• মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২০ ১৪২৯

  • || ০৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামী পলাশবাড়ী বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক!

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২২  

পলাশবাড়ীতে আওয়ামী লীগ বিএনপি’র কাউন্সিল অনুষ্ঠিত। দুই প্রধান দলের নবগঠিত কমিটির গুনগত মানের ফারাক আকাশ—পাতাল। সরকারি দলের সভাপতি পদ পেয়েছেন একজন উপাধ্যক্ষ, সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন একজন প্রভাষক,বিএনপি থানা কমিটিতে সভাপতি পদে স্থান পেয়েছেন ট্রাক ডাকাতি মামলার আসামী আর সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন হত্যা মামলার আসামী ।

তথ্যানুসন্ধানে জানাযায় গত ১৩ই মার্চ পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা গিনি, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখায়াত হোসেন শফিক সহ প্রায় ডজন খানেক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী দিনে আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত সহ জনকল্যানে কাজ করার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশবাড়ী মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম লিপনকে সভাপতি এবং মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মন্ডলকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ত্রিবার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়।

অপরদিকে গত ১৮ মার্চ উপজেলা থেকে কমপক্ষে ১০ কিঃ মিঃ দুরে হাসবাড়ী হাইস্কুল মাঠে এক জনাকীর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপি’র কাউন্সিল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সহ মাত্র দুজন কেন্দ্রীয় নেতা। অভিযোগে জানা যায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহ আলম সরকার সদর এলাকার সদস্য আছে এ রকম অজুহাত দেখিয়ে তাকে মনোনয়ন পত্র না দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ডাকাতি অস্ত্র মামলার অন্যতম আসামি আব্দুস সামাদ মারোকে সভাপতি ঘোষনা করা হয়। এবং হোসেনপুর ইউনিয়নের বাদশা মেম্বর হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী আবু আলা মওদুদ কে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত ঘোষনা করে জেলা কমিটি।বিতর্কিত এই দুই নেতাকে নিয়ে বিএনপির মাঝে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

প্রকাশ থাকে যে ডাকাতি ও খুনের মামলায় চার্জসীটভুক্ত আসামীদ্বয় জেলা বিএনপির সভাপতি ডাঃ ময়নুল হাসান সাদিক সাহেবের অতীব পছন্দের ব্যাক্তি।

উল্লেখ্য থানা সূত্রে প্রাপ্ত এজাহার ও চার্জসীট থেকে জানাযায় গত ৩১/১২/২০০৪ সালের দিবাগত রাতে শিবগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী চাউলের আড়ৎ হতে ১৭১ বস্তা চাউল বোঝাই ট্রাক পাবনার শাহাজাদপুরের উদ্দেশ্যে যাবারকালে মিঠাপুকুর থানার শাল্টি গোপালপুর নামক এলাকায় ২০/২৫ জনের একটি ডাকাত দল রাস্তায় বেরিকেড সৃষ্টি করে ড্রাইভার হেলপারকে মারধর ও অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাউল ভর্তি ট্রাকে ডাকাতি করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর থানার আঃ সামাদ মারো সহ .....জনকে আসামী করে ৩৯৫/৩৯৭ দঃ বিঃ ডাকাতি সংঘটনের একটি মামলা রুজু করা হয় যার নং ০১/০১ তারিখঃ ০১/০১/২০০৫ যাহার পরবর্তী জি.আর নং—০১/২০০৫। মামলা রুজুর পরের দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উলে­খিত আসামীদের কোমরপুরের বাসাবাড়ী গুদাম হতে ডাকাতি করা কমপক্ষে ৩ লক্ষ টাকা মুল্যের চাউল জব্দ করে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে পলাশবাড়ীর মেরীরহাটে জুয়ার বোর্ডের টাকা ভাগাভাগি ও কর্তৃত্ব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বে হোসেনপুর ইউনিয়ন পরিষদের বাদশা মেম্বরকে গলাটিপে স্বাসরোধ করে হত্যাকান্ডের তদন্তে আবু আলা মওদুদ কে প্রধান আসামী করে হত্যা কান্ডের চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয় যার মামলা নং জিআর ৪৫৪/১৯৯৭। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী শহিদুল ইসলাম রাজা বলেন কাউন্সিলে ভোটার তালিকা প্রনয়নের সময় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদক অনেকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তভুক্ত করা হয় নি। উল্টো জামায়াতের অনেকের নাম বিএনপির তালিকায় অন্তভূক্ত করা হয়েছে।এ ব্যাপারে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি মইনুল হাসান সাদিক সাহেবের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি কোন ফলাফল পাননি।

সাবেক সভাপতি শাহ আলম সরকার বলেন কাউন্সিলের নামে শুভংকরের ফাকি দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করে ও ফোন রিসিভ না করায় জেলা বিএনপির সভাপতি ডাঃ মইনুল হাসান সাদিক সাহেবের মতামত পাওয়া যায় নি।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা