শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ || ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৩:৩৪, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩

বাড়ির ছাদে মুক্তা চাষে সফল উদ্যোক্তা আবদুর রহমান

বাড়ির ছাদে মুক্তা চাষে সফল উদ্যোক্তা আবদুর রহমান
সংগৃহীত

যশোরের অভয়নগর উপজেলার এক্তারপুর গ্রামে বাড়ির ছাদে মুক্তা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কলেজ পড়ুয়া ছাত্র আব্দুর রহমান। উপজেলার এক্তারপুর গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আব্দুর রহমান। পিতা কবির হোসেন মিল শ্রমিক হিসেবে কাজ করে অভাব অনটনের সংসার পরিচালনা করতেন।

জানা যায়, ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় সবাই যখন ঘরবন্দি ছিল ঠিক তখন শ্রমিক বাবাকে সংসারে সহযোগিতার জন্য কিছু একটা করার পরিকল্পনা করেন ছাত্র আব্দুর রহমান। সে তখন রাজঘাট জাফরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ইউটিউবে মুক্তা চাষের ভিডিও দেখে উৎসাহিত হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার মুক্তা চাষের খামার পরিদর্শন ও খামারিদের পরামর্শে বাড়ির পুকুরে অল্প কিছু মুক্তা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করে। ফলাফল ভালো হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বাড়ির ছাদে পানির হাউজ করে প্রথমে ৫০০ ঝিনুক দিয়ে মুক্তা চাষ শুরু করেন। আর তাতেই আসে অভাবনীয় সফলতা। 

অভাব অনটনের সংসারে জেগে ওঠে আশার আলো। এরপর ঝিনুকের (মুক্তা) সঙ্গে রঙিন মাছের চাষ শুরু করেন তিনি। রঙিন মাছের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তা চাষ করে বেকারত্ব দূর করে রীতিমতো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আব্দুর রহমান জানান, নতুন কিছু করার তাড়না থেকে ইউটিউব দেখে মুক্তা ও রঙিন মাছ চাষ শুরু করেছিলাম। এখন আমি দেশের নামকরা বেশকিছু  প্রতিষ্ঠানে গোল ও ডিজাইন মুক্তা সাপ্লাই করে থাকি। এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উৎসুক বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। তিনি আরও বলেন, সরকারি ভাবে কোনো আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা পেলে মুক্তা ও রঙিন মাছের খামার আরও প্রশস্ত করতে পারবো। এতে করে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে। এবং উৎপাদনকৃত মুক্তা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিপূর্বে আমি বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। 

আব্দুর রহমানের বাবা কবির হোসেন জানান, ছেলের ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডে প্রথম থেকে সহযোগিতা করেছি, এখন আলহামদুলিল্লাহ তার সুফল ভোগ করছি। বাড়ির ছাদে রঙিন মাছের সঙ্গে কীভাবে মুক্তা চাষ হয় সে বিষয়টি দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ছুটে আসেন। 
খুলনা দৌলতপুর থেকে প্রজেক্ট দেখতে আসা আমিনুর রহমান বলেন, বেকার যুবকরা এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভয়নগর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ জানান, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোক্তাদের এমন নতুন নতুন উদ্ভাবনী আমরা প্রত্যাশা করি। উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে আমরা তার পাশে থেকে তাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করে যাব। এবং এ ধরনের কার্যক্রমে আমরা পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবো।

সূত্র: মানবজমিন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়