• বুধবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৬ ১৪২৮

  • || ১৩ সফর ১৪৪৩

কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডারসহ নিহত ৩

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২১  

 

 

 

 

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সন্দেহভাজন তিন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এদের মধ্যে সংগঠনটির শীর্ষ কমান্ডার আইজাজ ওরফে আবু হুরায়রাও রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

বুধবার ভোরে কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

এক বিবৃতিতে কাশ্মীর পুলিশের আইজি বিজয় কুমার বলেন, পুলওয়ামায় লস্কর-ই-তৈয়বার আস্তানা রয়েছে এমন খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুঁড়ে সন্ত্রাসীরা। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে নিহত হয় লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডার আবু হুরায়রাসহ আরও দুই সদস্য।

এ নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে গত ছয় মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৫৩ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে আরও ১১০ জন।

বিবৃতিতে বিজয় কুমার আরও বলেন, নিহত আবু হুরায়রার নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকা পুলওয়ামায় বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিল শীর্ষ এ কমান্ডার।

আগামী ১৫ আগস্ট ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈয়বার নাশকতার পরিকল্পনা ছিল বলেও দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

বুধবার ভোরের এ ঘটনার পর থেকে সীমান্ত শহর পুলওয়ামায় কারফিউ জারি রয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট সেবা।

এছাড়া গত আট জুলাই ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে তিনটি আলাদা বন্দুকযুদ্ধে দুই ভারতীয় সেনাসহ ৮ জন নিহত হয়েছে।

ভারতের দাবি, নিহত অন্য ছয় জন সন্ত্রাসী। সবচেয়ে বড় সংঘাতটি হয় লাইন অব কন্ট্রোলের কাছে। সেখানে বন্দুকযুদ্ধে দুই সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ও দুই ভারতীয় সেনা নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ২টি একে ৪৭ বন্দুক।

দক্ষিণ কাশ্মীরে পুলওয়ামা ও কুলগামে আরও দুটি অভিযানে ৪ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। ভারতীয় পুলিশ বলছে, কুলগামে যে দুজন নিহত হয় তারা জাতীয় মহাসড়কে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে শুরু হয় সংঘর্ষ। নিহত ৪ সন্ত্রাসীর নাম শাহবাজ আহমেদ শাহ, নাসির আইয়ুব পণ্ডিত, কিফায়াত সোফি ও ইনায়েত আহমেদ। এদের মধ্যে শাহবাজ জইশ ই-মোহাম্মদের সদস্য আর বাকিরা লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য।

এর আগে গত ২ জুলাই ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার রাজপোড়া অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাকামী যোদ্ধাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্যারামিলিটারি বাহিনীর সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বিচ্ছিন্নতাকামী এবং একজন ভারতীয় সেনা।

ভারতের দাবি, নিহত হওয়া বিচ্ছিন্নতাকামী পাঁচজন পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়্যবার সদস্য। এর আগে গত ১ জুলাই রাতে রাজপোড়া এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। এ অভিযানে নিহত হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সদস্য ও পাঁচ সশস্ত্র যোদ্ধা।

এদিকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ৩০ জুন উপত্যকার কুলগ্রাম বনাঞ্চলে সেনাদের হামলায় সন্দেহভাজন তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ১ জুলাই দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৬১ জঙ্গি নিহত হয়।

এর আগে গত ২৪ জুন দিল্লিতে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠক করেন উপত্যকার নেতারা। সেখানে কাশ্মীরকে ফের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কাশ্মীরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের প্রায় দুই বছর পর এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

২০১৯ সালের আগস্টে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। ফলে কাশ্মীর এতদিন যে বিশেষ অধিকার পেত তা খারিজ হয়ে যায়। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যটিকে ভেঙে দুইটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। এর একটি হলো লাদাখ এবং অপরটি জম্মু-কাশ্মীর। অঞ্চলটির সার্বিক উন্নয়নের জন্যই ভারত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানায় নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা