• মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৫ ১৪২৯

  • || ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

একজন নারীর ছোঁয়ায় বদলে গেছে গাইবান্ধা পিটিআই

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২২  

প্রাইমারি টির্সাস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। পিটিআই-এর মূল কাজ হচ্ছে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৮ মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা, যা প্রতিটি শিক্ষকের জন্য বাধ্যতামূলক।

১৯৬৪ সালে গাইবান্ধায় টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আয়তন প্রায় ৬ একর। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একজন সুপারিনটেনডেন্ট প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সামসিয়া আক্তার।

সামসিয়া আক্তার ২০১০ সালে সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে গাইবান্ধায় যোগদান করেন। এর আগে ২০০৬ সালে সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে তিনি নীলফামারীতে যোগদান করে চাকরি জীবন শুরু করেন। চাকরি জীবনে তিনি রংপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে গাইবান্ধায় দুই মাস দায়িত্ব পালন করে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বদলি হয়ে সেখানে আট মাস অবস্থান করেন। পরে ২০১১ সালে সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট থেকে পদোন্নতি পেয়ে সুপারিনটেনডেন্ট হয়ে পিটিআই গাইবান্ধায় চলে আসেন। সেই থেকে অধ্যাবধি তিনি পিটিআই গাইবান্ধায় সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তিনি যোগদানের পর থেকেই তার নিঃস্বার্থ কর্মচাঞ্চল্যে অল্প দিনেই প্রতিষ্ঠানটির প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হতে শুরু করে। শিক্ষক, বিভাগীয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সামসিয়া আক্তার দিনে দিনে প্রশিক্ষণের গুণগত মান এবং পরিবেশগত উন্নতি করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে পিটিআই গাইবান্ধা সারাদেশের রোল মডেলে পরিণত হয়। তার কর্মপ্রেরণার ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে।

২০১৫সালে পিটিআই গাইবান্ধা সারাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি তিনি নিজেও ২০১৪ সালে দেশ সেরা সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে মর্যাদা লাভ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার পান।

পরবর্তীতে সামসিয়া আক্তার পিটিআই গাইবান্ধার পরিবেশতগত ব্যাপক উন্নয়ন ঘটান। চারদিকে দিকে বাউন্ডারি ওয়াল দ্বারা বেস্টিত এই প্রতিষ্ঠানে তার নিদের্শনায় ভেতরের চারপাশ দিয়ে শোভাবর্ধনকারী গাছ ও রাস্তার দুইপাশে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ লাগানো হয়। পাশাপাশি পুকুর পাড়ে অভিভাবকদের জন্য বসার সু-ব্যবস্থাসহ আধুনিক ছাউনি নির্মাণ করা হয়। শিশুদের জন্য আধুনিক শিশুপার্ক।

এছাড়াও পুরো পিটিআইকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসেন। আধুনিক ডিজিটাল ক্লাসরুমে শিক্ষকদের ক্লাস নিশ্চিতকরাসহ একাডেমিক ভবনে মুজিব কর্নার, মুক্তিযোদ্ধা কর্নারসহ শেখ রাসেল রিডিং কর্নার তৈরি করেন তিনি।

প্রায় বিশ বিঘা আয়তনের এই প্রতিষ্ঠানে একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি বিশাল খেলার মাঠ, প্রাইমারি স্কুল, শিক্ষকদের আবাসিক ভবন ও সুপার কোয়াটার ছাড়াও একটি মসজিদ রয়েছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির তার ছোঁয়ায় সুনাম ও সুখ্যাতির সাথে পরিচালিত হচ্ছে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা