• বুধবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৬ ১৪২৮

  • || ১৩ সফর ১৪৪৩

গরুর মাংস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

দৈনিক গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২১  

সামনেই কোরবানির ঈদ। এই ঈদে প্রত্যেক বাড়িতেই গরুর মাংস থাকে। দেখা যায় টানা বেশ কয়েকদিন সব বাড়িতেই গরুর মাংস রান্না হয়। তাই খাওয়াও হয় বেশি। গরুর মাংস পরিমিত পরিমাণে সঠিকভাবে খেলে এর থেকে যে পরিমাণ পুষ্টি পাওয়া যায় তার সমপরিমাণ পুষ্টি অন্য কিছু থেকে পাওয়া কঠিন। তবে সঠিক পরিমাণ ও নিয়মে না খেলে মারাত্মক কিছু ক্ষতিও হতে পারে।

তাই ঈদে গরুর মাংস খাওয়ার পূর্বে এর উপকারিতা, অপকারিতা ও খাওয়ার পরিমাণ সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক-  

উপকারিতা

>> আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি পুষ্টি উপাদান আছে গরুর মাংসে। এগুলো হলো প্রোটিন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, নায়াসিন, ভিটামিন বি৬, আয়রন এবং রিবোফ্লেভিন।

>> গরুর মাংস শুধু শারীরিক বর্ধন নয়, বুদ্ধি-বৃত্তিক গঠন এবং রক্ত বর্ধনেও এটি ভূমিকা রাখে। ৩ আউন্স গরুর মাংসে আছে ৯-১৩ বছর বয়সী বাচ্চার দৈনিক চাহিদার ১২৫ শতাংশ ভিটামিন বি১২, ৯০ শতাংশ প্রোটিন, ৭৪ শতাংশ জিঙ্ক, ৪২ শতাংশ সেলেনিয়াম, ৩২ শতাংশ ভিটামিন বি৬, ৩২ শতাংশ আয়রন, ২৯ শতাংশ নায়াসিন, ২৩ শতাংশ রিবোফ্লেভিন এবং ১৬ শতাংশ ফসফরাস।

>> গরুর মাংস খনিজ লবণের চমৎকার উৎস। এতে রয়েছে জিংক, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং বিপুল পরিমাণ লৌহ। গরুর মাংস গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনেরও উৎস। ভিটামিন বি-৩, বি-৬, বি-১২ প্রভৃতি ভিটামিনের সরবরাহ পেতে পারেন গরুর মাংস থেকে।

>> মাংস ছাড়াও হাড়, কলিজা, মগজ ইত্যাদি থেকেও প্রোটিন চলে আসে। গরুর মাংসের প্রোটিন থেকে যে অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়, তা হাড় ও মাংসপেশির কাজে অনেক সাহায্য করে থাকে। ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে ২২.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

>> জিংক আমাদের শরীরের কোষ রক্ষণাবেক্ষণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে থাকে। বলা হয় ৩ আউন্স পরিমাণ গরুর মাংস দৈনিক জিংকের ৩৯ শতাংশ পূরণ করে থাকে।

অপকারিতা

>> অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা থেকে পরবর্তীকালে আরো অনেক রোগের সূত্রপাত হয়।

>> সপ্তাহে যারা পাঁচ বেলা গরু, খাসি কিংবা ভেড়ার মাংস খান, তাদের কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

>> যারা নিয়মিত লাল মাংস খান তাদের মধ্যে ধূমপান, মদ্যপানসহ নানা বদভ্যাস গড়ে ওঠে। এতে বেড়ে যায় হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি।

>> গরুর মাংসের অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টিতে বা বাড়াতে সোডিয়াম সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

>> যারা নিয়মিত লাল মাংস খান তাদের কোলন ক্যান্সার হওয়ার হার শতকরা ১২ ভাগ বেশি। অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত লাল মাংসে মৃত্যু ঝুঁকি তার চেয়েও বেশি।

>> অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে তা থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া বেশি পরিমাণে গরুর মাংস খাওয়ার কারণে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।

দৈনিক কতটুকু গরুর মাংস খাওয়া যায়

গরুর মাংসের দৈনিক নিরাপদ মাত্রা হলো ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম।

দৈনিক গাইবান্ধা
দৈনিক গাইবান্ধা