• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

  • || ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

গাইবান্ধায় আগাম শীতকালিন সবজি চাষে ব্যস্ত চাষিরা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২১  

শীত আসন্ন তাই গাইবান্ধা জেলাজুড়ে চলছে শীতকালিন শাক-সবজির চাষ-আবাদ। ক্ষেতে ক্ষেতে নতুন ফসল লাগানো ও পরিচর্যার কাজেব ব্যস্ত কৃষক। তারা বলছেন, আগাম শীতকালিন সবজি চাষে বাড়তি পরিচর্যায় ব্যয় বেশি হলেও বাজার দর ভালো পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হন চাষিরা।

আশি^নের সকালের হালকা কুয়াশা মনে করিয়ে দেয় শীতের আগমনী বার্তা। এরইমধ্যে জেলার গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর, সাঘাটা, ফুলছড়িসহ সাতটি উপজেলায় শুরু হয়েছে শীতকালিন সবজি চাষ-আবাদ। শীতের শুরুতেই আগাম ফসল উৎপাদনে ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। অনুকুল আবহাওয়া আর সেই সাথে উৎপাদিত সবজির বাজার দর ভালো পেলে শীতকালিন ফসল আবাদে লাভবান হবেন চাষীরা।

শুধু নিজেদের চাহিদাই নয়, বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এসব সবজি। সবুজে সবুজে ভরে উঠছে মাঠ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি শিম গাছ, শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, বেগুন, মুলা, পালং ও লালশাকসহ হরেক রকমের শীতকালীন সবজির চারা।

মাঠে মাঠে এসব ফসল পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত কৃষকরা। কাক ডাকা ভোরে কোদাল, নিড়ানি, বালতি, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন তারা। জমিতে নেমে পড়ছেন সবজি পরিচর্যায়। বিকেল অবধি মাঠে থেকে চারার গোড়ায় পানি ঢেলে সবাই বাড়ি ফিরছেন। তাদের কেউ দাঁড়িয়ে কোদাল চালাচ্ছেন, অনেকেই গাছের গোড়ালির পাশ দিয়ে ঘোরাচ্ছেন নিড়ানি। কেউবা খালি হাতেই গাছগুলো ঠিক করছেন। কেউ আবার নেতিয়ে পড়া চারার স্থলে সতেজ চারা প্রতিস্থাপন করছেন। এভাবে শীতকালীন সবজি নিয়ে চলছে কৃষকের কর্মযজ্ঞ। বেড়েই চলছে কৃষকদের কাজের চাপ। ধান চাষে তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না অনেক কৃষক। কোনোভাবেই লোকসান ঠেকাতে পারছেন না তারা। তাই আগাম শীতকালিন সবজি চাষে ঝুঁঁকে পড়েছেন জেলার অনেক কৃষক।

সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলকভাবে মূলধনও কম লাগে। পরিশ্রমও তুলনামূলক কম। তবে সেবায় ত্রুটি করা যাবে না। কিন্তু রোগবালাই দমনে সবজিতে কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করতে হয়। স্বল্প সময়েই সবজি বিক্রি উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রায় দিনই বাজারে সবজি বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদাও মেটানো সম্ভব হয়। এতে সবজি থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের হাতে কম-বেশি টাকা থাকে। যা অন্য ফসলের বেলায় সম্ভব নয়। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো। সব মিলিয়ে সবজি চাষকেই এসব কৃষক লাভজনক মনে করছেন।

ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের সবজি চাষী মোকারম হোসেন লালশাক, পুইশাক, পালংশাক, ঢেঁরশ, মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, মিষ্টি কুমরা, বরবটি আবাদে এখন ভীষন ব্যস্ত। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আগাম শীতকালিন সবজির বাজার দর ভালো পাওয়ায় এ আবাদে লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে যে সব উৎপাদিত শীতকালিন সবজি বাজারে আসছে তার ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তিনি।

 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, শীতকালিন সবজি চাষের উচ্চ ফলনশীল নতুন নতুন জাত আসায় এ আবাদে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। শীতকালিন সবজি চাষ পদ্ধতি, ভালো জাত ও রোগ বালাইসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ সহায়তা দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসমে জেলায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালিন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদিত সবজি জেলার সবজি চাহিদা মিটিয়ে উৎবৃত্ত সবজি ঢাকাসহ দেশের অন্য জেলাতে সরবরাহ করা হবে। কৃষি বিভাগের লোকজনের নিয়মিত মনিটরিংয়ে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ায় কৃষকদের মুনাফাও বেড়েছে কয়েকগুণ।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা