ টাকা দরে বেচাকেনা চলে। বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানোর ক্ষেত্রেও নিজস্ব গোলাকার প¬াষ্টিক পাত্রে টেপ দিয়ে এয়ারটাইট প্যাকিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে উন্নতমানের মিষ্টির দোকানগুলোতে।

মিষ্টি ব্যবসায়িদের সুত্রে জানা গেছে, প্রতিকেজি রসমঞ্জরির গড় উৎপাদন ব্যয় পড়ে প্রায় ২শ’ ২৫ টাকা থেকে ২শ’ ৩০ টাকা। তবে দুধ, চিনি, ময়দা, এলাচ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ কারিগরের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এই মিষ্টি তৈরিতে লাভের পরিমাণ সীমিত হয়ে পড়েছে।

রসমঞ্জরি বিক্রেতারা আরও বলেন, খাঁটি দুধ প্রাপ্তি এবং কারিগরের দক্ষতার ওপরই নির্ভর করে রসমঞ্জরির গুণ, মান ও স্বাদ। তবে অধিক লাভের আশায় ছানা ও ক্ষীরে বেশি পরিমাণ আটা, সুজি ও অন্যান্য ভেজাল মিশিয়ে গ্রামগঞ্জে অনেক মিষ্টির দোকানে নিম্নমানের রসমঞ্জরিও আজকাল তৈরি হচ্ছে। যাতে এ জেলার ঐতিহ্যবাহি এই মিষ্টির সুনাম বিঘিœত হচ্ছে বলেও তারা উলে¬খ করেন।

দৈনিক গাইবান্ধা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়