• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

  • || ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

গাইবান্ধায় মানুষের ঘুম হারাম করে দেওয়া সেই অচেনা প্রাণীটি শনাক্ত

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২১  

গেল বেশ কয়েকদিন ধরেই বার বার শিরোনামে আসছিল বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার নাম। বিশেষ করে একেবারে অচেনা একটি প্রাণীর আক্রমনের শিকার হচ্ছিল জেলার অনেক মানুষেরা।

আর এই কারনে ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল গাইবান্ধার মানুষের। তবে শেষ-মেষ রক্ষা পেল গ্রামবাসী।

জানা গেছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর সেই অচেনা প্রাণীটি ‘শিয়াল’ বলে চিহ্নিত করেছে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। তারা মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত আক্রান্তদের গ্রাম ঘুরে দেখেন, আক্রান্ত লোকজনের বর্ণনা শোনেন।

এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে প্রাণীটি শনাক্তের জন্য ঢাকা থেকে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ তিন সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে হাজির হয়। বিশেষজ্ঞ দলে ছিলেন- মো. কামরুদ্দীন রাশেদ, মাহাবুব-ই-খোদা জুয়েল ও গাজী সাইফুল তারিক।

এ দলের সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পাঁচ কর্মকর্তারা।

তারা হলেন- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রাহাত হোসেন, বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির, ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার মোহাম্মদ হেলিম রায়হান, জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট সোহেল রানা ও বন প্রহরী লালন উদ্দিন।

দল দুটিকে সহায়তা করে পরিবেশবাদী সংগঠন তীর। এ সংগঠনের গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. জিসান মাহমুদ বলেন, ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল গত দুইদিন এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।

তারা প্রাণীটির পায়ের ছাপসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। তাদের বিশ্লেষণ মতে- এটি কোনো অপরিচিত প্রাণী নয়, এটি শেয়াল।

দেড়মাস আগে পলাশবাড়ী উপজেলার ছয়টি গ্রামে অচেনা এ প্রাণীর আক্রমণ শুরু হয়। গ্রামগুলো হচ্ছে- তালুক কেঁওয়াবাড়ি, হরিণাথপুর, কিশামত কেঁওয়াবাড়ি, খামার বালুয়া, দুলালেরভিটা ও তালুকজামিরা।

এ দিকে এই অচেনা প্রাণীটির আক্রমণে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন অনেক মানুষ। স্থানীয়দের মারফতে জানা গেছে এ প্রাণীর আক্রমণে হরিনাথপুর গ্রামে ফেরদৌস সরকার নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা