• মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৮

  • || ১৮ সফর ১৪৪৩

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে লাল টকটকে শুকনো মরিচে দৃষ্টি নন্দন মরিচ হাট

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২১  

গাইবান্ধা জেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে মরিচ চাষে বিপ্লব ঘটে গেছে। ফুলছড়িতে মরিচ চাষ বেশি হবার কারণে এটি জেলার একমাত্র মরিচের হাট। এতে করে গজারিয়া ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র সংলগ্ন হাটে নৌকাযোগে বিভিন্ন চর থেকে আসে প্রচুর মরিচ। ‘ফুলছড়ি মরিচ হাট’ নামে পরিচিত এই হাট এখন শুকনো মরিচের আমদানীতে টক টকে লাল মরিচে দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠেছে।

জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রখর রোদে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের ধারে মরিচ হাটে সারি সারি রয়েছে টকটকে শুকনা মরিচের বস্তা। কিন্ত তাদের মুখে নেই হাসি। চোখে মুখে হতাশার ছাপ। দীর্ঘ ছয় মাস অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল ঘরে তুলে তাদের মন ভার। কারণ একটাই, এবছর মরিচের দাম কম।

দাম না পেয়ে এখন মাথায় হাত গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলের চাষিরদের।

হাটে গিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর এর গাবগাছী, টেংরাকান্দি, মোল্লারচর, খোলাবাড়ি সহ ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল এবং জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জের বকসীগঞ্জ এর কয়েকটি চর থেকে কৃষক ও পাইকাররা মরিচ বিক্রি করতে আসেন গাইবান্ধার জেলার ফুলছড়ি উপজেলার একমাত্র এই মরিচ হাটে। আর বগুড়া জেলা থেকে মরিচ কিনতে আসেন ব্যাপারীরা। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার দুদিন সকাল সাতটা থেকে বসে হাট। প্রতি হাটে দুই হাজার মনের বেশি শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান হাট ইজারাদার এর সহযোগী মকবুল হোসেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে- এবছর গাইবান্ধা জেলার ৭ উপজেলায় ১হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে মোট উৎপাদন হয়েছে ৪হাজার ৪শ ৩৩ মেট্রিক টন শুকনা মরিচ। বিভাগের হিসাবে জেলায় মোট ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির মধ্যে ফুলছড়ির চরেই মরিচ চাষ হয়েছে ৮০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৮৫ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১শ৪০ হেক্টর, পলাশবাড়ীতে ৬০ হেক্টর, গোবিন্দগঞ্জে ২শ২০ হেক্টর, সুন্দরগঞ্জে ১শ৫০ হেক্টর, ফুলছড়িতে ৮শ৫০ হেক্টর ও সাঘাটায় ১শ৯৫ হেক্টর জমি মরিচ চাষ হয়েছে।

হাইব্রিড, বগুড়ার জাত ও স্থানীয় জাতের মরিচ চাষ করেছেন কৃষকরা। উপজেলার খাটিয়ামাড়ী চরের কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, বিঘা প্রতি কাঁচামরিচ উৎপাদনের খরচ পড়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ৫০ মনের বেশি মরিচ উৎপন্ন হয়।

৫০ মন কাঁচামরিচ পাকার পর তা শুকিয়ে ১০ মন শুকনা মরিচ পাওয়া যায়। মরিচ শুকানো,পরিবহণ এবং বাজারজাত খরচ যুক্ত করে মন প্রতি ব্যয় যা হচ্ছে তাতে খুব সামান্য লাভ টিকছে বলে জানান তিনি। গতবছর যেখানে শুকনা মরিচ ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা মনদরে বিক্রি হয়েছে এবার সেদাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এবার মানভেদে মরিচের মন চার হাজার টাকা থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মরিচ বিক্রেতারা জানান, এই হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসেন হাজার খানেক কৃষক ও বগুড়ার প্রায় পঞ্চাশ জন ব্যাপারী আসেন মরিচ কিনতে। মরিচহাট বগুড়ার ব্যাপারীদের একচেটিয়া দখলে থাকায় তারাই দাম নির্ধারণ করেন।

বগুড়া থেকে মরিচ কিনতে আসা ব্যাপারী বলেন, করোনার কারণে ঢাকার গুড়া মসলা উৎপাদনকারী কোম্পানীগুলো যেমন কম মরিচ কিনছে তেমনি দামে কম পড়ছে। এবার মরিচের মানও ভালো না। তাই দাম কিছুটা কম।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় যে পরিমাণ মরিচের চাষ হয় তার অর্ধেকই উৎপন্ন হয় ফুলছড়ি উপজেলায়। দিন দিন মরিচ চাষের পরিমাণ এখানে বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শসহ সবধরণের সহায়তা দেয়া হয়েছে।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা