• শনিবার   ২১ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৯

  • || ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

ভুট্টায় সবুজ গাইবান্ধার চরাঞ্চল, পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২২  

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বেলেরচরে রফিকুল ইসলামের জমিতে একসময় তাঁর দাদা ফলাতেন কাউন। বাবা গম আর এখন রফিকুল ফলাচ্ছেন ভুট্টা। জলবায়ু পরিবর্তন আর সময়ের সঙ্গে জমিতে বদলেছে ফসলের চাষাবাদ। গম ও কাউনের ফলন কমে গেছে। এখন তাই রফিকুলের মতো গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকেরা ঝুঁকেছেন ভুট্টা চাষে। চাহিদার আধিক্য, স্বল্প ব্যয়ে বেশি ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন তাঁরা। ভুট্টা চাষে অনেক কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তাদের কাছে ভুট্টা এখন যেন ‘সোনার ফসল’।

নদ-নদীবেষ্টিতে উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় রয়েছে ১৬৫ চর-দ্বীপচর। সদরসহ জেলার চার উপজেলায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার বুকে এসব চর-দ্বীপচরে ৫ লক্ষাধিক মানুষের বাস। মুলত: কৃষির সাথে যুক্ত এসব মানুষকে প্রতিবছরই বন্যার সঙ্গে লড়তে হয়। তখন বসতভিটা ছেড়ে অনেককেই চলে যেতে হয় অন্য জায়গায়। পানি নেমে যাওয়ার পর শুরু হয় ধীরে ধীরে আবাদ। বন্যার কারণে সাধারণত বছরে দুই ফসলের বেশি আবাদের সুযোগ পায় না এসব চরাঞ্চলের মানুষ। চরের জমিতে নানা ফসলের আবাদ করে থাকেন তারা। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি চাষ হয় ভূট্টার। চরাঞ্চলের চাষিরা এখন ভুট্টা চাষে দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্নের এই ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন তারা।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর গাইবান্ধায় আবহাওয়া ভাল ও রোগবালাই কম থাকায় ফলনও ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদ-নদীবিধৌত গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মাটি ভুট্টাচাষের জন্য উপযোগী। ফলনও ভালো। এ বছর গাইবান্ধা জেলায় ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ষোল হাজার ৬৬০ হেক্টর ধরা হলেও এখন পর্যন্ত পনের হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চর রসুলপুর, বেলেরচর, চর কুচখালি, গুপ্তমনির চরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে দেখা গেছে ফসলের মাঠে শুধু সবুজের সমারহ। মাঠজুড়ে সারি সারি গাছগুলো বেড়ে উঠছে। দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। চাষিরা ভুট্টা রোপণের পর বেড়ে ওঠা গাছ ও খেতের পরিচর্যা করছেন। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।

ফুলছড়ির বেলেরচরের চাষি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে খরচ কম হওয়ায় জমিতে ভুট্টা চাষ করি। এতে বেশি লাভবান হওয়া যায়। আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করলে ১৫ থেকে ২০ মণ ধান হয়। অন্যদিকে এক বিঘা জমিতে ভুট্টা হয় ৩০ থেকে ৩৫ মণ। ভুট্টা চাষে সেচ কম লাগে, সারের ব্যবহারও কম। আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের মতো এবারও ভুট্টার বেশি ফলন হবে।

কৃষিবিদ সাদেকুল ইসলাম জানান, প্রাণিখাদ্য তৈরির বড় অংশই আসে ভুট্টা থেকে। মাছ, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির উৎপাদন বাড়ায় ভুট্টার চাহিদাও থাকে সারাবছর। মুরগির খাদ্য তৈরিতে ৫৫ শতাংশ ভুট্টার দরকার হয়। এ হার গবাদিপশুর খাদ্যে ৩০ শতাংশ এবং মাছের ক্ষেত্রে ১২-১৫ শতাংশ। এ তিন খাতে বছরে ৪৫ লাখ টন ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। এদিকে মানুষের খাওয়ার উপযোগী মিষ্টি ভুট্টার চাহিদাও বাড়ছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে উঠেছে ভুট্টার চাষ।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এবার গাইবান্ধার চরাঞ্চলে প্রচুর ভুট্টা আবাদ হচ্ছে। কৃষকদের পাশাপাশি আমরাও এতে খুব খুশি। কৃষকদের জন্য এবার প্রণোদনা ছিল। সরকার থেকে তাদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে। তা ছাড়া কৃষক যখন যে পরামর্শ চাচ্ছে তা দেওয়া হচ্ছে।’

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা