• মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৫ ১৪২৯

  • || ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

গাইবান্ধার ২৩ কেন্দ্রে ২য়ধাপে নিয়োগ পরীক্ষা দিলেন ৪,৫৮০ জন

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২১ মে ২০২২  

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সারা দেশে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তিন ধাপে নেওয়া হচ্ছে। যার দ্বিতীয় ধাপে ৩০ জেলায় শুক্রবার (২০ মে) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ধাপে শুক্রবার গাইবান্ধার চার উপজেলাসহ ৩০টি জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয়। এরমধ্যে ৮টি জেলার সব উপজেলা এবং ২২টি জেলার কয়েকটি উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭২৫ জন পরীক্ষার্থী ৬৫৩ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। এরমধ্যে গাইবান্ধার চার উপজেলার ৪ হাজার ৫৮০ জন পরীক্ষার্থী জেলা শহরের ২৩ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে একযোগে জেলা শহরে আসার ফলে সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের ২৩টি কেন্দ্র ও এর আশেপাশে পরীক্ষার্থী এবং তাদের সাথে আসা স্বজনদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। তবে সকালে বৃষ্টির কারনে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌছাতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এদিকে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি কেন্দ্র রাখা হয় মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে। বাড়ানো হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর নজরদারি।

এরআগে নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়ে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। কেউ অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখালে তাকে নিকটস্থ থানায় সোপর্দ করুন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষাকে সামনে রেখে বিগত সময় প্রশ্ন ফাঁস, জালিয়াতি, আধিপত্য বিস্তার, কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় এবার সতর্ক অবস্থানে ছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, প্রথম ধাপে গত ২২ এপ্রিল (শুক্রবার) দেশের ২২ জেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ১৪টি জেলার সব উপজেলা এবং ৮টি জেলার কয়েকটি উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৬৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪০ হাজার ৮৬২ জন। উত্তীর্ণ এই প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময় পরবর্তীকালে জানানো হবে। তৃতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ জুন।

তিন ধাপে পরীক্ষা নেওয়া শেষে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের আগামী জুলাইয়ের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর অনলাইনে আবেদন শুরু হয়। আবেদন করেছেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ প্রার্থী। সে হিসাবে ১টি পদের জন্য প্রতিযোগিতা হচ্ছে ২৯ প্রার্থীর মধ্যে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা