• মঙ্গলবার   ২৮ মার্চ ২০২৩ ||

  • চৈত্র ১৩ ১৪২৯

  • || ০৫ রমজান ১৪৪৪

গোবিন্দগঞ্জে চৌবাচ্চায় রঙিন মাছ চাষ করে ভাগ্য বদল বিপ্লবের

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৩  

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের জিরাই গ্রাম ও পলাশবাড়ি উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাজু মিয়ার পুত্র শেখ আসাদুজ্জামান বিপ্লব চৌবাচ্চায় রঙিন মাছ চাষ করে বেকারত্ব দুর করে স্বাবলম্বী হয়ে তার নিজের ভাগ্য বদলে সক্ষম হয়েছেন।

তার প্রতিষ্ঠিত জিরাই গ্রামে এ্যাকুয়া ফিশ ল্যান্ড নামের এই ফিশারির পুকুরে এখন ১৩ জাতের ৩৬ প্রজাতির আকর্ষনীয় এবং বর্ণালী রঙিন মাছের চাষ হচ্ছে। খামারের উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মাছগুলো হলো- মলি, গাপ্পি, প্লাটি, সোর্ডটেইল, জাপানী কইকার্প, বাটারফ্লাই কইকার্প, গোল্ডফিশ, এঞ্জেল, ফাইটার, জেব্রা দানিয়া, গোড়ামি, কমেট প্রমুখ। জানা গেছে, বিপ্লব এসএসসি পাশ করার পর বাবার সাথে অভিমানে বাড়ি ছেড়েছিলেন। কাজের আশায় ঘুরেছেন বিভিন্ন স্থানে। খেয়ে না খেয়ে কেটেছে জীবনের অনেক দিন-অনেক রাত। সামান্য বেতনে চাকুরী করেছেন পোশাক কারখানায়। কাজ করেছেন বেসরকারি একটি সংস্থায়। কিন্তু মনের মধ্যে লালিত হচ্ছিলো বড় কিছু করার স্বপ্ন, স্বাধীন কোন পেশায়। খুঁজছিলেন নতুন, আলাদা ধরণের কোন ব্যবসার।

সুুযোগ মিলে গেল ২০১৩ সালে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বেড়াতে গিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী শহর বালুরঘাটে দেখতে পেলেন রঙিন মাছের (এ্যাকুয়ারিয়াম ফিশ) একটি খামার। যেখানে উৎপাদন করা রঙিন মাছ বিপণন হয় ভারতের বিভিন্ন এলাকায়। জেনে নিলেন চাষের পদ্ধতি, বাজারজাত করণের নিয়মসহ আনুষঙ্গিক নানা বিষয়। খুব সহজেই বেশ বড় আয়ের এমন একটি উৎস মনে দাগ কেটে গেল তার। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তখনই- শুরু করবেন এই ব্যবসা। সেদিনের স্বপ্নবাজ তরুণ, আজকের সফল উদ্যোক্তা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের বিপ্লবের সফলতার গল্পের শুরু এটি। বিপ্লব জানান, দেশে ফিরে বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটি চৌবাচ্চা বানিয়ে সামান্য কয়েকটি মাছের পোনা কিনে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেন রঙিন মাছের চাষ। দু’বছরে আশাতীত সফলতা এনে দিল তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাস।

চাকুরী ছেড়ে ২০১৫ সালে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাড়ির পাশে দেড় বিঘা জমি লীজ নিয়ে গড়ে তুললেন রঙিন মাছের খামার। যেখানে মাছের ডিম থেকে রেনু ও পোনা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। মাত্র ৫ বছরেই বিপ্লবের এ খামার আয়তনে যেমন বেড়েছে, বৃদ্ধি পেয়েছে এর অর্থনৈতিক ভিত্তিও। ৩৫ হাজার টাকার খামারে এখন মাছই রয়েছে ৩৫ লাখ টাকার বেশি। খামারের ৩৪টি ট্যাঙ্কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা। খামারের মধ্যে টিনের ছোট্ট চালা ঘরে কম্পিউটার, ওয়াইফাইসহ ছোট ছোট নানা প্রকার যন্ত্রের ব্যবহার করা হচ্ছে নিয়মিত। অর্থাৎ ৫ বছরে বিপ্লবের রঙিন মাছের খামারের মূল্য এখন প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।

বিভিন্ন স্তরে মা মাছ পালন, ডিম সংগ্রহ, রেনু উৎপাদন ও পরিচর্যার জন্য বর্তমানে স্বল্পপরিসরে সর্বাধুনিক যান্ত্রিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বিপ্লবের এ খামারে। তার এই রঙিন মাছের খামারটি জিরাই গ্রামের সবার কাছে এখন ‘এ্যাকুয়া ফিশ ল্যান্ড’ পরিচিত।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা